রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি

  • ২৬ এপ্রিল ২০১৪
g7 meeting
জি সেভেন নেতাদের বৈঠক

শিল্পোন্নত দেশগুলোর গোষ্ঠী জি সেভেন-এর নেতারা বলেছেন, তারা রাশিয়ার ওপর সুনির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে একমত হয়েছেন।

তারা বলছেন, ইউক্রেন সঙ্কটে রাশিয়ার ভূমিকার কারণে এসব নিষেধাজ্ঞায় আর্থিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ থাকবে - তবে তা শুধু এতেই সীমিত থাকবে না।

জি সেভেন বলছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদীদের রাশিয়া অব্যাহতভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে।

রাশিয়া অবশ্য বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ক্যানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, জাপান, ব্রিটেন ও আমেরিকা, সেইসঙ্গে ইউরোপিয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপিয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট তাদের বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন রাশিয়ার মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পূর্ব ইউক্রেনকে অস্থিতিশীল করে তোলার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

তাদের অভিযোগ ক্রাইমিয়াকে রাশিয়ার অংশ করে নেওয়ার পর এখন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত জোগাচ্ছে। রাশিয়া অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করছে।

russian roubles
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার জেরে রাশিয়ার অর্থনীতি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

জি সেভেন নেতারা বলেছেন সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে জেনিভায় ১৭ই এপ্রিল ইউক্রেন, রাশিয়া, ইইউ এবং আমেরিকার মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল তার শর্ত পূরণে রাশিয়া ইতিবাচক ও গঠনমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয় নি। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যকলাপের নিন্দা রাশিয়া করে নি অথবা সশস্ত্র জঙ্গীদের সরকারি ভবনের দখল ছেড়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলে যাওয়ার জন্য আহ্বানও রাশিয়া জানায় নি বলে বিবৃতিতে অভিযোগ তুলেছেন জি সেভেন নেতারা।

তারা বলেছেন খুব দ্রুতই রাশিয়ার বিরুদ্ধে তারা আরো কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন, যদিও দ্রুত বলতে ঠিক কখন থেকে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হবে তা তারা স্পষ্ট করে বলেন নি।

তবে হোয়াইট হাউসের সূত্র বলছে সোমবার থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

জি সেভেন বিবৃতিতে বলা হয়েছে ২৫শে মে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে একটা স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা খুবই জরুরি, যাতে সফল এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার একটা বড়ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই রাশিয়ার অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

তবে জি সেভেন নেতারা বলেছেন জেনিভা চুক্তির ভিত্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা আছে।