বিজ্ঞানের আসর

১০ জুন ২০১৪ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ১৬:১৯ বাংলাদেশ সময় ১০:১৯ GMT

বাংলাদেশে প্রতি বছর খেজুরের রস খেয়ে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন অনেক মানুষ, কিন্তু বনাঞ্চল উজাড়ের সঙ্গে নিপা ভাইরাসের সম্পর্ক কি?

খেজুরের রসের মাধ্যমে ছড়ায় নিপা ভাইরাস

একজন মার্কিন গবেষক দাবি করছেন, বাংলাদেশে বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলেই বাড়ছে নিপা ভাইরাসের বিস্তার।

নিপা ভাইরাস এক প্রাণঘাতী রোগ। বাংলাদেশে এই রোগ মূলত ছড়ায় বাদুড়ের মাধ্যমে। আক্রান্তদের প্রায় আটাত্তর শতাংশই এতে মারা যায়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে নিপা ভাইরাসের বিস্তার।

বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলাতেই যেহেতু আগে এই ভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটতো, গবেষকরা এই পুরো এলাকাটির নাম দিয়েছিলেন নিপা বেল্ট। এই নিপা বেল্টেও আবার দেখা গেছে কিছু গ্রামে নিপা ভাইরাসের প্রকোপ বেশি, আবার কিছু গ্রাম পুরোপুরি মুক্ত। কেন এই ভাইরাসের প্রকোপ কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় বেশি, অন্য এলাকায় কম বা একেবারেই নেই, তা অনেকদিন ধরেই গবেষকদের কাছে একটা ধাঁধাঁ। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক মিকা হান বিষয়টি নিয়ে কৌতুহলি হলেন।

“আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম এই বাদুড়ের বসতি নিয়ে একটা জরিপ করার জন্য, আমি দেখতে চেয়েছি তারা ঠিক কোথায় থাকে। যাতে করে আমরা বুঝতে পারি, মানুষের মধ্যে যে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে, তার সঙ্গে এর কী সম্পর্ক। আমরা জানি যে বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই বাদুড় আছে, এবং সব অঞ্চলেই লোক খেজুরের রস সংগ্রহ করে। তাহলে কেন কেবল কয়েকটি অঞ্চলের মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।”

গবেষক মিক হান এবং তাঁর সহকর্মীরা বাংলাদেশের নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত এলাকায় বাড়ী বাড়ী জরিপের পাশাপাশি ইনফ্রা রেড ক্যামেরা দিয়ে রাতের বেলা বাদুড়ের গতিবিধির ওপরও নজর রাখলেন। তাদের গবেষণার ফলটি ছিল চমকপ্রদ।

“আমি দেখলাম, যেসব এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে, বাংলাদেশের সেসব এলাকার প্রকৃতি অন্য এলাকা থেকেই অনেকটাই আলাদা। যেমন এসব এলাকায় বনভূমি খুবই কম, যেটুকু আছে তাও খন্ড খন্ড। মানুষের বসতি আর কৃষি জমির ফাঁকে ফাঁকে হয়তো এক চিলতে করে বনভূমি। এছাড়া নিপাহ বেল্টে জনবসতির ঘনত্বও তুলনামূলকভাবে বেশি। আর নিপাহ বেল্টের ভেতরে যেসব গ্রাম, সেসব গ্রামের ভেতরে বাদুড়ের বসতিও অনেক বেশি। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এসব গ্রামের মানুষ অনেক বেশি বাদুড়ের সংস্পর্শে আসছে। এমন সম্ভাবনাও বেশি যে মানুষ এবং বাদুড় একই গাছের ফল খাচ্ছে, উড়ে গিয়ে খেজুর গাছে বসছে বাদুড়। এর ফলে বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের আশংকা অনেকগুন বেড়ে যাচ্ছে।”

মিকাহ হান বলছেন, তাদের গবেষণায় এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে যে বনাঞ্চল উজাড়ের সঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের বিস্তারের একটা সম্পর্ক রয়েছে। তারা দেখেছেন, কোন এলাকায় যখন দশ শতাংশ বনাঞ্চল উড়াড় হচ্ছে, সেই এলাকায় নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর আশংকা দ্বিগুন বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনষ্টিটিউটের পরিচালক ডাঃ মাহমুদুর রহমান অবশ্য মিকা হানের এই গবেষণার সঙ্গে কিছুটা দ্বিমত প্রকাশ করলেন। তিনি জানান, নিপা ভাইরাসের বিস্তার এখন আর কোন নির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত করা যাচ্ছে না, কারণ নিপাহ বেল্টের বাইরেও এর সংক্রমন তার দেখতে পাচ্ছেন।

চাঁদের জন্ম রহস্য

পৃথিবীর সঙ্গে অন্য গ্রহের সংঘর্ষে চাঁদের জন্ম

বহু শত কোটি বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে সংঘাত হয়েছিল ভিন্ন কোন গ্রহের, আর সেই সংঘর্ষ থেকেই জন্ম পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের। বিজ্ঞানীরা সেই আশির দশক থেকেই চাঁদের জন্ম সম্পর্কে এই তত্বই বিশ্বাস করে আসছেন। তবে এই প্রথম এর পক্ষে কিছু প্রমাণ তারা পেয়েছেন।

নাসার অ্যাপোলো মিশন প্রায় চল্লিশ বছর আগে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে যেসব প্রস্তরখন্ড নিয়ে এসেছিল, সেসব নিয়ে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ‘জার্নাল অব সায়েন্সে’ সেই পরীক্ষার ফল তারা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, চাঁদের প্রস্তরখন্ডে তারা এমন কিছু পদার্থের অস্তিত্ব পাচ্ছেন, যা ভিন্ন গ্রহ থেকে এসেছে বলেই তারা ধারণা করছেন। গবেষকদলের একজন সদস্য গোয়েটিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক অ্যান্ড্রিয়াস প্যাক বিষয়টি ব্যাখ্যা করছিলেন।

“এই গ্রহটির নাম থিয়া। এটি আকারে প্রায় মঙ্গল গ্রহের সমান। সম্ভবত সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে এটির সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষ হয়। নাসার এ্যাপোলো মিশন চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে যে পাথরখন্ড নিয়ে এসেছিল, সেগুলো আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি। আমরা এগুলোর সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন পাথরের তুলনা করেছি। আমরা এই দুয়ের মধ্যে অল্প পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি। এর মানে দাঁড়ায় চাঁদের পাথরখন্ডে বাইরের কোন উপাদান আছে। আমরা মনে করছি এই ভিন্ন উপাদান এসেছে থিয়া গ্রহ থেকে, যেটির সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষ হয়েছিল।

তবে এই গবেষণার ফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অন্য অনেক বিজ্ঞানী। বিশেষ করে তারা, যারা বিশ্বাস করেন, চাঁদের জন্ম এরকম কোন সংঘর্ষে হয়নি, বরং পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার গভীর থেকে উৎক্ষিপ্ত পারমানবিক বস্তুকণা থেকেই আসলে চাঁদের সৃষ্টি।