BBC navigation

মুন্সিগঞ্জে সরকারি উদ্যোগে গার্মেন্টস পল্লী

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 23 এপ্রিল, 2014 16:09 GMT 22:09 বাংলাদেশ সময়
garment safety

বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে

চীনের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে গার্মেন্ট পল্লী গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশের সরকার।

ইতোমধ্যে এই পল্লী গড়ে তোলার জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়েছে।

সরকারের তরফ থেকে এই পল্লীর জন্য ৫৩০ একর জমি গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকে দেয়া হলেও তারা বলছে জমি অধিগ্রহণের জন্য ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন এবং এর জন্য তারা সরকারের সহযোগিতা চান।

তাদের দাবির প্রেক্ষাপটে সরকার এখন গার্মেন্ট পল্লী নির্মাণে চীনের সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

দীর্ঘ অনেক দিন ধরেই গার্মেন্ট শিল্পের জন্য একটি আলাদা পল্লী গঠনের বিষয়টি নানা ভাবে আলোচিত হয়েছে।

"গজারিয়ায় ৫৩০ একর জমিতে একটি গার্মেন্টস শিল্প পল্লী স্থাপনের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।"

মাহবুবুল হক শাকিল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

গত বছর রানা প্লাজা ভবন ধসের পর বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তখন আবার আলোচনায় আসে এই গার্মেন্টস পল্লীর বিষয়টি যেখানে আর্ন্তজাতিক মান মেনে শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ নানাবিধ সুবিধা থাকবে।

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন গার্মেন্ট শিল্প কারখানাগুলোকে এখানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও করা হয়।

বৃহস্পতিবার ২৪শে এপ্রিল রানাপ্লাজা ধসের এক বছর হতে যাচ্ছে এবং এই দিনটিকে সামনে রেখে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের বিবরণ দেয়া হয়েছে।

একই সাথে আবার উঠে এসেছে এই পল্লীস্থাপনের বিষয়টিও। প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম বিষয়ক বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল বলছেন, এখন গার্মেন্ট পল্লী নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

''প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালককে প্রধান করে একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং গজারিয়ায় ৫৩০ একর জমিতে একটি গার্মেন্টস শিল্প পল্লী স্থাপনের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। এই পল্লী স্থাপিত হলে আমরা শ্রমিকদের জন্য কর্মসহায়ক একটি ভাল পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো,'' বলছেন মাহবুবুল হক শাকিল।

"জমির মালিকদের আমাদের দাম বাবদ ৮০০ কোটি টাকা দিতে হবে। এই টাকা জোগাড় করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না।"

মো. শহিদুল্লাহ আজিম, বিজিএমইএ সহসভাপতি

তবে গত বছর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার বাউশিয়াতে সরকারের পক্ষ থেকে জমি বরাদ্দ দেয়ার পর বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে বিশ্বব্যাংক, জাইকাসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিদের সাথে আলোচনা চলে।

কিন্তু বহুপাক্ষিক দাতারা কোনো প্রতিষ্ঠানকে নয় বরং সরকারকেই ঋণ দিতে চাইলে বিজিএমইএর পদক্ষেপ আর এগোয়নি।

বিজিএমইএর সহসভাপতি মো শহিদুল্লাহ আজিম বিবিসি বাংলাকে বলেন মি আজিম বলেন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় দশ লক্ষ লোক চাকুরি করবেন এবং সেখানে ছোটবড় মিলিয়ে ৫১৭ টি ইউনিট হবে যা থেকে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হবে। তাই শেষ পর্যন্ত তারা আবারো সাহায্য চাইছেন সরকারের।

"চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। স্বল্পসুদে এখানে গার্মেন্ট পল্লী নির্মাণে তারা অর্থায়ন করবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।"

তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্যমন্ত্রী

''অধিগ্রহণের কাজ হচ্ছে ভাল- কিন্তু জমির মালিকদের আমাদের দাম বাবদ ৮০০ কোটি টাকা দিতে হবে। এই টাকা জোগাড় করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। আমরা সরকারের কাছে বলেছি আমাদের কম সুদে এই টাকা দিতে। তাহলে আমরা আস্তে আস্তে এটা শোধ করে দেব। জমিটা এখন ১৪ ফিট পানির নিচে আছে।''

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এমন দাবির মুখে সরকার এখন চেষ্টা করছে দাতাদের সহযোগিতা নেয়ার। ইতোমধ্যে চীন এ বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলছিলেন কীভাবে তারা এখন অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে এগুচ্ছেন।

''জমির উন্নয়ন করতে গতকালই আমি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। তারা চীনের সাথে কথা বলবে। চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। স্বল্পসুদে এখানে গার্মেন্ট পল্লী নির্মাণে তারা অর্থায়ন করবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। ব্যাংক থেকে বিনা সুদে অর্থ দেয়ার বিষয়টিও আমাদের চিন্তায় আছে। চীন থেকে না পেলে সেটা বিবেচনা করবো।''

মিঃ আহমেদ জানান প্রকল্পের কাজ দ্রুত করার চেষ্টা করছেন তারা যাতে সরকারের এ মেয়াদেই এটি সম্পন্ন করা যায়। একই সাথে চট্টগ্রামেও এমন গার্মেন্ট পল্লী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