রানা প্লাজার বার্ষিকীতে লন্ডনের রাস্তায় বিক্ষোভ

  • ২৪ এপ্রিল ২০১৪
অক্সফোর্ড স্ট্রীটে রানা প্লাজার ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি এবং রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বৃহস্পতিবার লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রীটে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন।

দুপুর বেলা অক্সফোর্ড স্ট্রীটে একটি মার্কিন পোশাক ব্র্যান্ড গ্যাপের স্টোরের সামনে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটির আয়োজন করা হয়। একটি ব্রিটিশ চ্যারিটি ওয়ার অন ওয়ান্ট’ এবং দুটি ক্যাম্পেইন গ্রুপ ‘লেবেল বিহাইন্ড দ্য লেবার’ এবং ‘মেড ইন ইউরোপ’ যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে।

শ'খানেক বিক্ষোভকারী গ্যাপের সামনে বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন।

রানা প্লাজার ভবন ধসের ভয়াবহতা তুলে ধরতে সেখানে ফুটপাতে তারা কংক্রিটের ভাঙ্গা টুকরো, ইঁট এসব দিয়ে একটা অস্থায়ী বেদী তৈরি করেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের চিত্র তুলে ধরতে।

বিক্ষোভকারীরা এরপর অক্সফোর্ড স্ট্রীট বরাবর একটা মানববন্ধনও তৈরি করেন। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সেখানে বক্তৃতা করেছেন।

স্পষ্ট বার্তা

রানা প্লাজার বার্ষিকীতে অক্সফোর্ড স্ট্রীটে বিক্ষোভ

ওয়ার অন ওয়ান্টের ক্যাম্পেইন ডিরেক্টর জেফ পাওয়েল বললেন, রানা প্লাজার প্রথম বার্ষিকীতে তাঁদের বার্তাটা স্পষ্ট, এ ধরণের দুর্ঘটনার দায় বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো এড়াতে পারে না।

“বড় বড় ব্র্যান্ড আর খুচরো বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের দায় শোধ করতে হবে, গ্যাপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ সেফটি একর্ডে সই করতে হবে। এরকম দুর্ঘটনায় যারা নিহত বা আহত হচ্ছেন তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা গ্যাপের সামনে এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছি এই কারণে যে তারা বাংলাদেশ থেকে প্রচুর কাপড় কেনে, অথচ তারা বাংলাদেশ সেফটি একর্ডে সই করেনি। শুধু গ্যাপ নয়, আমরা চাই অ্যাসডা, ওয়ালমার্টের মতো মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো এই চুক্তিতে সই করুক।”

বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল রানা প্লাজা ধসে নিহত এবং আহত শ্রমিকদের পরিবারের বড় বড় ছবি। কীভাবে এই দুর্ঘটনা শত শত পরিবারকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে, সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা। বাংলাদেশ থেকে আসা একজন শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিনও সেখানে ব্ক্তৃতা করেন।

মিস্টার আমিন তাঁর বক্তৃতায় অভিযোগ করেন যে অনেক পশ্চিমা ব্র্যান্ড ক্ষতিপূরণের জন্য অর্থ দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো তা পালন করেনি। বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে ন্যায্য মজুরি এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার যাতে নিশ্চিত করা হয় সেটারও দাবি জানান তিনি।

ভোক্তাদের দায়

অক্সফোর্ড স্ট্রীটে এই বিক্ষোভ দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছিলেন যে পথচারীরা, তাদের অনেকে খোলাখুলিই স্বীকার করলেন, যে কাপড় তারা কেনেন, সে কাপড় কোথায় কীভাবে তৈরি হয়, সেটা সম্পর্কে তারা আসলে খুব বেশি জানেন না।

তবে ব্যতিক্রমী ক্রেতাও আছেন। একজন ক্রেতা বললেন, ব্র্যান্ডের পাশাপাশি কী পরিবেশে পোশাক তৈরি হচ্ছে, সেটাও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

‘আমি ভালো ব্র্যান্ডের পোশাক কেনার চেষ্টা করি, যারা এমন কারখানায় পোশাক তৈরি করে, যেখানে কাজের সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ আছে’, বলছিলেন একজন ক্রেতা।

তবে ওয়ার অন ওয়ান্টের মতো গ্রুপগুলো বলছে, কারখানায় নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য , ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতাই যথেষ্ট নয়। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোকে আইনগত ভাবে বাধ্য করে, যাতে তারা এমন কারখানায় পোশাক তৈরি করায়, যেখানে নিরাপদ কাজের পরিবেশ আছে, যেখানে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পান, এবং তাদের পূর্ণ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার আছে।