বিএনপির দল পুর্নগঠন প্রক্রিয়া নিয়ে চাপ

  • ২৩ জুলাই ২০১৪
bnp rally
জয়পুরহাটে বিএনপির সাম্প্রতিক জনসভা (ফাইল চিত্র)

বাংলাদেশে অন্যতম একটি প্রধান দল বিএনপির নেতাদের অনেকেই বলেছেন, তাদের দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না।

দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ তিন বছর আগে শেষ হলেও জাতীয় কাউন্সিল করার ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের দলের ঢাকা মহানগরে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে।

এ বছরের শেষে জাতীয় কাউন্সিল করার চেষ্টা তাদের রয়েছে।

ঢাকা মহানগরীতে আগেও আহ্বায়ক কমিটি ছিল।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনে ঢাকায় তাদের দলের ভূমিকা সেভাবে ছিল না, এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরাই অনেক প্রশ্ন তুলেছিলেন।

সেই পটভূমিতে আগের কমিটির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা গত মার্চ মাসে সংবাদ সম্মেলন করে এই পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এখন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক করে ঢাকা মহানগর কমিটি করা হলো।

বিএনপির ঢাকা মহানগরীর সাবেক এবং বর্তমান—এই দু’জন নেতার মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়কেও বিএনপির অনেকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন।

অবশ্য বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির দায়িত্ব পাওয়ার দু’দিন পর সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন যে সংবাদ সম্মেলনেও গ্রুপিং বা দ্বন্দ্ব সর্ম্পকিত বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

তিনি বলছিলেন, বিএনপি একটি বড় দল হিসেবে নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। কিন্তু সেটা কোন গ্রুপিং নয়।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে না পেরে বিএনপি তাদের দল পুনর্গঠনের বিষয়কে সামনে এনেছিল। আবার সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পুনর্গঠনের দাবি উঠেছিল এই বিএনপির ভিতরেই।

দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছর আগে। অবশ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, এ বছরের শেষে জাতীয় কাউন্সিল করার চেষ্টা তাদের রয়েছে।

তিনি আরও বলছিলেন, “পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় আগের কমিটি ভেঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। সেই জেলাগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি একমাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করবে। ঢাকা মহানগরীতেও আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি করার জন্য। এসব শেষ হলে আমরা জাতীয় কাউন্সিল করবো।”

মি: আলমগীরের বক্তব্যে এটাও উঠে এসেছে যে, বছরের শেষে জাতীয় কাউন্সিল করার বিষয়টি নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর।

অন্যদিকে, বিএনপির আরেকজন নেতা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে বিএনপির দশটি জেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। কিন্তু এই জেলাগুলোতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও বেড়ে যাওয়ায় জেলাপর্যায়ে ঐ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউজ টুডে পত্রিকার সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, বিএনপিতে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেই সমস্যা রয়েছে। সেকারণে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না।

তিনি বলছিলেন, “বিএনপির ঢাকা মহানগরীর নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে এখন কাউন্সিল করতে হবে। এটা সফল হবে, এমনটা আমি মনে করি না। কিন্তু ঢাকা মহানগর কমিটি সফল না হলে, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দলটির পুরো পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার উপর।”

বিশ্লেষকরা এটাও মনে করেন, বিএনপির সংগঠন পুনর্গঠনের বিষয়ে সফল না হলে সামনে আন্দোলন গড়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য