|
সংসদীয় বিচারের মুখে পদত্যাগ মোশারফের
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফকে সংসদীয় বিচারের মুখোমুখি করার যে হুমকি পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষ
থেকে দেওয়া হয়েছে তা কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন৻
পাকিস্তানি জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে মি: মোশারফ বলেন, জাতীয় স্বার্থেই তিনি পদত্যাগ করলেন৻ তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা টিঁকবে না বলে দাবী করলেও, মি: মোশারফ বলেছেন, তা সত্ত্বেও তিনি পদত্যাগ করলেন কারণ তিনি মনে করেন, পাকিস্তানে এখন কোনো সংঘাত কাম্য নয়৻ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে ১৯৯৯ সালে ক্ষমতা দখলের পর তার বিভিন্ন পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মি: মোশারফ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী পাকিস্তানের এক সংকটময় মুহুর্তে তিনি তার দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন৻ মি: মোশারফের পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে পাকিস্তানের সংসদের উচ্চকক্ষ সেনেটের চেয়ারম্যান অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার পালন করবেন৻ মোশারফপন্থী পাকিস্তান মুসলিম লীগের মহম্মদ মিয়া সুমরো এখন সেনেটের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন৻ পাকিস্তানি সংসদের উভয়কক্ষ ও প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যরা একযোগে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন৻ পদত্যাগ কেনো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই, বিশেষ করে তালেবান ও আল কায়দার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান শুরু করেছে তাতে সহযোগিতার জন্য কন্ডোলিৎজা রাইস, পারভেজ মুশারফের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন৻ অথচ তালেবান বাহিনী ও আল কায়দাকে নিয়ন্ত্রণ করতে তার ব্যর্থতার জন্যই মি: মুশারফ ক্ষমতায় টিঁকে থাকতে তার একসময়কার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মার্কিন প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন৻ শুধুমাত্র মার্কিন সমর্থনই নয়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থন পেতে তার ব্যর্থতাও মি: মুশারফের বিদায়কে ত্বরান্বিত করেছে৻ ১৯৯৯ সালে এক সামরিক অভ্যন্তরীণের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে বিগত নয়বছর ধরে নানাভাবে ক্ষমতায় টিঁকে থাকলেও শেষ মূহুর্তের রাজনৈতিক চাপ মি: মুশারফের পক্ষে সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন ইসলামাবাদে বিবিসি-র সংবাদদাতা চার্লস হ্যাভিল্যান্ড৻
সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রার্থীপদের বৈধতাকে কেন্দ্র করে সেদেশের বিচার ব্যবস্থার সাথে সঙ্ঘাত শুরু প্রেসিডেন্ট মুশারফের৻ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও আরো ৬০জন বিচারপতিকে বরখাস্ত করে ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি৻ সন্ত্রাসবাদের বিপদের কথা তুলে ধরে জরুরী অবস্থা জারি করেও পাকিস্তানে রাজনৈতিক বিরোধীতা দমন করতে ব্যর্থ হন মি: মুশারফ৻ সংসদীয় নির্বাচনের পর পাকিস্তান পিপলস পার্টি –পিপিপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগের জোট সরকার গঠন কার্যত প্রেসিডেন্ট মুশারফের বিদায়ঘন্টা বাজিয়ে দেয় বলেই পর্যবেক্ষকদের ধারণা৻ রাজনৈতিক বিরোধীদের সরাসরি মোকাবিলার প্রশ্নে মি: মুশারাফের ঘণিষ্ঠরা বহুবার তার অঙ্গীকারের কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত সংসদীয় বিচারের মুখোমুখির হওয়ার থেকে পদত্যাগ করে সরে যাওয়াটাকেই শ্রেয় মনে করেছেন মি: মুশারফ৻ কিন্তু তাতে শেষ পর্যন্ত তিনি বিচারের হাত থেকে রক্ষা পাবেন কিনা তা নিয়ে এখনো সংশয়ের অবস্ন হয়নি৻ যাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মি: মুশারফ পাকিস্তানের রাজনৈতিক কেন্দ্রে নিজেকে প্রতিস্থাপিত করেছেন, সেই নওয়াজ শরিফের ঘণিষ্ট জাভেদ হাশমি ইতিমধ্যে মি: মুশারফের বিচারের দাবী তুলেছেন৻ প্রতিক্রিয়া মি: মোশারফকে একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে বুশ প্রশাসন তাকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক সাহসী সেনানী বলে অভিহিত করেছে৻ মার্কিন প্রশাসনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তারা আগামীদিনেও পাকিস্তান সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে৻
ভারত প্রকাশ্যে এই ঘটনাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করলেও, বিবিসি-র সংবাদদাতারা বলছেন, ভারতীয় নেতারা একান্তে স্বীকার করছেন, মি: মোশারফের পদত্যাগ পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন৻ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলেই তারা আশা করে৻ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||