পুলিশী হেফাজতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু: এসআই রিমান্ডে

  • ১৭ জুলাই ২০১৪
bd_police_custory_death_remand
পুলিশ পাহারায় আদালতে এসআই জাহিদ

বাংলাদেশে ঢাকার মিরপুরে একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর পুলিশী হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের এসআই জাহিদুর রহমানকে আটক করার পর আজ পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ ব্যাপারে আটক হওয়া জাহিদুর রহমান এবং পুলিশের একজন সোর্সকে আজ মহানগর আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মিরপুর থানা পুলিশ বলেছে, গত শনিবার পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন মাহবুবুর রহমান সুজন নামে ঐ ব্যবসায়ীর মারা যাবার পর মৃতদেহের ময়না তদন্ত রিপোর্টে হত্যাজনিত কারণের কথা বলা হয়।

মৃত ব্যবসায়ীর আত্মীয়স্বজনরা সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন, চাঁদার দাবি না মানায় পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করলে তিনি মারা যান। পুলিশ অবশ্য বলেছে, মৃত্যুর কারণ 'আকস্মিক অসুস্থতা।'

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতে সম্প্রতি আইনশৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটেছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, পুলিশী হেফাজতে নির্যাতনে কারও নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মামলা করাসহ আইনগত প্রক্রিয়াগুলোতে জটিলতায় পড়তে হয়।

ঢাকার কাফরুল থানা পুলিশের হেফাজতে একজন যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেই যুবকের পরিবারের সদস্যরা নিজেরা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস না পেয়ে মানবাধিকার সংগঠনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মামলা হলেও দু’দশকেরও বেশি সময়ে তদন্তের অগ্রগতির কোন খবর তারা পাননি।

ঐ যুবকের বোন পারভিন হক বলছিলেন, “আমরা ব্লাস্ট নামের মানবাধিকার সংগঠনের সহয়তা নিয়ে মামলা করেছি। মামলায় সাত মাস ধরে পুলিশের তদন্তের কোন অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নির্যাতনে হত্যার বিষয় এসেছে। তখন তদন্ত কাজ সিআইডি পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল।দুই বছরে সিআইডি পুলিশে তদন্তেও কোন অগ্রগতির খবর আমরা পাইনি। আমরা বিচার পাব কিনা, সেটা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে।”

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নূর খান লিটন বলছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে কোন মৃত্যুর ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের মামলা করার ক্ষেত্রেই জটিলতায় পড়তে হয়। আর তদন্তের দায়িত্ব যেহেতু পুলিশের কাছে থাকে, ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপনের পর্যায়ে চলে যায়। তাদের পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র উঠে আসছে।

তিনি বলছিলেন, “দুএকটি ব্যতিক্রম ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণত: থানা মামলা গ্রহণ করে না। অনেকক্ষেত্র্রেই অভিযোগ বা মামলা করতে হয় আদালতে। তখন আদালত তদন্তের নির্দেশ দেয় পুলিশকে। আর সেই তদন্তে পুলিশ সদস্যরা তাদের অভিযুক্ত সহকর্মির ব্যাপারে এক ধরণের পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন।”

নূর খান লিটন উল্লেখ করেছেন, গত এক বছরে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ৩৫টির মতো ঘটনার ক্ষেত্রে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এগুলোর কোনটিরই এখনও প্রতিকার হয়নি।

সর্বশেষ ঢাকার মিরপুরে পুলিশী হেফাজতে ঝুট কাপড়ের এক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগের ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করেনি। মামলা করেছে পুলিশ।

দীর্ঘ সময় ধরেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশী তদন্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অবশ্য বলেছেন, “সারা বিশ্বেই কিন্তু এ ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে আদালতে মামলা হলে, তখন আদালত মনে করলে মামলার বাদীর পছন্দে পুলিশের অন্য বিভাগকে তদন্তের ভার দিতে পারেন।”

একইসাথে আইনমন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্ন যেহেতু উঠেছে, পুরো আইনগত প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠলে আইন অনুযায়ী যথাযত গুরুত্ব দিয়েই তারা ব্যবস্থা নেন।