আল কায়েদা নেতা আল জাওয়াহিরির ঘোষণা গুরুত্বের সাথে দেখছে বাংলাদেশ

  • ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪
গত বছর বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে দেয়া বিবৃতিকে ঢাকায় কর্মকর্তারা 'ভুয়া' বলে আখ্যায়িত করেন।

আল কায়েদা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির এই ঘোষণায় ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারেও কর্মকাণ্ড চালানোর ঘোষণা রয়েছে। ফলে এটি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে বাংলাদেশও।

তবে ভিডিওটি যাচাই করে দেখার পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা অবশ্য বলেছেন, এটি সত্যিই আল কায়েদার ঘোষণা হলে, এ নিয়ে অবহেলার কোন সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কয়েকটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ বাহিনী, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলছেন, প্রথমেই সন্দেহ হয় যে এটি জাওয়াহিরির বক্তব্য কিনা।

ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে আয়মান আল জাওয়াহিরি

"তার অনেক বক্তব্যই আমরা অনেক সময় শুনেছি, কিন্তু তাকে সরাসরি কোন বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি," তিনি বলেন।

"বাংলাদেশেও কিছুদিন আগে জাওয়াহিরির নামে একটি অডিও বার্তা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু আমরা তদন্ত করে দেখতে পেয়েছিলাম যে সেটি ছিল ভুয়া," কর্নেল আহসান বলেন।

''আগে এটি যাচাই করে দেখতে হবে যে, এটি সত্যিই আল কায়েদা দিয়েছে কিনা।'' বলছেন কর্ণেল আহসান।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় জঙ্গি তৎপরতার খবর পাওয়া গেলেও, ২০০৫ সালে একযোগে তেষট্টি শহরে বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের বড় ধরণের উপস্থিতির ঘোষণা দেয় জেএমবি।

এরপর হুজি, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলাটিমসহ ধর্মভিত্তিক বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন তৎপরতা চালালেও, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে বর্তমানে তাদের কর্মকাণ্ড অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে।

অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন আইনও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নুর খান।

তিনি অবশ্য বলছেন, ঘোষণাটি সত্যিই যদি আল কায়েদার তরফ থেকেই এসে থাকে, সেটি অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই।

বাংলাদেশে বিশেষ বাহিনী র‍্যাব সশস্ত্র জঙ্গি দমনে নিয়োজিত

মি. খান বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতে তাদের যে পূর্ব থেকেই যোগাযোগ ছিল, সেটির বহু প্রমাণ রয়েছে।

"এই দুটি দেশেই জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো বহু কর্মকাণ্ড করেছ," তিনি বলেন।

"অনেকে আল কায়েদার হয়ে আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, জিহাদে অংশ নিয়েছে। তারাই আবার এসব দেশগুলোতে ফিরে এসে সংগঠিত করতে শুরু করেছে," মিঃ খান বলেন।

তিনি মনে করেন, আল কায়েদার সেল গঠন করে কর্মকাণ্ড চালানোর মতো সুযোগ বাংলাদেশে আছে।

কিন্তু আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানের পর বাংলাদেশে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলোই যেখানে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, সেখানে আল-কায়েদা কতটা সুবিধা করতে পারবে?

নুর খানের মতে, স্তিমিত করা গেলেও বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা গেলেও, এই জঙ্গিদের কিন্তু কখনোই পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি।

বরং কিছু ক্ষেত্রে তাদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার মতো আলামতও দেখা গেছে।

আল কায়েদার মতো হুমকি ঠেকাতে সচেতনতা তৈরি আর রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের উপরও জোর দিলেন মি. খান।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল কায়েদার এই বার্তা তাঁরা গুরুত্বের সাথেই নিয়েছেন।

তবে ভিডিওটি সত্যি হলেও, তা নিয়ে আতকিংত হওয়ার মতো কিছু তাঁরা দেখছেন না। কারণ বাংলাদেশে এর আগেও বেশ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তৈরি হলেও, সবগুলোকেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা কর্নেল জিয়াউল আহসান বলছেন, বাংলাদেশে আল কায়েদার নেটওয়ার্ক নেই।

তার মতে, বাংলাদেশ থেকে হয়তো কেউ কেউ আফগানিস্তানে গিয়ে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ নিয়ে বা যুদ্ধ করে বাংলাদেশে এসে জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত ছিল। কিন্তু তারা বা অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোকে কিন্তু র‍্যাব অনেকটাই নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে।

''জাওয়াহিরির এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা জনগণের জন্য বড় কোন সমস্যা তৈরি করবে বলে আমি মনে করি না," কর্নেল আহসান বলেন।

"তবে তার কথায় উৎসাহিত হয়ে কেউ যদি কোন ধরণের কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে, সেটা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা আমাদের রয়েছে," তিনি বলেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, যাচাই এর পর ভিডিওচিত্রটির সত্যতা পাওয়া গেলে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে পরবর্তী করনীয় ঠিক করা হবে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য