|
চীনে ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজার নিহত
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
চীনের বার্তা সংস্থা শিনখোয়া বলছে, উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনে গত তিরিশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পরে সাড়ে
আট হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৻
সিচুয়ান প্রদেশের কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থাটি বলছে , আরো হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৻ কিছু এলাকায় ৮০ শতাংশ বাড়িঘরই বিধ্বস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে ৻ প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও সর্বাত্মক উদ্ধার প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন ৻ দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ৻ প্রতি মূহুর্তে এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে, ফলে ক্ষয়ক্ষতির একটা পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে বেশ সময় লাগবে৻ সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবর পাওয়া যাচ্ছে ভূমিকম্পের এপিসেন্টার বা কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থিত একটি শহর দুজাঙজিয়ান থেকে৻ সেখানে একটি স্কুলের নীচে চাপা পড়েছে প্রায় নয়শো শিশু৻ সেখানে এক সারি বাড়ীঘরও ধ্বসে পড়েছে, আহত হয়েছে বহু মানুষ৻ অন্য একটি শহর চঙজিং এ স্কুল ভবন ধ্বসে নিহত হয়েছে চার জন স্কুল শিশু৻ গাংসু প্রদেশে নিহত হয়েছে দশ জন৻ ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো আসছে, তবে একজন সরকারী কর্মকর্তা বলছেন অনেক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার খবর তারা পাচ্ছেন না ৻ সেচুয়ান প্রদেশের এই কর্মকর্তা ডেং চ্যাংওয়েন বলছেন, ভূমিকম্প যেসব এলাকায় হয়েছে, সেখানকার সঙ্গে টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ফলে সেখান থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে না, আর প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির যেসব বিবরণ তারা পাচ্ছেন সেসব যাচাই করে দেখা হচ্ছে৻ তবে ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছিল যে থ্রী গর্জেস ড্যাম বা জলবিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে, তার কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো পাওয়া যায়নি৻ ইয়াংজি নদীর ওপর নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম এই ড্যামের কোন ক্ষতি হলে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটার আশংকা ছিল৻ দুজাঙজিয়ান শহরের এই স্কুল ভবনটি ছিল তিন তলা৻ চীনের সরকারী বার্তা সংস্থা সিনখোয়ার খবর অনুযায়ী সেখানে আটকে পড়ে থাকা স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকের ধ্বংসস্তুপের নীচ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে৻ অনেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে৻ বড় বড় ক্রেন নিয়ে এসে ধ্বংসস্তুপ সরানোর চেষ্টা চলছে৻ বলা হচ্ছে যে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে সাত দশমিক আট৻ চীনা কর্মকর্তারা যেটা বলছেন, গত তিরিশ বছরের মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আর হয়নি৻ এটি এত শক্তিশালী ছিল যে এর এপিসেন্টার বা মূল কেন্দ্র থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে বেইজিং এও এটি অনুভব করা গেছে৻ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক এবং ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়েও এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে৻ ভূমিকম্পের পর পরই আবার যে কম্পন হয়, যাকে আফটার শক বলে, সেরকম ৪৪ টি আফটার শকও রেকর্ড করেছেন কর্মকর্তারা৻ রাজধানী বেইজিং এবং বড় শহর সাংহাইতে উচু উচু দালান থেকে লোকজন আতংকিত হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে৻ সেচুয়ানে ভূমিকম্পের পর আফটার শক আবার আতংক ছড়ায়৻ চাংডু শহরেই একটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন মার্কিন নাগরিক অ্যান জুকারম্যান৻ তিনি বলছিলেন, ভূমিকম্প যখন শুরু হয়, তখন তিনি স্কুলের পথে ছিলেন, তিনি অনুভব করছিলেন যে তাঁর পায়ের নীচের মাটি কাঁপছে৻ প্রায় এক মিনিট ধরে এই ভূমিকম্প হয়েছে৻ সৌভাগ্যবশত তিনি এসময় একটা খোলা জায়গায় ছিলেন৻ স্কুল থেকে হুড়মুড় করে সবাই বাইরে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসছিল৻ চীন সরকার এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহনের কথা ঘোষণা করেছে৻ প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যের জন্য সর্বাত্মক উদ্ধার তৎপরতা চালানোর আহবান জানিয়েছেন৻ উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য ইতোমধ্যে পিপলস লিবারেশন আর্মি এবং বিমান বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে৻ চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়া বাও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়ে গেছেন৻ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় যেন জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো যায়, সেজন্যে অনেক যাত্রীবাহী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে৻ |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||