'ট্রেড ইউনিয়ন করার ব্যাপারে এখনও আমরা চাপে'

  • ৪ এপ্রিল ২০১৪
garments protest
গার্মেন্টেস শ্রমিকরা বলছেন ট্রেড ইউনিয়ন করার ব্যাপারে তারা ভয়ভীতির মুখে (ফাইল চিত্র)

বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, কারখানা ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে তাদের ভয় দেখানো বা চাকরিচ্যুত করাসহ নানান ধরণের চাপ অব্যাহত রয়েছে।

তারা বলেছেন, মালিক পক্ষ থেকেই মূলত এ ধরণের চাপ আসছে।

তবে মালিকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

অন্যদিকে, দু’বছর আগে আজকের এই দিনে (চৌঠা এপ্রিল) আমিনুল ইসলাম নামের একজন শ্রমিক নেতা গুম হওয়ার পর তাকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। সে ঘটনার এখনও কোন কুলকিনারা হয়নি।

ঢাকার মালিবাগ এলাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করেন মাস তিনেক আগে। কিন্তু ইউনিয়ন গঠন করতে না করতেই নানান ধরণের চাপের মুখে পড়েছেন এর নেতৃত্বে আসা শ্রমিকরা।

এমনই একজন শ্রমিক নেত্রী নিজের এবং কারখানার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “আমরা যে বারোজন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে এসেছি, তাদের সকলের উপর মালিকপক্ষ চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও ইউনিয়নের গঠনের সময় মালিক এর পক্ষেই কথা বলেছিল। কিন্তু এখন আমাদের এই ইউনিয়ন নেতাদের কারখানায় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। যেটা আমরা বুঝতে পারি। আমাদের সাথে অন্য কোন শ্রমিককে কথা বলতে দেওয়া হয় না। কারখানার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িতরা আমাদের সাথে অহেতুক খারাপ ব্যবহার করে। সর্বশেষ চাকরিচ্যুতিরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্ট কারখানাটির মালিকের একজন প্রতিনিধি এসব অস্বীকার করেছেন।

তবে গার্মন্টস শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে, এমন সংগঠনগুলোর নেতাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অনেক সময় মালিকপক্ষের ভাড়া করা লোকজন ভয় দেখিয়ে থাকে। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে আক্রমণের ঘটনাও ঘটে।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় অনেক সময় শ্রমিক নেতাদের উপর নানান ধরণের চাপ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে।

দু’বছর আগে ২০১২ সালের ৪ঠা এপ্রিল আমিনুল ইসলাম নামের একজন শ্রমিক নেতাকে গুম করার পর তাকে হত্যার অভিযোগ উঠে।

এই অভিযোগ নিয়ে সিআইডি পুলিশ একটি চার্জশিট দিয়েছিল। কিন্তু সঠিক তদন্ত না হওয়ার অভিযোগ তুলে ঐ শ্রমিক নেতার পরিবার ও সংগঠন পুলিশের চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের একটি সংগঠনের নেতা বাবুল আকতার বলছেন, কোন ঘটনা ঘটলে শ্রমিকরা যদি অভিযোগ করেন, তার সঠিক তদন্ত এবং বিচার না হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপের দিকেই এগুচ্ছে।

“মূলত ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে গেলেই শ্রমিকরা চাপের মুখে পড়ছেন। প্রথমে বাধা আসে কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দিক থেকে। তারপর মালিকের ভাড়া করা মাস্তানদের দ্বারা বাধা আসে। স্থানীয় সরকারি প্রশাসনও বাধা সৃষ্টি করে। শারীরিকভাবে আঘাতের বিষয় আসে। হয়রানি করার জন্য মামলা করার ভয় দেখানো হয়। এছাড়া নানান অজুহাত তুলে চাকরিচ্যুতও করা হয়।”

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি কমিটির পক্ষ থেকেও একই অভিযোগে বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ ট্র্রেড ইউনিয়নের অধিকার দেওয়ার প্রশ্নে বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

শেষপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়ার পর সেই সুবিধা ফিরে পাওয়ার প্রশ্নে শর্তের মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়টি রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে জোর দেয়।

তবে সেই প্রক্রিয়ায় ওঠা নানান অভিযোগ অস্বীকার করছেন মালিকরা।

তাদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, “২০১২ সালে কোন গার্মেন্টস কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন ছিল না। পরের বছর ৭৩ টি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। আর এ বছর গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।এই খাতে ৪৪ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে। ফলে দু’একটি কারখানায় সমস্যা হলেও হতে পারে।”

তিনি আরও বলছেন সম্প্রতি মিডিয়ায় এবং ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ১৯টি কারখানার ব্যাপারে যে অভিযোগ তুলেছিল, বাণিজ্য মন্ত্রীর সাথে বিজিএমইএ’র নেতারা সেইসব কারখানা পরিদর্শন করে একটিতেও কোন সমস্যা পাননি।

সরকারের পক্ষ থেকেও একইধরনের বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে।