|
শান্তির পাহাড়ি পথ: ভূমি বিরোধ
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার অন্যতম একটি কারন ভূমি নিয়ে বিরোধ৻ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তির পর গত ১০ বছরে এই সমস্যার
কতোটা সমাধান হয়েছে... পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘুরে এসে মিজানুর রহমান খান
বাংলাদেশের পার্বত্য তিনটি জেলায় পাহাড়িরা জমির ভোগ দখল করে সামাজিক মালিকানা এবং প্রথাগত আইনের ভিত্তিতে৻ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে এবং মালিকানা নির্ধারণে রাজার অধীনে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করেন হেডম্যান এবং কারবারিরা৻ একজন হেডম্যান সাধারণত গ্রামপ্রধান হিসেবে কাজ করেন৻ কাজ করেন ম্যাজিস্ট্রেট বা ভূমি কর্মকর্তার মতো৻ খাগড়াছড়িতে মং সার্কেলের হেডম্যান কুমুদ বিকাশ রুয়াজা বলছেন, পাহাড়িরা প্রথমে জায়গার দখল নেয় এবং কয়েক বছরের ভোগ দখলের পর মালিকানা চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে থাকে৻ থানা নির্বাহী কর্মকর্তারা আমিন ও কানুনগোর মাধ্যমে মাপজোখের পর জমির মালিকানা বরাদ্দের বিষয়ে সুপারিশ করে এবং জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পরই পাহাড়িরা জমির মালিকানা পেয়ে যায়৻ বনে পশুপাখি শিকার, ছড়ায় মাছ ধরা আর পাহাড়ের গায়ে জুম চাষ তাদের প্রধান জীবিকা৻ আছে টং ঘর এবং তার আশেপাশে চাষাবাসের কিছু জমি৻ এসবের কোনো দলিলই নেই তাদের৻
মং সার্কেলের এক কারবারি তপন কুমার ত্রিপুরা বলছেন, শান্তিচুক্তির পরেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের অবসান হয়নি৻ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে আসা বাংগালিরা জমি দখল করে রেখেছে৻ কোথাও কোথাও প্রভাবশালী চাকমারাও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের জমি জোর করে দখল করে রেখেছে৻ ষাটের দশকের শুরুতে রাংগামাটিতে যখন কাপ্তাই বাঁধ তৈরি করা হয় তখন হাজার হাজার একর জমি তলিয়ে যায় পানির নিচে৻ উদ্বাস্ত হয় এক লাখেরও বেশি মানুষ৻ তখন থেকেই পাহাড়িদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম৻ আর সরকারি উদ্যোগে বাংগালিদের যখন সমতল অঞ্চল থেকে এখানে নিয়ে আসা শুরু হয় তখন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা আবারো তাদের জমি হারাতে শুরু করে৻ মং সার্কেলের রাজা পাইর হা প্রু চৌধুরী জানান, পাহাড়িদের স্বভাব হলো তারা সরকারি খাস জায়গায় বসবাস করবে কিন্ত তার দলিল তৈরি করবে না৻ ফলে এসব জমি প্রভাবশালীদের কাছে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে৻ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিবাসী বাংগালীরা এসবের দখল নিয়েছে৻ জন সংহতি সমিতির নেতা এবং আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সুধাসিন্ধু খীসা বলছেন পাহাড়িদের জমি এখনও বাংগালীদের হাতে বেদখল হচ্ছে৻ বাংগালীরা প্রতিনিয়ত আসছে বাইরে থেকে৻ অনেকেই জানিয়েছেন, পাহাড়ের গায়ে তারা বাগান করেন কিন্ত সেই পাহাড়ি জমির বন্দোবস্ত তাদের নামে নেই৻ বন্দোবস্ত নেয়ার অনেক চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন৻ জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে কাজ করে স্থানীয় প্রশাসন৻ খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহাদত্ হোসেন জানান, বেদখল হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত বিরোধের সংখ্যাই বেশি৻
পাবর্ত্য চট্টগ্রামে কোনো ধরণের শিল্প গড়ে না উঠায় জমির উপর চাপ খুব বেশি৻ এছাড়াও সেচযোগ্য জমির পরিমান খুবই কম৻ বাইরে থেকে বাংগালীদের নিয়ে আসায় ভূমি মালিকানার বিষয়টি হয়ে উঠেছে আরো জটিল৻ জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্ত লারমা বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা ছিলো শান্তিচুক্তির অন্যতম লক্ষ্য৻ গত দশ বছরে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বরং তারা ক্রমাগতভাবে জমি হারাচ্ছেন৻ ভূমি বিরোধ মেটাতে চুক্তি অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠন করা হয় ভূমি কমিশন ৻ তিন সার্কেলের রাজারাও এর সদস্য৻ বিরোধ নিস্পত্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তদন্ত বা সুপারিশ করা নয় আদালতের মতো রায় দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এই কমিশনকে৻ কিন্ত এই কমিশন এখন পর্যন্ত একটি মামলাও হাতে নিতে পারেনি৻ আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে এ সংক্রান্ত আইন করা হলেও আঞ্চলিক পরিষদের আপত্তির মুখে সে আইন কার্যকর হতে পারেনি৻ পাবর্ত্য চট্টগ্রাম
বিষয়ক গবেষক আমেনা মোহসিন ভূমি কমিশনের প্রথম সচিব ছিলেন দীপেন দেওয়ান৻ তিনি জানান, লোকবলের অভাবেই এই কমিশন কাজ করতে পারেনি৻ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা শুধু বেতন ভাতাই নিয়েছেন৻
কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. এম. মাহমুদুর রহমান জানান সরকারের অসহযোগিতার কারনে তারা কোনো কাজ করতে পারেন নি৻ আইন অনুযায়ী পাবর্ত্য চট্টগ্রামে জমিজমা বেঁচাকেনার ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের অনুমতি নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে৻ বাংগালীরা বলছে যে এর ফলে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে৻ ‘পাহাড়িরা বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায় গিয়ে জমি কিনতে পারে অথচ বাংগালীরা এখানে জমি কিনতে চাইলে অনুমতি নিতে হয়৻ বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমি বৈষম্যের শিকার হচ্ছি,‘ বলেন খাগড়াছড়িতে এক অভিবাসী বাংগালী৻ এই অচলাবস্থা কাটাতে ভূমি জরিপের দাবী উঠেছে৻ গত কয়েক দশকেও এই জরিপ করা সম্ভব হলো না কেনো? আশির দশকে বান্দরবানে ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম৻ তিনি বলেন, একমাত্র সরকারের অবহেলার কারনেই এটা সম্ভব হয়নি৻ তবে সাবেক এটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ বলেন পাবর্ত্য জেলাগুলিতে এই ভূমি বিরোধের সমাধান করতে হবে এই অঞ্চলের স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ঠ্যের কথা বিবেচনায় রেখেই৻ |
স্থানীয় লিংকস্
শান্তির পাহাড়ি পথ: পরিবর্তন ১০ বছরে15 ডিসেম্বর, 2007 | Lei
শান্তির পাহাড়ি পথ: বাস্তবায়ন কতোটা23 ডিসেম্বর, 2007 | Lei
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||