চট্টগ্রামে মাদ্রাসায় বিস্ফোরনের মামলার অভিযোগ গঠন

  • ৬ এপ্রিল ২০১৪
madrasa explosion
গত বছরের অক্টোবরে চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসায় এই বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশে গত অক্টোবরে চট্টগ্রামের এক মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর ছেলেসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আজ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রামের এক আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের কয়েকটি ধারায় এ অভিযোগ গঠন করে। আসামি পক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলায় আসামিদের জড়ানো হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্ত নয়জনের মধ্যে মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত অক্টোবরে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঐ বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন নিহত এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছিল।

ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আইপিএসের চার্জার থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে দাবি করে। কিন্তু পুলিশ বিস্ফোরণের পরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সেখান থেকে চারটি তাজা হাতবোমা উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন ও হত্যার অভিযোগে খুলশী থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ।

এর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি বিস্ফোরক মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ, যেখানে পুলিশ উল্লেখ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে আসামিরা নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিস্ফোরকদ্রব্যগুলো মজুত করছিল।

ঐ মামলায় আজ চট্টগ্রামের এক আদালত ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর ছেলে হারুন ইজহারসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি কামাল উদ্দিন বলছেন, আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। আর এর মাধ্যমে আজ থেকে এ মামলার বিচারকার্য শুরু হল।

“আজকে প্রথম আদালত বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩, ৪ ও ৬ ধারায় অপরাধ করাতে মুফতি ইজাহারসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। মুফতি ইজহার পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কাজ চলবে।”

অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন আবদুল হাই ওরফে সালমান, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ ইছহাক, মনির হোসেন, আবদুল মান্নান, তফসির আহমেদ ও মোহাম্মদ জুনায়েদ।

তবে, আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার বলছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এ মামলায় তাদের জড়ানো হচ্ছে।

“এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা। সরকারের সঙ্গে মুফতি ইজহারের সঙ্গে রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে এটা করা হয়েছে।”

এদিকে, অভিযুক্ত নয়জনের মধ্যে প্রধান আসামি মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী ছাড়া বাকি আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ বলছে তারা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম ভুইয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, মুফতি ইজহারকে ধরার জন্য ইতোমধ্যেই কয়েকটি অভিযান চালিয়েছেন তারা।

“গত পয়লা মার্চ মুফতি ইজহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এর আগে মুফতি ইজহার গত ২৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন।

শুনানি শেষে আদালত ২৮ শে এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।