|
অবরুদ্ধ পুণ্যভূমি ৫ - ইহুদি বসতি তেকোয়া | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত তিন দশকে গজিয়ে উঠেছে কয়েক’শ ইহুদি বসতি৷ ফিলিস্তিনীদের বক্তব্য দখলদারিত্ব স্থায়ী করার ইসরাইলী কৌশল এসব বসতি৷ অন্যদিকে বসতির মানুষের কথা এ জমি স্বয়ং ইশ্বর ইহুদিদের দিয়েছেন ৷ জেরুজালেম থেকে নাবলুস যাওয়ার পথে জেরুসালেমের ফিলিস্তিনী ট্যাক্সিচালক মোস্তফা দেখাচিছলেন মহাসড়কে যে গাড়ী চলছে দু চারটি বাদে সবই ইহুদি বসতির লোকজনের ৷ একেকটি করে বসতি যত বেড়েছে, স্থানীয়দের অর্থাৎ ফিলিস্তিনীদের চলাচল তত নিয়ন্ত্রতি হয়েছে ৷ এক ঘন্টার রাস্তায় কয়েকবার তার নমুনা দেখলাম৷ রাস্তার ওপর সৈন্যদের অস্থায়ী রোডব্লকে তল্লাশির অপেক্ষায় সারি দেয়া ফিলিস্তিনীদের বাস, ট্যাক্সি, কার, ট্রাক ৷ পাশ দিয়ে হুশ হুশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলী নম্বর প্লেট লাগানো বসতির লোকজনের গাড়ী৷ রাস্তার দুপাশে কিছুক্ষন পর পর ছোট-বড় ইহুদি বসতি দেখাতে দেখাতে মোস্তফা বললেন
“প্রথমে দেখবেন হঠাৎ কোত্থেকে দশ বারটি কারাভান এসে এক পাহাড়ের ঢালে ঘাঁটি গেড়ে বসল৷ তারপর দু চার মাস পরে দেখলেন সেখানে ঘর উঠে গেছে ৷ তারপর দাবী করল এ জমি তাদের৻“ কিছুক্ষন পরে সত্যিই দেখলাম পাশের এক পাহাড়ের ওপর সাদা কয়েকটি কারাভান৷ “ঐ দেখুন ওটা শুরু ৷ তারপর শুধু ঐ কয়েকটি কারাভানে পৌছুতে রাস্তা তৈরীর জন্য তারা আশেপাশের কয়েকটি পাহাড় দখল করবে৷ তাদের নিরাপত্তার জন্য ইসরাইলী সৈন্য চলে আসবে,“ বললেন মোস্তফা৻ স্থানীয় ফিলিস্তিনীরা তারপর দেখেন পৃথিবীর নানা দেশ থেকে আসা অজানা অচেনা মানুষ তাদের প্রতিবেশী ৷ বসতি ঘিরে তৈরী হয় কাঁটাতারের বেড়া৻ বেড়ে যায় সৈন্যদের আনাগোনা৻ স্থানীয়দের চলাফেরার ওপর বসতে থাকে নতুন নতুন বিধিনিষেধ ৷ রাস্তায় বসে চেকপয়েন্ট, রোড ব্লক ৷ শুরু হয় স্থানীয় আর বসতির লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা, হামলা, প্রতিহামলা, ধরপাকড় ৷ ইহুদি বসতি তেকোয়া জেরুসালেম থেকে হেবরন যাওয়ার পথে বেথলেহেমের উপকন্ঠে প্রত্যন্ত এক ইহুদি বসতি তেকোয়া ৷ অনেক যোগাযোগ, অনুরোধের পর সেখানে ঢোকার অনুমতি মিলল ৷ চারপাশে ফিলিস্তিনী গ্রাম৷ বসতির চারদিকে দু পর্দার কাটাতারের বেড়া ৷ চারদিকে পর্যবেক্ষন চৌকি৷ প্রবেশের পথে পাহারায় সৈন্য ৷ একেবারে দূর্গের মত৷ তারপরেও বেশ কয়েকবার এ বসতিতে, বসতির বাসিন্দাদের ওপর ফিলিস্তিনী জঙ্গীরা হামলা করেছে ৷ এরকম এক হামলার শিকার আমেরিকার বস্টন থেকে আসা অভিবাসী শেথ ও শেরি ম্যান্ডেল ৷ ২০০১ এর ৮ই মে ফিলিস্তিনী জঙ্গীদের হাতে নিহত হয় তাদের ১৩ বছরের ছেলে কোবি ৷ বসতির ভেতর লাল টালির ছাদ দেয়া বাঙ্গলো আকৃতির বাড়ীতে বসে শেথ ম্যান্ডেল বললেন তার ছেলের মৃত্যুর কাহিনী ৷ কোবি আর তার বন্ধু ইউসেফ ইসরান সেদিন সকালে হাঁটতে বেরিয়েছিল ৷ বাড়ী থেকে বড় জোর পাঁচশ মিটারের মত দুরে একটি গুহার মত জায়গায় ৪/৫ জন ফিলিস্তিনী জঙ্গী তাদের ঘরে ফেলে ৷
