ইরাকের জঙ্গি মোকাবেলায় সাহায্য করতে চায় ইরান

  • ১৪ জুন ২০১৪
hassan rouhani
তেহরানে একটি সংবাদ সম্মেলেন বক্তব্য রাখেন ইরানী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

আল-কায়দার সাথে ঘনিষ্ঠ আইসিসের ইসলামপন্থী জঙ্গিরা উত্তর ও পশ্চিম ইরাকের বিস্তৃত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নূরী আল-মালিকি তার সামরিক কমান্ডারদের সাথে বৈঠক করেছেন।

রাজধানী বাগদাদের কাছে সামারায় আজকের এই বৈঠকে তিনি বলেছেন, জঙ্গিদের প্রতিরোধে এখন স্বেচ্ছাসেবীরাও সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে শহরে জড়ো হতে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ইরানের প্রেসিডেন্ট বলছেন, জঙ্গিদের মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে তার দেশ প্রস্তুত।

আলকায়েদা সংশ্লিষ্ট উগ্রপন্থী সুন্নি জিহাদি গ্রুপ ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ডে আলশাম - বা আইসিসের জঙ্গিদের অব্যাহত অগ্রাভিযান মোকাবিলার লড়াইয়ে ইরাকে নূরী আল মালিকির সরকার সামারাকে একটা ঘাটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

এ জন্য শুধু সেনাবাহিনী নয়, স্বেচ্ছাসেবকরাও দলে দলে যোগ দিচ্ছে।

অবশ্য জিহাদিরা ইতিমধ্যে ফালুজা , মসুল, তিকরিত সহ উত্তর ইরাকের বহু এলাকা দখল করে নিলেও গতকালই এরকম আভাস পাওয়া যাচ্ছিল যে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ পূর্ব ইরাকের ভেতরে অভিযান চালানো হবে কিনা এ নিয়ে জিহাদিদের মধ্যেই মতভেদ আছে।

বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, জিহাদিরা আপাতত রাজধানী বাগদাদের দিকে তাদের অগ্রাভিযান বন্ধ রেখেছে বলেই মনে হচ্ছে।

সুন্নি বিদ্রোহীরা ইরাকের বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে - এমন খবর বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এছাড়াও এর মধ্যে খবর বেরিয়েছে যে ইরাকের শিয়াদের সহায়তা করতে তাদের মিত্র পার্শ্ববর্তী ইরানের সৈন্যরা ইতিমধ্যেই ইরাকের ভেতরে সক্রিয় রয়েছে। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসার রুহানি এ কথা অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে মি রুহানি বলেছেন আইসিসের জিহাদিদের মোকাবিলার জন্য ইরান ওয়াশিংটনের সাথেও সহযোগিতা করতে তৈরি আছে।

তবে আইসিস-এর সুন্নি জিহাদিরা শিয়াদের কাফের বলে মনে করে। তারা সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নানা ভাবে স্থানীয় লোকদের হুমকি দিচ্ছে ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে খবর বেরুনোর পর ইরাকি সরকার এগুলো বন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছে।