BBCBengali.com
BBCHindi.com
BBCNepali.com
BBCSinhala.com
BBCTamil.com
BBCUrdu.com
 
সর্বশেষ আপডেট: 22 জুন, 2006 - প্রকাশের সময় 19:36 GMT
 
বন্ধুকে ইমেইল করুন ছাপার উপযোগী সংস্করণ
অবরুদ্ধ পূণ্যভূমি ৭ - জীবন প্রবহমান
 

 
 
Palestinian traditional dance
ফিলিস্তিনী ঐতিহ্যবাহী নৃত্য
প্রায় চার দশকের ইসরাইলী দখলদারিত্ব ফিলিস্তিনীদের জীবনের রন্ধ্রে গিয়ে ঢুকেছে৷ চেক পয়েন্ট, অবরোধ, সেনা অভিযান -- দখলদারিত্বের এ সব উপসর্গ থেকে তাদের সরে থাকার কোন উপায় নেই৷ কিনতু তার ভেতরেও ফিলিস্তিনীদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের আকাঙ্খা চোখে পড়ার মত৷

আল কাসাভা থিয়েটার

পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনী শহর রামাল্লার কেন্দ্রে আল কাসাভা থিয়েটার৷ সিনেমার পাশাপাশি এখানে নাটক, থিয়েটার, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়৷ শহরের বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র বলা যায় আল কাসাভাকে৷

মার্চের শেষে মিশরীয় চলচ্চিত্রের এক উথসব চলছিল আল কাসাভায় ৷ বিকেলের শো শেষে বেশ কজনের সাথে আলাপ হল-- কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে, সাধারন গৃহবধূ, শিক্ষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এরকম অনেকের সাথে৷

একদল ছাত্রের সাথে কথা বলার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলাম এই দখলদারিত্বের জীবনে সিনেমা উপভোগের প্রেরণা তারা কিভাবে পান৷

রামাল্লার উপকন্ঠে আবুদিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোহান্নাস উত্তর দিলেন উপভোগ নয়, উপভোগের চেষ্টা৷

 আমাদের বিকল্প দুটো৷ হয় সারাক্ষন এই মানসিক চাপ নিয়ে বসে থাকা, নয় স্বাভাবিক জীবন যাপনের চেষ্টা করে যাওয়া
 
ফিলিস্তিনী ছাত্র, রামাল্লা
“সিনেমায় না আসলে কোথায় যেতাম ? ইচ্ছেমত কোথাও তো যেতে পারিনা৷ চেকপয়েন্ট পেরিয়ে কোথাও যাওয়া ভীষন ধকল,“ মোহান্নাস বলল৷ তার সঙ্গী আরেক ছাত্র বলল আমাদের বিকল্প দুটো৷ হয় সারাক্ষন এই মানসিক চাপ নিয়ে বসে থাকা, নয় স্বাভাবিক জীবন যাপনের চেষ্টা করে যাওয়া৷

কিছুক্ষনের মধ্যেই হাসি আর খুনসুটি ছাপিয়ে তাদের কন্ঠে স্পষ্ঠ হতে থাকলো ক্ষোভ আর হতাশা৷ “আমি আমার দেশের সব জায়গায় ঘুরে বেড়াতে চাই৷ কিনতু পারি না৷ এখানে আপনি শুধু স্বপ্ন দেখতে পারেন ৷ কিনতু কিছু করার ক্ষমতা আপনার হাতে নয়,“ মোহান্নাস বলল৷

মুহুর্তে বোঝা গেল এই একটা শহরের গন্ডিতে জীবন যাপনে এসব তরুন কতটা মানসিক চাপের ভেতর৷

 আমরা দখলদারিত্বের মধ্যে রয়েছি, কিনতু তারপরও আমরা স্বভাবিক মানুষ
 
আদিলা লাইদি, শিক্ষক, বীরজেত বিশ্ববিদ্যালয়

কথা হল আদিলা লাইদির সাথে৷ বীরজেত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক৷ পুরো অবয়বে আধুনিকতা, রুচি আর শিক্ষার স্পষ্ট ছাপ৷ আল কাসাভার নিয়মিত দর্শক তিনি৷ বললেন পৃথিবীর যে কোন দেশে যে কোন সাধারন মানুষ যে কারনে সিনেমা দেখতে আসে, তিনিও সে কারনেই এখানে৷ “এটা ঠিক যে আমরা দখলদারিত্বের মধ্যে রয়েছি, কিনতু আমরা স্বভাবিক মানুষ“৷

“দখলদারিত্বের মধ্যে আছি বলে আমরা তো সারাক্ষন মনকষ্ট নিয়ে বসে থাকতে পারিনা৷ অনেক মানুষ তাই যখন যতটা সম্ভব বিনোদেনের সুযোগ খোঁজে“৷

