|
জাহাজ ছিনতাই রোধে পাহারার পরামর্শ
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
পূর্ব আফ্রিকার উপকূলে তেলবাহী জাহাজ বা ট্যাংকার ছিনতাইয়ের পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ সকল সমূদ্রগামী জাহাজে সশস্ত্র পাহারাদার মোতায়েনের
পরামর্শ দিয়েছে৻
এম ভি সিরিয়াস স্টার নামের সৌদি মালিকানাধীন এই জাহাজটিকে কেনিয়ার উপকূল থেকে ছিনতাই করা হয়৻ জাহাজটি ২০ লক্ষ টন অশোধিত জ্বালানী তেল বহন করছে৻ মার্কিন নৌবাহিনী বলছে বৃহৎ এই ট্যাংকারটি ছিনতাই করে, সোমালি জলদস্যুরা প্রমান করলো যে তাদের দক্ষতার ক্ষেত্রে একটা নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে৻ এ পর্যন্ত সোমালি জলদস্যুদের হাতে বিভিন্ন আয়তনের আরো তেরোটি জাহাজ নাবিক-সহ আটক আছে৻ নাবিকদের জন্যে মুক্তিপণ দাবী করছে তাদের অপহরণকারীরা৻ এবং খবরে প্রকাশ, ভেলা ইন্টারন্যাশনাল, নামক যে সংস্থাটি ছিনতাই হওয়া ট্যাঙ্কার, সিরিয়াস স্টারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে, অপহরণকারীরা ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং নাবিকদের মুক্তির লক্ষ্যে আলোচনাও চলছে৻ গোয়েন্দা সংস্থা, মেরিটাইম ইনটেলিজেন্স সার্ভিস লিমিটেডের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্রেহাম গিবন ব্রুকস, বলছেন এই ট্যাঙ্কারের নাবিকদের উদ্ধার করতে হলে, মুক্তিপণ দেয়ার কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে৻ তিনি বলেন মুক্তিপণ যে দিতেই হবে এটা প্রায় ধরে নেয়া যেতেই পারে৻ কারন, সামরিক বাহিনী কখন কোথায় কিভাবে তৎপর হতে পারে, সে বিষয়ে যেসব নিয়ম-নীতি রয়েছে, সে অনুযায়ী, তারা এখানে অভিযান চালাতে পারে, যদি স্পষ্টত কারুর জীবনের প্রতি কোনো হুমকি থাকে৻ কিন্তু মি. গিবন ব্রুকস বলছেন সোমালি জলদস্যুদের এইসব ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে, সাধারনত মুক্তিপণটাই আসল লক্ষ্য থাকে তাদের৻ কাজেই অপহৃতদের জীবনের ঝুঁকিটা ততটা প্রবল নয়৻ তবে হ্যাঁ মুক্তিপণ নিয়ে যে দর-কষাকষিটা দীর্ঘ দিন চলতে পারে, দুই-তিন-চার মাস পর্যন্ত, সেকথাও জানিয়ে দিলেন মি. গিবন ব্রুকস৻ ওই এলাকায় বর্তমানে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর বেশ কিছু জাহাজ তৎপর৻ এবং সেকারনে সেখানে জলদস্যুদের কিছু কিছু আক্রমন প্রতিহত করাও সম্ভবপর হয়েছে৻ তবে জলদস্যুরা তাদের তৎপরতার পরিধি আরো বাড়িয়েছে, এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের একটা বড় এলাকা জুড়ে৻ মি. গিবন ব্রুকস বলছেন সাগরের বুকে জলদস্যুদের দমন করাটা প্রায় অসম্ভব৻ তিনি বলেন বিভিন্ন নৌবাহিনীর পক্ষে যা করা সম্ভব তা তারা করছে৻ তাঁর মতে যে পটভুমিতে তারা কাজ করছে সেটা বোঝা দরকার৻ বহুজাতিক বাহিনী সি-টি-এফ এবং জাতিসংঘ মিলিয়ে ওখানে সাতটি থেকে এগারোটি জাহাজ রয়েছে৻ তাদের পাহারা দিতে হচ্ছে পঁচিশ লক্ষ বর্গ নটিকাল মাইল৻ আয়তনটা বিপুল৻ আরো জাহাজ পাঠিয়েও সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন না মি. গিবন-ব্রুকস৻ তাঁর মতে সেটা কেবল ক্ষতর ওপর প্রলেপ লাগানোরই সামিল হবে, আসল অসুখটা সারবে না৻ তাঁর বিশ্বাস সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ সমস্যার যতক্ষণ না সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত জলদস্যু সমস্যাও মিটবে না৻ মার্কিন নৌ বাহিনীর কমান্ডার জেন ক্যামবেলও স্বীকার করছেন জলদস্যুদের দমন করার কাজটা কতটা দুরূহ৻ তবে তিনি আরেকটি সম্ভাব্য সমাধানের কথাও বলছেন৻ তিনি বলেন তাঁরা জাহাজ কোম্পানীগুলোকে জানিয়ে দিয়েছেন যে ওই অঞ্চলে নৌসেনাদের উপস্থিতি থাকলেও, সব জায়গায়, সব সময় তারা পাহারা দিতে পারবে না৻ তাই তাঁর পরামর্শ হলো জাহাজ কোম্পানীগুলোকেই নিজেদের সুরক্ষার জন্যে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হবে৻ তবে জলদস্যুদের কবল থেকে সিরিয়াস স্টার এবং তার নাবিকদের উদ্ধার করার জন্যে কোনো অভিযান চালানো হবে কিনা সেনিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের রাজধানীতে৻ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||