“পাথর দিয়ে থেতলে মেরেছিল ওদের দুজনকে ৷ চেহারা চেনার উপায় ছিলনা ৷ দাঁত দেখে লাশ সনাক্ত করতে হয়েছিল,“ বললেন শেথ ম্যান্ডেল ৷ বাসে বসা তার স্ত্রীর চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল ৷ একসময় তাদের জিজ্ঞেস করলাম বস্টনের নিরাপদ জীবন ছেড়ে এই প্রত্যন্ত বসতিতে এসে ছেলেকে হারানো নিয়ে কোন অনুতাপ হয় কিনা ? দুজনেই বললেন না ৷ শেথ ম্যান্ডেল বললেন কোবির মৃত্যুতে এই মাটির সাথে তাদের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে ৷ “আমার এখন মনে হয় আমার ছেলে তার জীবন দিয়ে বলে গেছে ইহুদিরা যেন এ দেশে বসবাস করতে পারে“৷ ইশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সারা পশ্চিম তীর জুড়ে কিনে নেয়া, দখল করা, বাজেয়াপ্ত করা ফিলিস্তিনী জমিতে শ দুয়েক ইহুদি বসতি উঠেছে ৷ এ সব বসতির জনসংখ্যা এখন প্রায় চার লাখ৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব বসতিতে কট্টর মনোভাবের প্রাধান্য স্পষ্ট ৷ অধিকৃত এলাকা, বসতি এসব শব্দগুলোতেই তাদের ঘোর আপত্তি ৷ পশ্চিম তীর বলা হচ্ছে যাকে সেটা তাদের কাছে আদি বাইবেলে বর্ণিত জুদেয়া আর সামারিয়া, যে ভূমি স্বয়ং ইশ্বর তাদের দিয়েছেন বলে ইহুদিদের বিশ্বাস৷ ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পুরিমের আবহ সারা তেকোয়াতে সেদিন৷ সবার গায়ে রঙচঙে পোশাক৷ বিভিন্ন বাড়ী থেকে উচু আওয়াজে গান ভেসে আসছে৷ এক বাড়ীর সামনের চত্বরে দেখলাম বেশ কজন তরুন হল্লা করছে৷ ভেতর থেকে ঢোলের সাথে গানের শব্দ৷ তাদের বেশভুসায় বোঝা যায় কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের ভেতর দিয়ে তারা বড় হচ্ছে ৷ বেনি করা ঝোলানো জুলপি কানের দুপাশে৷ মাথার তালুতে ক্লিপ দিয়ে আটকানো ছোট্ট টুপি ৷ সাংবাদিক শুনে প্রথমে তাদের একটু সন্দিহান মনে হল৷ পরে পুরিম নিয়ে আগ্রহ দেখালে কিছুটা সহজ হল তারা ৷ একজন পুরিমের ইতিহাস শুনিয়ে দিল ৷ ইহুদি ধর্মের গোড়ার দিকে কোন এক শাসক ইহুদিদের নির্মূল করার জন্য যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন ৷ কিনতু ইশ্বর ইহুদিদের সেই বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলেন ৷ তারই উদযাপন করছে তারা ৷ ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনীদের সাথে সংঘাত, এই বসতি নিয়ে বিতর্ক--ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হল তাদের সাথে ৷ অধিকাংশই আমেরিকা থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের, একজন বললেল আর্জেন্টিনা থেকে৷ জিজ্ঞেস করলাম প্রধানমন্ত্রী ওলমার্ট বেশ কিছু প্রত্যন্ত ইহুদি বসতি গোটানোর পরিকল্পনা করছেন৷ তেকোয়া তাদের মধ্যে একটি ৷ তারা কি মেনে নেবে ?
সাথে সাথে একজন তরুন বলে উঠলেন কোনদিন মানব না ৷ “এটা আমার দেশ ৷ ইশ্বর আমাকে এই দেশ দিয়েছেন ৷ অনেক জাতিই অন্যের কাছ থেকে দখল করে তাদের দেশ বানিয়েছে ৷ কিনতু আমাদের এ দেশ ইশ্বরের দেয়া“৷ অন্য একজন বললেন জমি ছাড়ার কোন মানেই হয়না ৷ তার বক্তব্য এখনও সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে আমাদের ওপর ৷ আরো ছাড় দিলে পেয়ে বসবে ফিলিস্তিনীরা ৷ “মনে হচ্ছে আমেরিকার চাপে, আর্ন্তজাতিক চাপে কাদিমা (প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের দল) জমি ছাড়ার কথা ভাবছে৷ কিন্তু ইসরাইলের উচিত নিজের স্বার্থ দেখা ৷ পৃথিবীর কে কি মনে করল, কি চাইল তাকে গুরুত্ব দিলে চলবে না,“ ঐ তরুন বললেন ৷ জিজ্ঞেস করলাম ফিলিস্তিনীদের সাথে বিরোধ সমাধানে কি ভাবেন তারা ? প্রথম যে তরুন কথা শুরু করেছিল বলল দেখুন এটা অত্যন্ত জটিল বিষয় ৷ এ বিরোধের সাথে কঠোর ধর্মীয় বিশ্বাসের যোগ রয়েছে ৷ আমাদের প্রজেন্ম এর কোন সমাধান দেখছি না ৷ আর্জেন্টিনা থেকে আসা অভিবাসী তরুনটি বলল সমস্যার গোড়ায় জেরুসালেম ৷ ফিলিস্তিনীরা জেরুসালেমের দাবী ছাড়বে না ৷ আমরাও ছাড়বনা ৷ ফলে সেখানে কিছু হবে বলে মনে হয়না ৷ আমেরিকা থেকে আসা আরেক অভিবাসী তরুন পাশ থেকে বললেন কোন সমাধান নেই৷ “আমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে৷ দেয়াল দিয়েও কোন লাভ হবে না ৷ ফিলিস্তিনীরা দেয়ালের ওপর দিয়ে গুলি চালাবে ৷ কোনভাবেই কিছু হবার নয়৷“ রাবাই ফ্রুম্যান এই তেকোয়াতেই বসবাস করেন ইসরাইলের একজন সুপরিচিত ধর্মীয় নেতা, রাবাই ফ্রুম্যান ৷ যদিও তিনি বিশ্বাস করেন পশ্চিম তীর ইশ্বর প্রদত্ত ইহুদি ভূমি, তারপরও ফিলিস্তিনীদের সাথে সহাবস্থানে বিশ্বাসী তিনি৷
তার বাড়ীর সামনে দাড়িয়ে সৌম্য মূর্তির এই রাবাই বললেন একবার গাজায় গিয়ে নিহত হামাস নেতা শেখ ইয়াসিনের সাথেও দেখা করেছেন তিনি৷ “আমি সবসময় বলি শান্তির জন্য ইহুদিদের বাড়িয়ে দেয়া হাতের আঙ্গুলগুলো হচ্ছে এ সব বসতি৷“ তাকে বললাম তেকোয়ার মত এসব বসতি যেখানে ফিলিস্তিনীদের দখল করা জমির ওপর তৈরী, সেখানে সহাবস্থান কিভাবে সম্ভব ৷ রাবাই ফ্রুম্যান বললের দেখুন তেকোয়ার মানুষও মনে করে আরবরাই একসময় তাদের জমি দখল করেছিল ৷ তারা বিশ্বাস করে এ জমি ইসরাইলের ৷ “সে কারনেই দুপক্ষের মধ্যে কথা হওয়া উচিত ৷ দুপক্ষকেই মানতে হবে এ জমি কারো নয়, ইশ্বরের ৷ সেটাই শান্তি আর সহাবস্থানের ভিত্তি হতে পারে ৷“ রাবাই ফ্রুম্যান বললেন তিনি বিশ্বাস করেন এ বিরোধের মূলে ধর্ম শক্তভাবে গাড়া এবং ধর্মের ভেতরেই এর সমাধান নিহিত ৷ তার কথা, ধর্মকে সম্মান না করলে কোনদিন শান্তি আসবে না ৷ রাজনীতিকরা সেটা ভুলে যান ৷ রাবাই ফ্রুম্যানের প্রতিবেশী শাইনী সাংগুতস ৷ ৩৫ বছর আগে নিউইয়র্ক থেকে ইসরাইলে আসেন ৷ ২৫ বছর ধরে তেকোয়াতে ৷ কেন নিউইয়র্কের বৈভব ছেড়ে এই যুদ্ধ বিগ্রহের ভেতর এলেন তিনি ? এমনভাবে হাসলেন যেন এ প্রশ্ন তিনি বহুবার শুনেছেন৷ “কারণ আমি একজন ধার্মিক ইহুদি হিসেবে বড় হয়েছি ৷ আমার শিক্ষাই ছিল একজন ইহুদির আসল ঠিকানা হচ্ছে ইশ্বরের দেয়া এই ভূমি৷“ “ছোট থেকেই আমি তাই স্বপ্ন লালন করেছি একজন ইহুদি হিসেবে আমি জীবন যাপন করব ইশ্বরের দেয়া এই ভূমিতে, এখানেই আমার পরিবার হবে, সন্তানেরা বড় হবে৷“ তিনিও কোনভাবেই মানতে রাজী নন এ সব বসতি ফিলিস্তিনীদের সাথে মীমাংসার সামনে বড় একটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে ৷ “জমি কোন সমস্যা নয় ৷ তাকিয়ে দেখুন জুদেয়া পাহাড়ে এখনও অনেক ফাঁকা জমি ৷ ফিলিস্তিনী, ইহুদি সবার জন্য তা যথেষ্ট ৷ মূল সমস্যা মূল্যবোধের তফাত ৷ মুসলমানরা কোথায় কার সাথে থাকতে পারছে বলুন ?“ জবরদখল তেকোয়ার ইহুদিদের কাছে যে ভূমি ইশ্বরের প্রতিশ্রুত, ফিলিস্তিনীদের কাছে তা অন্যায় জবরদস্তি, অবৈধ দখল৷
তেকোয়া বসতির ফটক পেরিয়ে একটু এগুলোই ফিলিস্তিনী গ্রাম ৷ এ গ্রামের নামও তেকোয়া৷ এক দোকানের সামনে দাঁড়াতে কৌতুহলী কজন ভীড় করলেন ৷ বসতির কথা তুলতেই কন্ঠে রাজ্যের ক্ষোভ ঢেলে দিলেন৷ স্থানীয় স্কুলের ইংরিজির শিক্ষক আলী বললেন এই সড়কে দুটো স্কুল ৷ বসতির লোকজন এই রাস্তা ব্যাবহার করে ৷ ফলে সারাক্ষন ইসরাইলী সৈন্যদের আনাগোনা, টহল ৷ মাঝে মধ্যে ছাত্রদের সাথে বসতির লোকজনের গন্ডগোল লেগে যায় ৷ নিত্যদিন অশান্তি ৷ প্রৌঢ় ব্যাবসায়ী ইসমাইল বললেন ছোট থেকেই দেখে আসছেন এ পাহাড়ে গ্রামের কৃষকরা চাষবাস করত, ভেড়া চরাত ৷ হঠাৎ একদিন তা দখল হয়ে গেল ৷ বললেন এ বসতি হওয়ার পর তেকোয়ার মানুষের স্বাধীনতা শেষ৷ ৷ “আপনি ধরুন দোকানে এসেছেন, হঠাৎ সৈন্যরা এসে বলবে এখানে কি? কে বসতির দিকে ঢিল ছুড়েছে বল৷ অবান্তর সব প্রশ্ন ৷ সৈন্যদের না পেরিয়ে এ গ্রাম থেকে পাশের গ্রামে যাওয়া যায়না ৷ কোন স্বাধীনতা নেই৻“ পূর্ব জেরুজালেমের শীর্ষ একজন ফিলিস্তিনী বুদ্ধিজীবী মাগদি আবদুল হাদির কথা ফিলিস্তিনী পশ্চিম তীরের প্রাণশক্তি নষ্ট করা হয়েছে এসব বসতি উঠিয়ে ৷ “পচিশ লাখ ফিলিস্তিনীর মাঝে এখন চার লাখ ইহুদি,“ বললেন মাহদি আব্দুল হাদি৷ “এসব বসতি রক্ষায় প্রতিটি শহর, গ্রাম দেয়াল দিয়ে ঘিরে আমাদের যেন জেলখানায় ভরে ফেলা হচ্ছে ৷“ “আমাদের সম্পদের, আমাদের পানির, মহাসড়কের মূল নিয়ন্তা এখন বসতির লোকজন৷ তাদের রক্ষায় সেখানে সৈন্যরা ৷ তাদের আইন সেখানে ৷ আর ফিলিস্তিনীরা যেন সেখানে একসময়কার দক্ষিণ আফ্রিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠি“৷ | স্থানীয় লিংকস্ অবরুদ্ধ পুণ্যভূমি ৪ - ঠিকানা শরণার্থী শিবির 25 মে, 2006 | Lei অবরুদ্ধ পুণ্যভূমি ৩ - কালান্দিয়া চেকপয়েন্ট 18 মে, 2006 | Lei অবরুদ্ধ পুণ্যভূমি ২ - সন্ত্রস্ত নেতানিয়া12 মে, 2006 | Lei অবরুদ্ধ পুণ্যভূমি05 মে, 2006 | Lei | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||