চলচ্চিত্রকার রায়েদ অন্দোনি

আদিলা লাইদি পরিচয় করিয়ে দিলেন ফিলিস্তিনী চলচ্চিত্রকার রায়েদ আন্দোনির সাথে৷ ১৯৯৮ থেকে চলচ্চিত্র নির্মান করছেন তিনি ৷ তার খ্যাতি এখন আর্ন্তজাতিক স্তরে৻ বছরের অধিকাংশ সময় এখন দেশের বাইরে থাকেন ৷ তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র, যেটি ফ্রান্সের টিভি চ্যানেল আর টি এফের জন্য বানানো, তার চিত্রায়ন হয়েছে রামাল্লা, নাজারেথ এবং প্যারিসে৷

Palestine contemporary film
নাম কুড়চ্ছে আধুনিক ফিলিস্তিনী চলচ্চিত্র
আল কাসাভার ক্যাফেতে বসে মাঝবয়েসী রায়েদ আন্দোনি বলছিলেন দখলদারিত্বের এই জীবন যাপনে ভেতর তার সৃজনশীলতার প্রেরনা কিভাবে ধরে রাখেন তিনি৷

শুরুতেই বললেন জীবন যাপনের বাস্তবতা তার অনুভূতিকে অনেকটাই আলোড়িত করছে ৷ তার ছবিতেও তার প্রতিফলন হয় ৷ “কিনতু তার অর্থ এই নয় যে আমরা শুধু সে কথাই সারাদিন ভাবি“৷

অন্দোনির সদ্য বানানো প্রামান্য চলচ্চিত্রটির উপজিব্য নাজারেথের এক সঙ্গীত পরিবার৷ তিন ভাই৷ বড় দু ভাই গাইয়ে৷ ছোট ভাইও সে পথে যেতে চায় ৷ কিনতু বাবা স্বস্তি পাচ্ছেন না৷ পরিবারের মধ্যে প্রজেন্মর দ্বন্দ্ব৷ সারা পৃথিবীর সাধারন গল্প৷ মোটা দাগে ইসরাইলী দখলদারিত্ব বা ফিলিস্তিনী প্রতিরোধের গল্প নয়৷

“পৃথিবীর যে কোন জায়গায় যে কোন সাধারন মানুষের মত আমাদের জীবনেও নানারকম অনেক গল্প রয়েছে ৷ আমাদের সঙ্গীত, আমাদের সংস্কৃতি,“ আন্দোনি বললেন৷

কিনতু একইসাথে বললেন : “এই বিচ্ছিরি বাস্তবতাও সর্বক্ষন আমাদের ঘিরে রয়েছে ৷ আমার প্রতিদিনের জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলোও সেই বাস্তবতা নিয়ন্ত্রন করছে ৷ আমি ইচ্ছেমত ঘুরতে ফিরতে পারিনা৷ পাশের বেথলেহেমে এক মাসেও একবার মাকে দেখতে যেতে পারিনা“৷

“আমার এই বাস্তবতাকে আমি অস্বিকার করতে চাইনা, পারিওনা ৷ কারন দখলদারিত্বের জীবন সবচে জঘন্য জীবন৷ তারপরও আমি চাই না এই যন্ত্রনা আমার ভেতরে সর্বক্ষন চেপে থাকুক৷ আমি একজন স্বাভাবিক মানুষের মত পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে ভাবতে চাই“৷

আল ফুনুন

আল কাসাভার অদুরে ফিলিস্তিনী পপুলার আর্ট সেন্টার৷ ফিলিস্তিনী অঞ্চলে নাচ,গান,সংস্কৃতি চচ্র্চার মূল কেন্দ্র বলা যায় এই সেন্টারকে৷ এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেই গত বিশ বছর ফিলিস্তিনী পারফর্মিং আর্ট নতুন জীবন পাচ্ছে৷ আলফুনুনের মত নৃত্যগোষ্ঠি গড়ে উঠেছে, যারা এখন সারা পৃথিবী ঘুরে অনুষ্ঠান করছে৷
Palestine traditional music
ফিলিস্তিনী ঐতিহ্যবাহী বাজনা

সন্ধ্যেয় আর্ট সেন্টারের একটি হলঘরে নাচের অনুশীলন চলছিল৷ শেখাচ্ছিলেন আলফুনুনের অন্যতম স্থপতি ওমর আল বারগুতি৷ বললেন ফিলিস্তিনী ঐতিহ্যবাহি নাচের সাথে আধুনিক পশ্চিমা নাচের সংমিশ্রন করার চেষ্টা করছেন তারা ৷ বললেন দখলদারিত্বের কারনে সৃজনশীলতা ভেসে যাবে তা হয়না৻

“বৃটেনে বা আমেরিকা বা অন্য যে কোন দেশে নাচ যেমন গুরুত্বপূর্ন, ফিলিস্তিনীনেও তাই ৷ অন্য সব জাতির মত আমরাও নাচের মাধ্যমে আবেগ, অনুভূতি, আত্মপরিচয় প্রকাশের চেষ্টা করছি,“ ওমর বারগুতি বললেন৷ “আমাদের সেই পরিচয়ের একটি অংশ আমরা পরাধীন, কিনতু সেটাই আমাদের একমাত্র পরিচয় নয়“৷

