স্লোভিয়ান্‌স্ক শহর পুনর্দখল করেছে ইউক্রেন

স্লোভিয়ান্‌স্কে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের অবস্থানগুলোর ওপর অব্যাহত বোমাবর্ষণ করেছে ইউক্রেন সামরিক বাহিনী

পূর্ব ইউক্রেন সরকারি বাহিনী সেখানকার রুশপন্থী বিদ্রোহীদের হাত থেকে স্লোভিয়ান্‌স্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করেছে। এই শহরটি রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি অন্যতম প্রধান ঘাঁটি ছিল ।

তবে অব্যাহত সরকারি অভিযানের মুখে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্লোভিয়ানস্ক শহর থেকে সরে গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেংকো আজ স্লোভিয়ান্‌স্কের সিটি হল ভবনের ওপর জাতীয় পতাকা ওড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়ছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে শহরটির ঠিক কতখানি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে তা স্পষ্ট নয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, স্লোভিয়ান্‌স্ক শহরের ওপর সারারাত ধরে সরকারি বাহিনী বোমা বর্ষণ করেছে।

সকালে বিদ্রোহীদের বসানো তল্লাশি চৌকিগুলো ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বিদ্রোহীদের সমর্থনপুষ্ট স্লোভিয়ান্‌স্কের মেয়র ভ্লাদিমির পাভলেংকো বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা ইতোমধ্যে এই শহর ছেড়ে চলে গেছে। তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এখনো শহরটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন সেনাবাহিনী ও ন্যাশানাল গার্ড স্লোভিয়ান্‌স্ক শহরে তৎপরতা শুরু করেছে

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরেশেংকো জানান, সেনাবাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ড স্লোভিয়ানস্ক শহরে তৎপরতা শুরু করেছে। তবে শহরের কতটা অংশ আসলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা পরিস্কার নয়।

ইউক্রেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এন্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের মুখপাত্র আন্দ্রি লিসেংকো বলেছেন, সেনাবাহিনী শুক্রবার রাতভর সেখানে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করেছে, শহরে এখনো বিদ্রোহীরা লুকিয়ে আছে।

মিঃ লিসেংকোর ভাষায়, স্লোভিয়ান্‌স্ক শহর এখন অবরুদ্ধ।

শহরের শান্তিপ্রিয় মানুষদের মধ্যে বিদ্রোহীদের ছোট ছোট দল বিভিন্ন ভবনে লুকিয়ে আছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে যাতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

দনিয়স্কে বিদ্রোহীদের স্বঘোষিত এক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দার বরোদাই তাদের ওয়েবসাইটে স্বীকার করেছেন যে, শত্রুরা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় তাদের লোকজন শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

শহরটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে পড়ার পর তা আবার কার্যকর করার জন্য গত সপ্তাহে জোর কূটনৈতিক চেষ্টা চলে।

জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলে। তবে ইউক্রেন শর্ত দেয় যে এই যুদ্ধবিরতির আগে সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে এবং সীমান্তে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।