ঢাকা বিমানবন্দরে সোনার একটি বড় চালান আটক

gold bar
বাংলাদেশে সম্প্রতি চোরাচালানকৃত সোনা আটকের ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়েছে (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ চোরাচালানকৃত স্বর্ণের একটি বড় চালান আটক করা হয়েছে।

১০৫ কেজি ওজনের সমপরিমাণ ৯০৪টি সোনার বারের এই চালানটি পাওয়া যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজের কয়েকটি টয়লেটের ভেতর।

বলা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম আটককৃত সোনার চালান।

এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিমানের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে চোরাচালানকৃত সোনা আটকের ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতে সোনার উপর উচ্চহারে করারোপ করায় দেশটিতে সোনা চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এজন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারীরা।

বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোতে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখানো হচ্ছিল, আটককৃত সোনার বারগুলো টেবিলের উপর থরে থরে সাজিয়ে রাখছেন কর্মকর্তারা। প্রতিটি বারের ওজন দশ তোলা এবং মোট নয়শো চারটি সোনার বার সেখানে।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি জিরো ফাইভ টু-এর ভেতর থেকে বের করে আনা হয়েছে এসব সোনার বার। বিমানটির সাতটি টয়লেটের ভেতরে কমোডের পেছনে লুকানো ছিল কালো কাপড়ে মোড়া এসব সোনার বার।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলছেন, যারাই এই স্বর্ণ উড়োজাহাজটির মধ্যে লুকিয়ে রাখুক না কেন, তারা অত্যন্ত দক্ষ এবং বাংলাদেশ বিমানের খুঁটিনাটি তাদের জানা, সেই সাথে বিমানের উড়োজাহাজগুলোতে তাদের অবাধ যাতায়াতও রয়েছে।

''এটুকু বলতে পারি, এই বিমানে যারা এনজিনিয়ারিং-এ কাজ করেন, যারা বিমানের ভেতরে যেতে পারেন, বিমানের স্ক্রুগুলো খুলতে পারেন, নিশ্চয়ই তারাই এই কাজ করেছেন এবং যথেষ্ট সময় এতে লেগেছে।''

এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশ বিমানের মেকানিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট মো: আনিসুদ্দীন ভূঁইয়াকে আটক করা হয়েছে। তাকে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের জিম্মায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এবারের এই চালানটি বাংলাদেশে চোরাচালানকৃত স্বর্ণ আটকের তৃতীয় বৃহত্তম ঘটনা। এর আগে সবচেয়ে বড় চালানটি আটক করা হয়েছিলো এই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই, গতবছরের শেষভাগে। ওই চালানটি ছিল ১৩৪ কেজি-র।

গতকাল বৃহস্পতিবারও ঢাকার বিমানবন্দর থেকে ৫০ কেজির একটি চালান আটক করা হয়।

প্রকৃতপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে প্রায়ই চোরাই সোনার চালান আটক করা হচ্ছে। গত এক বছরে বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুল্ক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট দুই হাজার কেজি চোরাচালানকৃত সোনা আটক করেছে বলে বলছিলেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোতাজ্জের হোসেন।

''এই ট্রেন্ডটা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন ১৩ কেজি স্বর্ণ আটক করা হয়। ওই সময়ে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ ঢুকবে এরকম তথ্য আমাদের কাছে ছিল। সেই সময় থেকে আমরা বিভিন্ন অভিযান চালাই এবং স্বর্ণগুলো ধরা পড়তে থাকে।''

মিঃ হোসেন এও বলছেন, বাংলাদেশে যে পরিমাণ সোনা পাচার হয়ে আসছে, দেশটির বাজারে স্বর্ণের চাহিদা এত নয়। তাহলে এত সোনা কোথায় যাচ্ছে?

মূলত ভারতই হচ্ছে এসব সোনার গন্তব্য। বিমানবন্দরগুলো থেকে বিভিন্ন স্থলবন্দর হয়ে ছোট ছোট চালান হিসেবে ভারতে চলে যাচ্ছে এসব সোনা। রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলছেন,

''সাম্প্রতিক সময়ে ভারত স্বর্ণ আমদানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। স্বর্ণের একটা মূল্য বেধে দিয়েছে ভারত - সেটা প্রতি ১০ গ্রামের দাম প্রায় ৪২১ ডলার। এছাড়াও প্রতি ১০ গ্রাম আমদানিকৃত স্বর্ণের ওপর বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০০০ টাকা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে এই শুল্ক মাত্র ১৫০ টাকারও কম।''

তিনি বলছেন, ''ভারত ও বাংলাদেশে আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রে বিরাট তফাতের কারণেই হয়ত ভারতে সোনার চোরাচালান এত ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে।''

গোলাম হোসেন বলছেন, ভারতে চোরাচালানের ট্রানজিট বন্ধ করার জন্য এখন বাংলাদেশেও স্বর্ণের উপর শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

আগামী সপ্তাহেই এ ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেও পৌছানো সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।