ইমান হামুরী

১৯৮০ র দশকে প্রথম ইন্তিফাদার সময় প্রতিষ্ঠিত এই আর্ট সেন্টারের পরিচালক ইমান হামুরী ৷ বললেন দখলদারিত্বের গ্রাস থেকে ফিলিস্তিনীদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধরে রাখা এখন বিরাট এক চ্যালেঞ্জ৷

 আরবীতে একটা প্রবাদ আছে যখন আপনি মহাসঙ্কটে পড়বেন, তখন প্রাণ খুলে হাসুন৷
 
ইমান হামুরি, পরিচালক, ফিলিস্তিনী পপুলার আর্ট সেন্টার, রামাল্লা

“দখলদারিত্ব শুধু যে আমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ধ্বংস করছে তাই নয়, আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য গ্রাস করার চেষ্ট করছে৷ আমরা সেটাকে যেটুকু পারি ঠেকানোর চেষ্টা করছি,“ ইমান হামুরী বললেন৷

“তারা (ইসরাইলীরা) দাবী করে ফিলিস্তিনীদের ঐতিহ্যবাহি যে পোশাক সেটা নাকি তাদের৷ এমনকি আমাদের খাদ্যও নাকি তাদের“৷

বললেন লোকজ দেশাত্ববোধক গানের ক্যাসেটা বের করার জন্যও এক শিল্পীকে ইসরাইলীরা ছ মাস জেলে ভরে রেখেছিল৷ প্রথম ইন্তিফাদার সময় সেটা৷ কজন নৃত্যশিল্পিকেও জেলে ভরা হয়েছিল৷

ইমান হামুরী আক্ষেপ করে বললেন এখনও তাদের দলের অনেক শিল্পী দেশের বাইরে যেতে পারেনা৷ “এমনকি গাজায় যেতে পারিনা আমরা ৷ জেরুসালেম যেতে পারিনা“৷
Palestine contemporary painting
ফিলিস্তিনী সমকালীন চিত্রকর্ম

ইমান হামুরী দাবী করলেন পরাধীনতার অজুহাতে কোন ধরনের স্থুলতাকে তারা প্রশ্রয় দেন না৷ “কোনভাবেই মনে জায়গা দিই না যে পরাধীন বলে মানুষ আমাদের মান নিয়ে মাথা ঘামাবে না, আমাদের ত্রুটি ক্ষমা করে দেবে৷ বরঞ্চ আমরা যেখানেই অনুষ্ঠান করতে যাই, আমাদের যন্ত্রপাতির চাহিদা, ব্যাবহার দেখে তারা বিস্মিত হয়“৷

ইমান হামুরী বললেন দখলদারিত্বের মধ্যে সৃজনশীলতা ধরে রাখা কষ্টের ৷ “মাঝে মধ্যে সৈন্যদের নির্মম আচরনের পেছনে কোন যুক্তি থাকেনা৷ ইচ্ছে করে অপদস্ত করে৷ আসলে ফিলিস্তিনীদের মর্যাদাবোধ, স্পৃহাকে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করছে তারা৷ কিনতু তাদের এ আচরন আমাদের আরো শক্তি যোগাচ্ছে“৷

বললেন এমনকি মাঝে মাঝে দুর্ভোগ নিয়েও ফিলিস্তিনীরা কৌতুক করতে শিখেছে৷ চেক পয়েন্টে কার কি অভিজ্ঞতা, কেউ জেল থেকে বেরুলে সেখানে তারা কি করত, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের সাথে কেমন আচরন করা হয়েছে এসব নিয়ে গল্প হয়৷ হাসি ঠাট্টা হয়৷

হাসতে হাসতে বললেন : “আরবীতে একটা প্রবাদ আছে যখন আপনি মহাসঙ্কটে পড়বেন, তখন প্রাণ খুলে হাসুন ৷ তাতে সেই সঙ্কট থেকে উত্তরনের কিছুটা শক্তি অন্ততঃ পাওয়া যাবে“৷

ইমান হামুরী বললেন ফিলিস্তিনীরা যেন জ্ঞানে অজ্ঞানে ঐ প্রবাদকেই অনুসরন করতে শিখেছে৻

 
 
স্থানীয় লিংকস্
সর্বশেষ সংবাদ
 
 
বন্ধুকে ইমেইল করুন ছাপার উপযোগী সংস্করণ
 
  RSS News Feed
 
BBC Copyright Logo ^^ পাতার শুরুতে
 
  প্রথম পাতা | বিশেষ আয়োজন | অনুষ্ঠান| বেতার তরঙ্গ | আবহাওয়া
 
  BBC News >> | BBC Sport >> | BBC Weather >> | BBC World Service >> | BBC Languages >>
 
  আমাদের সম্পর্কে | যোগাযোগ | সাহায্যের বোতাম | গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিবৃতি