প্রেসিডেন্ট বুশ আমেরিকার ব্যাংক ব্যবস্থাকে বাঁচানোর জন্য নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন৻
অর্থসংকটে জর্র্জরিত ব্যাংকগুলোর শেয়ার কিনে নেয়ার জন্য তিনি সরকারী তহবিল থেকে ২৫ হাজার কোটি ডলার অর্থ যোগান দেবেন বলে জানিয়েছেন৻ এই অর্থ আসবে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসে অনুমোদিত ৭০ হাজার কোটি উদ্ধার পরিকল্পনার বরাদ্দ থেকে৻
এদিকে, বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর নেওয়া উদ্ধার পরিকল্পনার ফলে বাজারে যে আস্থা সৃষ্টি হয়েছে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে ৻ প্রেসিডেন্ট বুশের ঘোষণার পর ওয়াল স্ট্রীট শেয়ার বাজারে দর উঠলেও পরে তা আবার পড়ে যায়৻
ইউরোপের গৃহীত কর্মসূচির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বাঁচাতে সরকারি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন৻ এই পরিকল্পনা অনুসারে সংকট কবলিত নয়টি বড়ো ব্যাংকের শেয়ার কেনার জন্যে সরকারের খরচ হবে প্রায় পঁচিশ হাজার কোটি ডলার যাকে দেখা হচ্ছে আংশিক রাষ্ট্রীয়করণ হিসেবে৻
এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করা৻ ব্যাংকের শেয়ার কিনতে সরকারের যে পরিমাণ অর্থ খরচ হবে তার যোগান দেওয়া হবে অক্টোবরের শুরুতে কংগ্রেসে গৃহীত সত্তর হাজার কোটি ডলারের উদ্ধার পরিকল্পনা থেকে৻
প্রেসিডেন্ট বুশ বলছেন যে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট- জি সেভেনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং তার দেশের ব্যাংকিং ব্যাবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্যে নতুন এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে৻ ফেডারেল সরকার উদ্ধার পরিকল্পনার একটা অংশ খরচ করবে ব্যাংকের শেয়ার কেনার পেছনে৻ নতুন এই পুঁজির ফলে শক্তিশালী ব্যাংকগুলো ঋণ দেয়া অব্যাহত রাখতে পারবে আর সংকট কবলিত ব্যাংকগুলো তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে৻
প্রেসিডেন্ট বুশ এমনই এক সময়ে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরলেন যখন এশিয়া এবং ইউরোপে দ্বিতীয় দিনের মতো শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে৻ এই মূল্য বৃদ্ধিকে দেখা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের গৃহীত উদ্ধার পরিকল্পনার প্রতি আস্থা হিসেবে৻ এই পরিবর্তন থেকে এটাও মাপা যায় যে বিনিয়োগকারীরা আসলেই কতোখানি হতাশ ছিলেন৻ কিন্ত এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে৻
হংকং এ ফুলব্রাইট সিকিউরিটিজের জেনারেল ম্যানেজার ফ্রান্সিস লুন বলছেন, অবশেষে আস্থা ফিরে এসেছে৻ মি: লুন বলছেন যে বাজার রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে শেষ পর্যন্ত তা আস্থা ফিরিয়ে এনেছে৻ ঋণের বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে যাতে করে মানুষ আবারও কিনতে শুরু করেছে যার ফলে শেয়ারের দর বাড়তে শুরু করেছে৻
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের পর জাপানের বাজার আজই প্রথম খুলেছে এবং একদিনেই শেয়ারের দর বেড়েছে চৌদ্দ শতাংশ৻ আটান্ন বছরের ইতিহাসে এই প্রথম একদিনেই নিকে বাজারে শেয়ারের সূচক এতোটা বেড়েছে৻
এশিয়ার অন্যত্রও তেজীভাবে দেখা গেছে৻ দর বেড়েছে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ফিলিপাইন্সের শেয়ার বাজারেও৻
ইউরোপে লন্ডন, প্যারিস এবং ফ্রাংকফুর্টেও শেয়ার বেচা কেনা শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনের মতো আজও সূচকের গতি উর্ধমূখী ছিলো৻
ছ‘দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলে দেয়া হয়েছে আইসল্যান্ডের বাজার যেখানে শেয়ারের দর বাড়ায় সরকারের ভেতরে স্বস্তি ফিরে এসেছে৻