|
বি চৌধুরী বললেন পদত্যাগের নেপথ্য কথা | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
চার বছর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে: ক্ষমতাসীন বিএনপি দলের চাপের মুখে রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০২ সালের ২১শে জুন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন৻ কিন্তু কি বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এই বিরোধ হয়েছিলো? দীর্ঘ চার বছর মি: চৌধুরী এ বিষয়ে বিস্তারিত খুব একটা কথা বলেননি৻ কিন্তু সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাঁর সাথে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মধ্যে কি ভাবে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিলো তার বর্নণা দিয়েছেন৻ ‘অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছিলো যেগুলো থেকে আমার মনে হয়েছিলো যে, রাজনৈতিক ভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মন কষাকষি বলবো না দুরত্ব বাড়ছে বলবো – এরকম একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছিলো, যেটা সঠিক হয়নি‘,মি: চৌধুরী বলেন৻ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে৻ মি: চৌধুরী বলেন যে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হবার আগেই তিনি তাঁর দল বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যাতে তিনি ‘নিরপেক্ষ‘ ভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে পারেন৻ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে সমস্যার আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো প্রায় শুরু থেকেই৻
‘সাধারনত:, প্রধানমন্ত্রী যখন বাইরে যান তখন ফিরে এসে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাঁকে অবহিত করেন৻ কিন্তু আমার সাত মাসে প্রধানমন্ত্রী ... অস্ট্রেলিয়ায় যে কমনওয়েলথ প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠক হলো সেটা থেকে ফিরে এসে আমার সাথে দেখাও করেননি, অবহিতও করেননি৻ এটা আমার খারাপ লেগেছে, কারণ এর আগে কখনো এরকম হয়নি‘,মি: চৌধুরী বলেন৻ ‘তারপরেই দেখলাম, সার্ক কনফারেন্স হলো নেপালে, কিন্তু তিনি ফিরে এসে আমাকে অবহিত করেননি৻ কয়েকটি ঘটনায় আমি আপসেট হলাম মনেমনে – এটাতো হবার কথা ছিলো না৻‘ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি চৌধুরী সাক্ষাতকারে এসব ঘটনাকে রীতির লংঘন বলে বর্নণা করেন৻ তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে সরকারের একটি মহল থেকে আপত্তি আসলে সেটা পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তোলে৻ ‘আমি রাষ্ট্রপতি হবার পরে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে আবেদন জানালো আমি যেন চ্যান্সেলর হিসেবে সেখানে ডিগ্রীগুলো দিতে যাই৻ আমি সেগুলো করেছি৻ কিছুদিন পরে, একজন মন্ত্রী আমার কাছে এলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে বল্লেন যে আমি যেন এত বেশি এক্সপোজড না হই অর্থাৎ এ ধরনের অনুষ্ঠান যেন আমি না করি৻ ‘পরবর্তী পর্যায় আপনারা দেখেছেন ইয়াজুদ্দীন সাহেব যখন প্রেসিডেন্ট হলেন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ছিলেন, কিন্তু সেখানে ডিগ্রী প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং৻ সুতরাং বোঝা যাচ্ছে এই ধরনের একটা লিংকেজ তাঁর ভেতরে কাজ করেছিলো‘,মি: চৌধুরী বলেন৻
তবে বড় ধাক্কাটা আসে প্রধানমন্ত্রী যখন আমেরিকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন৻ মি: চৌধুরী বলেন, তিনি তখন তাঁকে শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়েছিলেন, ফুল পাঠিয়েছিলেন, ফোন করে কুশল জানতে চেয়েছিলেন৻ কিন্তু ঢাকার কয়েকটি পত্রিকায় বের হলো ভিন্ন খবর৻ বলা হলো, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর কোনো খোঁজ-খবর নেননি, ফুলও পাঠাননি – যে খবরগুলোকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী অসত্য বলে বর্নণা করেন৻
‘তিনি দেশে ফেরার পর যেটা দেখা গেলো, (বিএনপির) পার্লামেন্টারী পার্টির মিটিংয়ে, সবচে জুনিয়র এমপিদের মধ্যে কয়েকজন আমার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললো, এবং প্রশ্ন তুলে যে ধরনের সমালোচনা করা হলো, সেগুলো একজন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সত্যি-সত্যি কোনো মানে হয়না‘, বলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি৻ তবে প্রশ্ন হলো, মি: চৌধুরী কেন ভেবেছিলেন যে, যেই দল তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত করেছিলো, সেই দল তাঁকে ‘নিরপেক্ষ‘ ভাবে কাজ করতে দেবে, বা রাষ্ট্রপতি দলীয় স্বার্থ-বিরোধী কোন কাজ করলে সেটা তারা মেনে নেবে? মি: চৌধুরী বলেন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোন আফসোস নাই – তিনি মনে করেন যে তাঁর পদত্যাগের পর দেশের রাজনীতি যে দিকে মোড় নিয়েছে সেটা বর্তমান সরকারের অনুকূল নয়৻ তিনি বিকল্পধারা নামের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে বর্নণা করেন৻ ‘বাংলাদেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিলো, যেভাবে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হচ্ছিলো, যে ভাবে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পরছিলো, এবং দুর্নীতিতে তারা চ্যাম্পিয়নের পর চ্যাম্পিয়ন হচ্ছিলো, সেখানে পদত্যাগের প্রায় দেড় বছর পর নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা ন্যায়সঙ্গত ছিলো, বিবেক সঙ্গত ছিলো, ‘বলেন মি: চৌধুরী ৻
তাহলে বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরানোই কি বিকল্পধারার প্রধান উদ্দেশ্য? একথা সরাসরি প্রত্যাখান করে মি: চৌধুরী বলেন যে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন৻ তিনি তৎকালীন সামরিক শাসক প্রেসিন্টে জিয়াউর রহমানকে একজন সৎ এবং দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে গণ্য করেন ৻ তবে তিনি মনে করেন বর্তমান বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে৻ 'জিয়াউর রহমানের মূল কথা যেখানে, বিএনপি আর সেখানে নেই -- দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন আর দেশপ্রেমের আদর্শ থেকে তারা বিচ্যূত হয়ে গেছে৻ হ্যাঁ, এটা খালেদা জিয়ার রাজনীতি, হ্যাঁ এটা তাঁর পরিবারবর্গের রাজনীতি, কিছু পথ-বিচ্যূত রাজনীতিকদের রাজনীতি, কিন্তু এটা আসল বিএনপি র রাজনীতি, সেটা সত্যি কথা নয়', বদরুদ্দোজা চৌধুরী বললেন৻ | ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||