বাংলাদেশে বন্যায় নতুন করে প্লাবিত কয়েকটি জেলা

  • ২৩ অগাস্ট ২০১৪
বন্যায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে যমুনা-ব্রক্ষপুত্র অববাহিকার কিছু জেলা

বাংলাদেশের আরও কয়েকটি জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। যমুনা-ব্রক্ষপুত্র অববাহিকার ভাটিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ সংলগ্ন কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে।

সবমিলিয়ে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৮ টি জেলা মৃদু বা মাঝারি মাত্রার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তবে আজ রংপুর-কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী কিছু জেলায় বন্যার পানি কিছুটা কমেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, উজানে পানি কমার কারণে যমুনা-ব্রক্ষপুত্রের ভাটিতে শরিয়তপুর, মাদারিপুর, মানিকগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন চলতে পারে বলে জানাচ্ছেন বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকোশলী আমিরুল হোসেন।

এদিকে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে গঙ্গা অববাহিকাতেও। যার ফলে ঢাকার আশপাশের কয়েকটি নদীর পানি এখন বাড়ছে। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত এ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানাচ্ছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে তারা বলছে, এর ফলে ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকায় সপ্তাহখানেকের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হবার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে উপদ্রুত অঞ্চলে ত্রাণ হিসেবে চাল এবং নগদ অর্থ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দূর্যোগ ও ত্রাণ অধিদপ্তর।

তবে সবাই পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রংপুরের গঙ্গারচরের লক্ষীটারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়সাল হাসান বলছেন, তারা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পাননি।

“আমার এলাকায় ৭৫ জনকে ২০ কেজি করে চাল দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।” বলেন মি. হাসান।

রংপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ বলেন, বন্যার পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় ত্রাণের প্রয়োজনীয়তা এখন কমে এসেছে, তারা এখন ভাঙ্গন রোধের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।

ঢাকায় ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ বলছিলেন, তারা বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে, সেখানে ত্রাণ পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে।

“আমরা প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছি যেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে কমপক্ষে ২০ কেজি চাল এবং ৫০০ টাকা তার হাতে দেয়া হয়।” বলেন মি. ওয়াজেদ।

এদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ফেরি চলাচলও ব্যহত হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাওয়া ফেরিঘাট থেকে মাওয়া-কাওরাকান্দি রুটের দু’পাশে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরী হয়েছে বলে জানা গেছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, পদ্মা নদীতে এধরণের পানির প্রবাহ আরো দু’দিন অব্যাহত থাকতে পারে।