বার্মার শিবিরে দুর্দশাগ্রস্ত গৃহহীন রোহিঙ্গারা

৪ মে ২০১৪ শেষবার আপডেট করা হয়েছে ০১:৪৫ বাংলাদেশ সময় ১৯:৪৫ GMT

বার্মার শিবিরে দুর্দশাগ্রস্ত গৃহহীন রোহিঙ্গারা
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
বার্মায় বৌদ্ধ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ২০১২ সালের সহিংসতায় গৃহহীন অন্তত ১ লক্ষ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বার্মা বা বর্তমানে মায়নমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন প্রদেশের অস্থায়ী শিবিরে যে অসহায় অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন সে বিষয়ে ত্রাণ সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
বাস্তুচ্যুত মুসলমানরা প্রচন্ড গরমে এবং ওষুধ ও খাদ্যের অভাবে কষ্টকর জীবন কাটাচ্ছেন। রাখাইন প্রদেশের রাজধানী সিতওয়ে থেকে এই শিবিরগুলো নৌকায় দুঘন্টার পথ। এই ছবির শিশুটি চামড়ার সংক্রমণে ভুগছে।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
রাখাইনের পাউক-তো-য় দেশের ভেতরে বাস্তুহারাদের জন্য এই শিবিরে এক মায়ের কোলে তার তিন মাসের মৃত শিশু। মৃত আসোমার মা গরিমা রয়র্টাসকে বলেন, “সাহায্য করার কেউ এখানে থাকলে আমার মেয়েটা হয়ত বেঁচে যেত।“
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
রাখাইন প্রদেশের ওই এলাকায় ৫ লাখের ওপর রোহিঙ্গাকে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছিল যে সংস্থা মেদিসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ে- হল্যান্ড- মায়ানমার সরকার তাদের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশ থেকে বহিষ্কার করে- কারণ সংস্থাটি বলেছিল তারা যেসব মুসলমানকে চিকিৎসা-সেবা দিয়েছে তারা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ওই এলাকায় বৌদ্ধ সহিংসতার শিকার।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
বিদেশী এক ত্রাণ কর্মী বৌদ্ধদের পতাকার অবমাননা করেছে এমন এক গুজব ছড়ানোর পর রাখাইনে ক্রুদ্ধ জনতা জাতিসংঘ এবং কিছু এনজিও দপ্তরে হামলা চালানোর পর অন্য ত্রাণ সংস্থাগুলোও গত মাসে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। ফলে ৫৪বছরের এই যক্ষ্মা আক্রান্তকে চিকিৎসা দেওয়ার কেউ নেই।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
এই মূহুর্তে শিবিরগুলোতে খাদ্য বিতরণ করছে শুধু ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম। প্রদেশের সরকারি জরুরি ত্রাণ সমন্বয় কেন্দ্রে কর্মরত রাখাইন নেতারা অন্য সংস্থাগুলো যারা সেখানে কাজ করতে চায় তাদের জন্য কঠিন শর্ত বেঁধে দিয়েছে।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
মায়ানমারে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রধান ইর্য়গ মন্তানি বিবিসিকে বলেছেন বিদেশী ত্রাণ সংস্থাগুলো সেখানে ফেরত যেতে পারছে না, কারণ রাখাইনের স্থানীয় মানুষরা এলাকায় তাদের উপস্থিতি চায় না। তিনি বলেছেন শিবিরগুলোতে এমন একটা ভয়ের পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে শরণার্থীরা চিকিৎসার জন্য সিতওয়ের হাসপাতালে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
আন্তর্জাতিক সাহায্যের অভাবের কারণে শিবিরের মুসলমান শরণার্থীরা নিজেরাই তাদের ওষুধ জোগাড় করছেন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো আশা করছে সরকার শিগগিরি এনজিও-গুলোকে সেখানে তাদের পূর্ণ কার্যক্রমে ফেরত যাওয়ার অনুমতি দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
কিন্তু প্রতিদিনের বিলম্বের অর্থ হল ঠেকানো সম্ভব এমন মৃত্যুকে এগিয়ে আনা। সেখানে স্বাস্থ্য সমস্যার সঠিক হিসাব দেওয়ার মত কোন সংস্থা কাজ করছে না। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ক লিভিউ ভেদ্রাস্কো রয়র্টাসকে বলেছেন ত্রাণ সংস্থাগুলো এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত প্রতিদিন ১০জন সঙ্কটজনক রোগীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হত।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
রাখাইনের কিইন নিপিন্‌ শরণার্থী শিবিরে ৪৬০০ রোহিঙ্গা পুলিশ প্রহরায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অবাধ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। সরকারের বিবেচনায় এরা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। বিদেশী একজন ত্রাণকর্মী রয়র্টাসের কাছে গোটা এলাকাটি ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বা ‘বন্দী শিবির’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
রাখাইনের শরণার্থী শিবির
আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন মায়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের অধিকারের পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন সেখানে মুসলমানদের ওপর দমনপীড়ন চালালে সে দেশ ‘সাফল্যের পথে হাঁটতে ব্যর্থ হবে’।