|
বিজ্ঞানের আসর | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
মঙ্গল গ্রহে মার্কিন মহাকাশ গবেষনা সংস্থা নাসা প্রায় আড়াই বছর আগে একটি রোবট নামিয়েছিল৻ অপারচুনিটি রোভার নামের এই রোবটটি মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে এ পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৃথিবীতে পাঠালেও বিজ্ঞানীরা এটির কাজ নিয়ে আবার দারুণ উৎসাহী হয়ে উঠেছেন৻ এর কারণ, অপারচুনিটি রোভার এখন মঙ্গলের বুকে প্রায় ৮০০ মিটার প্রশস্ত একটি ক্রেটার বা খাদের প্রান্তে এসে পৌছেছে৻
ভিক্টোরিয়া ক্রেটার নামে এই খাদের যেসব ছবি রোভারটি এ পর্যন্ত পৃথিবীতে পাঠিয়েছে, তা থেকে খাদটির দেয়ালে পাথরের বিভিন্ন স্তর দেখা গেছে৻ এরপর রোভারটি এই খাদ থেকে মঙ্গলের ভূতাত্বিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৃথিবীতে পাঠাতে পারবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন৻ নাসার রোভার প্রোগ্র্যামের প্রধান বিজ্ঞানী, কর্নেল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর স্টিভ স্কয়ারস বলেছেন ভূ-বিজ্ঞানীদের জন্য এটা স্বপ্ন সত্যি হবার মতন একটি ব্যাপার৻ নাসার মঙ্গলগ্রহ অভিযানে কাজ করছেন ভূ-বিজ্ঞানী ডঃ অমিতাভ ঘোষ৻ অপারচুনিটি রোভার থেকে ভিক্টোরিয়া ক্রেটারের তথ্য পাঠানোর সম্ভাবনা আসলেই স্বপ্ন সত্যি হবার মতন কোনো ঘটনা কিনা তা শুনতে পাবেন ডঃ অমিতাভ ঘোষের বিজ্ঞানের আসরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে৻ কোন্ বয়েস থেকে শিশুদের মস্তিষ্ক পরিণতি লাভ করে? ছয়মাস বয়সী ড্যানিয়েল নামের এক শিশুকে নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন৻ বিজ্ঞানীরা বলছেন শিশুরা নতুন কোনো জিনিস দেখলে আগ্রহের সাথে তা দেখতে থাকে৻ যখন জিনিসটি তাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে তখন তারা সেই জিনিসের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে৻ তখন সেই জিনিস তাদের দেখাতে থাকলে তারা বিরক্ত হয়৻ গবেষকরা তাদের পরীক্ষায় শিশুদের এই বিরক্তি দেখে বুঝতে পারেন তারা নতুন কিছু শিখেছে কিনা৻ দ্য বেবি ল্যাবের পরিচালক ডঃ সিলভাইন সিউয়া বলছেন বাচ্চারা কিছু শিখলো কিনা সেটা পরীক্ষা করা হয় তাদের কাছে কোনো কিছু বিরক্তিকর হয়ে ওঠে কিনা সেটা দেখে৻
বাচ্চারা যখন কোনো কিছুতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে এবং বিরক্ত হয় তখন তারা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে৻ তখন তারা এই বিরক্তিকর ছবিগুলোর দিকে তাকানো বন্ধ করে দেয় এবং অন্যকিছু করতে থাকে৻ সুতরাং, এর অর্থ হচ্ছে তারা নতুন কিছু একটা শিখেছে৻ আর সে কারনেই তারা বিরক্ত হোলে আমরা বেশ খুশীই হই বলে বলছেন ডঃ সিলভাইন সিউয়া ৻ পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের মস্তিষ্কের দু‘টি অংশ – হিপোক্যাম্পাস এবং কোর্টেক্স - পরস্পরের সাথে সঠিকভাবে যুক্ত থাকে না৻ হিপোক্যাম্পাসের কাজ হচ্ছে শিশুদের নতুন শব্দ, গন্ধ এবং রংয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া৻ আর কোর্টেক্সের কাজ হচ্ছে শিশুর দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিশক্তির বিকাশ ঘটানো৻ ডঃ সিউয়া বলছেন ৫ থেকে ৬ মাস বয়সে বাচ্চাদের মস্তিষ্কের গঠনে বিরাট একটা পরিবর্তন হয়৻ আর সেটাই ড্যানিয়েলের আচরনে দেখা গেছে বলে তিনি বলছেন৻ তিন বলেন ওই বয়েসের মধ্যে তার মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস এবং কোর্টেক্সের মধ্যে যোগাযোগ অনেক উন্নত হয়েছে বলে তারা দেখতে পান৻ গবেষকরা ড্যানিয়েলকে বিড়াল এবং গাড়ীর ছবি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পান, ড্যানিয়েল বিড়াল এবং গাড়ীর মধ্যে পার্থক্য করতে পারছে৻ অবশ্যই গাড়ী দেখতে বিড়ালের চাইতে আলাদা৻ কিন্তু চার সপ্তাহ আগে বিড়াল এবং গাড়ীর ছবির এই পরীক্ষা করা হলে ড্যানিয়েল সেই পার্থক্য ধরতে পারে নি৻ ছয় মাস বয়েসে ড্যানিয়েল বুঝতে পেরেছে যে বিড়াল এবং গাড়ী আলাদা৻ সুতরাং, সিলভাইন সিউয়া এবং তার সহকর্মীদের গবেষনা অনুযায়ী প্রায় ছয় মাস বয়স থেকে শিশুরা তাদের পারিপার্শিক জগতকে জানতে ও বুঝতে শুরু করে৻ গত সপ্তাহের প্রশ্ন ও উত্তর ফুলে ঘ্রাণ থাকে কেন?
পরাগায়নে সাহায্য করার জন্য মৌমাছি সহ অন্যান্য কীট পতঙ্গকে আকর্ষণ করার জন্যই ফুল তার সুবাস ছড়ায়৻ এই ঘ্রাণ সৃষ্টি হয় বাতাসে ফুলের ছড়ানো বেশ কিছু রাসায়নিকের জটিল সংমিশ্রনের মাধ্যমে৻ অনেক ফুল দেখতে একরকমের হলেও, সেগুলোর আকৃতি এবং রং এক রকম হলেও কোনো দুটি ফুলের ঘ্রাণ কখনো এক হয় না৻ এর কারণ হচ্ছে যে-সব রাসায়নিকের সংমিশ্রনে ফুলের ঘ্রাণ সৃষ্টি হয়, সেগুলো বহু বিচিত্র ধরনের এবং সেগুলোয় অনেক ধরনের পরিবর্তন ঘটে৻ তবে সবকিছুর মূল কথা হচ্ছে, ফুল তার ঘ্রাণের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটানোর জন্য কীট পতঙ্গকে সংকেত জানায় আর পরাগায়ন ঘটানোর জন্য তারা পুরষ্কার হিসেবে পায় ফুলের মধু৻ যে-সব ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ থাকে, সেগুলোর পরাগায়ন ঘটে মূলত: মৌমাছি, প্রজাপতি এবং অন্যান্য পতঙ্গের মাধ্যমে৻ অন্যদিকে যে-সব ফুলের বাসি ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে সেগুলোর পরাগায়ন ঘটে গুবরে বা কাঁচপোকার মাধ্যমে৻ একটা ফুল যখন পরাগায়নের জন্য প্রস্তুত হয়, তখনই সেটির ঘ্রাণ সবচাইতে বেশী হয় এবং সেটি সবচাইতে আকর্ষনীয়ো হোয়ে ওঠে৻ যে-সব ফুলের ঘ্রাণ দিনে বেশী হয়, সেগুলোর পরাগায়ন ঘটে মৌমাছি এবং প্রজাপতির মাধ্যমে৻ আর যে-সব ফুল মূলত: রাতের বেলা গন্ধ ছড়ায়, সেগুলোর পরাগায়ন ঘটে মূলত: দেয়ালী পোকা এবং বাদুড়ের সাহায্যে৻ আগামী সপ্তাহের প্রশ্ন | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||