তুবার সংকট নিয়ে বিভক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়ন

  • ৭ অগাস্ট ২০১৪
গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশুকে বৃহস্পতিবার কয়েক ঘন্টার জন্য আটক করে পুলিশ
গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশুকে বৃহস্পতিবার কয়েক ঘন্টার জন্য আটক করে পুলিশ

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত তুবা গার্মেন্টেসের বেতন-ভাতাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের একটি অংশ অপরপক্ষকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছে।

কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, শ্রমিক অধিকারকে পুঁজি করে কোন কোন সংগঠন আন্দোলন বজায় রাখতে চাচ্ছে।

বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতে অংসখ্য সংগঠন শ্রমিক অধিকার কতটা নিশ্চিত করতে পারছে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে নাগাদ তুবা কারখানার সাড়ে ১৪০০ শ্রমিকের মধ্যে প্রায় সকল শ্র্রমিক তাদের দুমাসের বকেয়া বেতন নিয়ে গেছে।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি পক্ষ চেয়েছিল তুবার শ্রমিকরা যাতে আংশিক বেতন না নেয়। কিন্তু ভিন্ন কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন মালিক ও সরকারের সাথে বৈঠক করে শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া বেতন দিতে একমত হয়।

গার্মেন্টস খাতে যে কোন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক সংগঠনগুলো একে অপরকে মালিকদের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করে। এসব সংগঠনের মধ্যে সন্দেহ আর অবিশ্বাস এতটাই প্রকট যে একটি পক্ষ কোন বিষয়ে একমত হলে অপরপক্ষ সেটিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে। তুবা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতাকে কেন্দ্র করে সেই সন্দেহ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সমন্বয়ক তাসলিমা আক্তার বলেন, যে সব শ্রমিক সংগঠন দুমাসের বকেয়া বেতন জন্য মালিকপক্ষের সাথে একমত হয়েছে তারা শ্রমিকদের আসল প্রতিনিধিত্ব করেনা।

তিনি বলেন যারা মালিকপক্ষের সাথে আশিংক বেতনের বিষয়ে একমত হয়েছে তাদের আন্দোলনের সময় শ্রমিকদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে দেখা যায়নি ।

তুবা গার্মেন্টসে পুলিশি অ্যাকশন
তুবা গার্মেন্টসে পুলিশি অ্যাকশন

কিন্তু বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা কামরুল আনাম মনে করেন, তারা শ্রম আইন মেনেই শ্রমিকদের ম্বার্থ রক্ষা করেছেন।

মি: আনাম বলেন, ''এটা দিয়ে তো আমরা বিপ্লব করবো না। শ্রমিকদের পাওনা আদায় করে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। এখানে তো আপত্তি থাকার কিছু নাই।''

তিনি বলেন যেসব সংগঠন এখনও আন্দোলন করছে তাদের শ্রমিক সংগঠন হিসেবে কোন নিবন্ধন নেই ।

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকখাতে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কতগুলো সংগঠন কাজ করছে তার সুনির্দ্দিষ্ট কোন হিসেব নেই। তবে শুধু রেজিষ্ট্রেশনধারী সংগঠনের সংখ্যা ৫০টির বেশি ।

সরকার এবং মালিকপক্ষের দিক থেকেও অভিযোগ রয়েছে যে, যেসব সংগঠন গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে তাদের অনেকেই এ খাতের সাথে জড়িত নয় । এই খাতের শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেক সংগঠন ফায়দা হাসিল করতে চায় বলেও মনে করে মালিকপক্ষ ।

কিন্তু তাসলিমা আক্তার বলেন, ''শারিরীকভাবে শ্রমিক হতেই হবে এমন কোন কথা নেই । শ্রমিক স্বার্থের পক্ষে যারা আছে তারাই সেখানে যেতে পারে।''

এই খাতের একজন গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সংগঠনেরই কিছু উদ্যোগ রয়েছে।

তবে শ্রমিকদের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে যাদের নানা রকম উদ্দেশ্য আছে বলে উল্লেখ করেন মি. মোয়াজ্জেম। সে কারণেই শ্রমিকরা অনেক সময় সঠিক নির্দেশনা পায় না বলে তিনি মনে করেন ।

তবে কারখানা ভিত্তিক শ্রমিক সংগঠন গড়ে উঠলে সেটি মালিক ও শ্রমিক উভয়ের স্বার্থের পক্ষে থাকবে বলে মি. মোয়াজ্জেম জানান।