'র‍্যাবের অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে'

  • ১২ মে ২০১৪
নারায়ণগঞ্জে তদন্ত কমিটির গণশুনানি
নারায়ণগঞ্জে তদন্ত কমিটির গণশুনানি

বাংলাদেশে হাইকোর্টের নির্দেশের পর একদিন পার হলেও র‍্যাবের সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তবে সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিবিসিকে বলেছেন, গ্রেফতারের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগের সূত্র ধরে র‍্যাবের স্থানীয় তিনজন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়।

কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে একটি রিট মামলায় হাইকোর্ট র‍্যাবের ঐ তিনজন কর্মকর্তাকে সন্দেহবশত: আটকের ৫৪ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশের পরদিন পুলিশ আটকের প্রক্রিয়া চালানোর কথা বলেছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “র‍্যবের ঐ তিনজন কর্মকর্তা নজরদারিতে আছে। ৫৪ ধারায় তাদের আটকে প্রক্রিয়া চলছে। তারা সেনাবাহিনী থেকে র‍্যাবে ডেপুটেশনে এসেছিলেন। ফলে তাদের আটকের জন্য সেনাবাহিনীর প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হচ্ছে।”

তবে হত্যা মামলায় কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ যে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল তাদের কাউকেই পুলিশ এখনও ধরতে পারেনি। এদের কয়েকজনের ব্যবসায়ীক বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছিল।

কিন্তু এই ছয়জনের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না। পুলিশ এখন বলছে, মামলায় অভিযুক্ত ছয়জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে তারা পেয়েছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, ব্যাংক হিসেব জব্দ করার পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি এই ছয়জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে পুলিশের তদন্তে অবসরে যাওয়া র‍্যাবের তিনজন কর্মকর্তা ছাড়াও র‍্যাবের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড: খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, তাদের তদন্তে সন্দেহভাজন সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত বলতে রাজি নন।

ওদেক, হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি সোমবার নারায়ণগঞ্জে গণশুনানি করেছে।

এতে ক্ষতিগ্রস্তদের আত্নীয় স্বজন এবং আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার ছয় জনের মতো কমিটির কাছে গিয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছে।

তবে এ ধরণের গণ শুনানির মাধ্যমে এই তদন্ত কমিটি কি পেতে চাইছে, সেটা পরিস্কার নয়।