র‍্যাব সংস্কারের উর্ধ্বে, দরকার বিলুপ্তি:এইচআরডব্লিউ

  • ২১ জুলাই ২০১৪
র‍্যাব
পুলিশের বিশেষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে র‍্যাবকে

বাংলাদেশে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব ভেঙ্গে দেয়ার জন্যে আরো একবার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ।

র‍্যাবকে ‘ডেথ স্কোয়াড’ বা ঘাতক বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে নিউইয়র্ক ভিত্তিক এই সংগঠনটি বাহিনীটি ভেঙ্গে না দেয়া পর্যন্ত এখান থেকে সেনা কর্মকর্তা ও সৈন্যদের প্রত্যাহার করে এটিকে পুরোপুরি একটি বেসামরিক বাহিনীতে পরিণত করার দাবি জানায়।

নারায়ণগঞ্জে গত এপ্রিলে সাত জনের হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গে এইচআরডব্লিউ উল্লেখ করে যে সরকার দলীয় একজন সদস্যের পক্ষে র‍্যার সেখান ‘ভাড়াটে খুনি’ হিসেবে কাজ করেছে বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর বাংলাদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আর র‍্যাব যে একটি ডেথ স্কোয়াড হিসেবে কাজ করছে, এটি তার আরো একটি উদাহরণ, বলছে এইচআরডব্লিউ।

সংগঠনটির এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, র‍্যাবের সংস্কার ও এটিকে জবাবদিহিমূলক করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

“র‍্যাব এখন সংস্কারের উর্ধ্বে এবং তাই দ্রুত এটিতে বিলুপ্ত করা উচিত,” বলেন ব্র্যাড অ্যাডামস।

একটি এলিট বাহিনী হিসেবে র‍্যাব গঠন করা হয় ২০০৪ সালে। এইচআরডব্লিউ অভিযোগ করছে, এর পর থেকে সরকারগুলো র‍্যাবের সব কাজের দায়মুক্তি দিয়ে আসছে।

র‍্যাব
দায়িত্ব পালন করছেন একজন র‍্যাব সদস্য

গত দশ বছরে আনুমানিক ৮০০ জনের মৃত্যু সহ অসংখ্য নির্যাতনের জন্যে র‍্যাব দায়ী বলে মনে করে সংগঠনটি।

এইচআরডব্লিউ’র এই চিঠির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কোন মন্তব্য করেনি।

তবে সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এই বক্তব্য বা প্রত্যাখান করেছেন।

তিনি বিবিসিকে বলেন, এ ধরণের বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক। আমাদের বেসামরিক পুলিশ বাহিনী রয়েছেই। আমাদের দেশের জন্য যা প্রযোজ্য, সেটাই আমরা করবো।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কাকে দিয়ে কী কাজ করা হবে, সেটা আমরা চিন্তা করেই করেছি। র‍্যাব বিলুপ্ত করার বা অন্য কোন চিন্তা এখন আমাদের নেই।

"র‍্যাব থাকবে নাকি থাকবে না, সেটা বাংলাদেশের ব্যাপার, অন্য কারও নয়," বলেন মি. খান।

গত এপ্রিলে এক বিবৃতির মাধ্যমে এইচআরডব্লিউ র‍্যাব বিলুপ্তির দাবী জানালে সরকার তখনও তা প্রত্যাখ্যান করেছিল।

সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, র‍্যাবের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে দেখা হয় এবং দু’একটি ঘটনার জন্যে কোন বাহিনী ভেঙ্গে দেয়া যায় না।