মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?

  • ২৭ মার্চ ২০১৪
দুর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশে রানা প্লাজা ভবন ধ্বসের মতো ঘটনা সামনে নিয়ে এসেছে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলার বিষয়টিকে।

ঝড় জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশে এখন যথেষ্ট সক্ষম বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন দুর্যোগ, যেমন ভবন ধ্বস, অগ্নিকাণ্ড-এসব ঘটনা মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা কতটুকু- তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

সরকারের তরফে বলা হচ্ছে রানা প্লাজা ধসের পরে তারা উদ্ধার অভিযানের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছে এবং সেই আলোকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে আইন ও নীতির বাস্তবায়নই মূল সমস্যা।

দুর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশে রানা প্লাজা ভবন ধ্বস কিংবা তাজরিন ফ্যাশন্সে ভয়াবহ আগুনে হাজারো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা সামনে নিয়ে এসেছে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের বিষয়টি।

“দুর্যোগের নেই দিনক্ষণ, প্রস্তুত থাকব সারাক্ষণ”-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশে আজ জাতীয় ভাবে পালিত হয়েছে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশে এখন যথেষ্ট সক্ষম বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে রানা প্লাজা নামে একটি ভবন ধসের ঘটনায় এগারোশরও বেশি মানুষ মারা যায়।

কেবল বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বরং পৃথিবীর ইতিহাসেই এত বড় দুর্ঘটনা বিরল।

ওই ঘটনার পরে যে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছিল, সেখানে শুরুর দিকে বেশ সমন্বয়হীনতার ছিল। উদ্ধার অভিযানের জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতিরও অভাব ছিল।

রানা প্লাজা ভবন ধসের পরে সেখানে শুরু থেকেই উদ্ধার অভিযানে ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ।

তিনি জানান, “এটি আসলেই আমাদের জন্য একটা বড় শিক্ষা ছিল। কারণ এরকম ঘটনার মুখোমুখি আগে আমরা হইনি। এ জাতীয় ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ডাক্তার, নার্স এমনকি অর্থোপেডিক ডাক্তারও পাঠানো উচিত। কারণ অনেকের হাত পা কেটে উদ্ধার করতে হয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারও পাঠানো দরকার।”

বাংলাদেশে যখনই কোনও দুর্যোগ হয়, প্রথমেই সেই দুর্যোগে যে প্রতিষ্ঠানটির সাড়া দেয়ার কথা, সেটি হলও সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

আগুন লাগার মতো ঘটনা এখন প্রায়ই ঘটছে। এমন দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় এ প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য থাকলেও রানা প্লাজা বা তার আগে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তাজরিন ফ্যাশনস নামে একটি পোশাক কারখানায় যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, সেরকম দুর্যোগ মোকাবেলায় এই সংস্থাটির সক্ষমতা কতটুকু?

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলছেন, “রানা প্লাজার ঘটনাটি আমাদের জন্যও একটা বড় শিক্ষা। তবে ইতিমধ্যে আমরা উদ্ধার অভিযানের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করেছি। রানা প্লাজা ধসের পরে অনেকেই উদ্ধার অভিযানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এসেছিলেন। তাদেরকেও আমরা ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

এর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসসহ উদ্ধার অভিযানে কাজ করে এরকম সব প্রতিষ্ঠান যাতে একটি অভিন্ন নির্দেশনা মানতে পারে, সেজন্য একটি গাইডলাইন তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

তবে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস নিয়ে বাংলাদেশে এবং বিদেশে কাজ করেন, এরকম একজন বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম বলছেন, দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আইন ও নীতির বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণ।

তিনি বলেন, “১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাইক্লোন মোকাবেলায় অনেক এগিয়ে গেলেও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের মোকাবেলা করতে পারছি না কেন? যেসব নীতি আছে বা বিল্ডিং কোড আছে, সেসব মেনে ভবন তৈরি করছেন না সবাই। ফলে এসব গাফিলতির বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।”