|
টিপাইমুখ নিয়ে উদ্বিগ্ন সিলেট
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
ভারতের প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধের প্রথম আঘাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ওপর পড়বে বলেই আশংকা করছেন সেখানকার
জনগণ৻
তাদের কাছে এখনও বৈজ্ঞানিক তথ্যের অভাব রয়েছে, কিন্তু তারা লোকমুখে জেনেছেন যে টিপাইমুখ এলাকায় বরাক নদীর ওপর ভারত যে বাঁধ তৈরী করছে তাতে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক এক পরিবেশ সংকট তৈরী হবে৻
বাংলাদেশের উত্তর-পুর্ব সীমান্তের শেষ প্রান্তে জকিগঞ্জ এলাকা। এই উপজেলা শহর থেকেও ১২ কিলোমিটার দুরে ভারতের আমলশীদ নামের এলাকায় বরাক নদীর মুখ। এইখানেই ভারতের বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে দুই ভাগে ভাগ হয়ে সুরমা এবং কুশিয়ারা নাম নিয়েছে। সীমান্তের এই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে নদীর অবস্থান দেখিয়ে দিতে দিতে স্থানীয় সাংবাদিক ফয়জুর রহমান খসরু বললেন, জীবনের সাত দশক পাড়ি দিয়ে এসে তিনি এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ, টিপাইমুখ এলাকায় বরাক নদীতে বাঁধ দেয়া হলে জকিগঞ্জ এলাকার মানুষ হবেন তার প্রথম শিকার৻
বরাক নদীর জলে হাওরের মাছ আর কৃষিই হচ্ছে এই এলাকার মানুষের জীবিকার মূল শক্তি। ছয় সন্তান আর স্বামীসহ আট জনকে নিয়ে আমেনা বেগমের সংসার। সংসার চালিয়ে নেয়ার অন্যতম একটি অবলম্বন হচ্ছে হাওরের মাছ। কিন্তু এবার বর্ষা মৌসুমেও নদীতে পানি সেরকম আসেনি। আমেনা বেগমের বসতবাড়ি, হাওর, জমি সবই শুকনো। গতবছর থেকেই এমনটা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি এবং লোকমুখে শুনে তাঁর ধারণা হয়েছে ভারত বরাক নদীতে টিপাইমুখ এলাকায় বাঁধ তৈরী সম্পন্ন করেছে৻ আমেনা বেগমের মতো তাঁর প্রতিবেশীদেরও একই রকম ধারণা। তাঁরাও লোকমুখে শুনেছেন, ভারত টিপাইমুখ এলাকায় বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী করছে। ৮৫ বছর বয়সী আব্দুল মাজেদ মিয়ার বসতবাড়ি বহুবার ভেঙ্গেছে নদী-ভাঙ্গনে। বসতবাড়ির জায়গা পরিবর্তন করতে হলেও সুরমা তীরবর্তী এলাকাতেই থেকেছেন সবসময়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর মনেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে যে, ভারত বরাক নদীতে বাঁধ দিয়ে সিলেট অঞ্চল শুকিয়ে ফেলছে। বরাক নদীতে বাঁধ হলে জকিগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ এবং গোটা সিলেট অঞ্চল পড়বে ক্ষতির মুখে। বরাক নদী দুই ভাগে ভাগ হয়ে সুরমা কুশিয়ারা নাম নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে আবার ভৈরব এলাকায় এসে এক হয়ে মেঘনা নাম নিয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান এই নদী মেঘনাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এই বাঁধ- এই আশংকা থেকে সিলেটে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সেখানে বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত টিপাইমুখ প্রকল্প প্রতিরোধ কমিটির নেতা বেদানন্দ ভট্টাচার্য বলছেন, তাঁরা স্থানীয়ভাবে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছেন।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংগঠন সেখানে গিয়ে লংমার্চের মতো বড়ধরনের কর্মসুচী পালন করেছে। সিলেট বিভাগ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ তিন দিন ধরে লংমার্চ করেছে ওই এলাকায়। কিছুদিন আগে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীও সেখানে লংমার্চ এবং নৌমার্চ কর্মসুচী পালন করেছে। সিলেটে বিরোধী দল বিএনপি এব্যাপারে যেমন সোচ্চার তেমনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী যাঁরা আছেন তারাও কিন্তু টিপাইমুখ প্রকল্পের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেতা বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান বলছেন, বিষয়টিতে সবার ঐক্যবদ্ধভাবে এগুনো উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে সরকার যেসব তথ্য তুলে ধরেছে তাতে আশ্বস্ত হতে পারেছেন না সিলেট অঞ্চলের মানুষ। সিলেটের জকিগঞ্জে একটি বাজারে ব্যবসায়ী মনোয়ার আলীর সাথে কথা হচ্ছিলো৻ তাঁর বক্তব্য হচ্ছে তাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি বেড়েই চলেছে। তাঁর সাথে কথা বলার সময় সেখানে জড়ো হয়েছিলেন আরো বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারাও একই রকম বক্তব্য তুলে ধরেন। সুরমা এবং কুশিয়ারা নদীর পাড়ের মানুষ টিপাইমুখ প্রকল্পের ব্যাপারে সঠিক তথ্য এবং পরিস্কার চিত্র জানতে চান। দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় রাজনীতিকরাও একই ভাবে ভাবেন বলে মনে হয়েছে। |
স্থানীয় লিংকস্
টিপাই নিয়ে টানাটানি05 অগাস্ট, 2009 | বিশেষ আয়োজন
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||