ইউক্রেন পরিস্থিতি: রাশিয়ার গতিবিধির ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র

  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
ইউক্রেন পরিস্থিতি: রাশিয়ার গতিবিধিতে নজর যুক্তরাষ্ট্রের
ক্রাইমিয়ায় রুশপন্থীদের বিক্ষোভ

ইউক্রেনকে রাজনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধার করতে ‘বেইলআউট’ পরিকল্পনা করতে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে রুশ সরকারকে আলোচনায় বসবার নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তবে, একইসঙ্গে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া অঞ্চলের সীমান্তে সৈন্য ও যুদ্ধবিমান দিয়ে মহড়াও দিচ্ছে দেশটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ক্রাইমিয়ায় চলমান উত্তেজনা নিরসনে সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দিকে যুক্তরাষ্ট্র এও বলেছে যে রাশিয়ার গতিবিধির ওপর নাজর রাখছে তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার একদল সশস্ত্র লোক ক্রাইমিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভবন দখল করে নেয়।

ক্রাইমিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের ওপর তারা রাশিয়ার পতাকা উত্তোলন করে। সেখানে তাদের সমর্থনে রুশপন্থী বিক্ষোভকারীরা গিয়ে জড়ো হয় এবং রাশিয়ার পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকে। ভবনে প্রবেশকারী বিপুল সংখ্যক মানুষের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: ‘ক্রাইমিয়াই রাশিয়া’।

ক্রাইমিয়ার এই সর্বশেষ ঘটনাবলী ইউক্রেনের নতুন সরকারের জন্য এটিই প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। তারা একে রাশিয়ার পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির জন্য একটা উস্কানি হিসেবে দেখছেন।

ক্রাইমিয়ায় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ থাকলেও সেখানে বেশি আছে মুসলিম তাতার গোত্রের মানুষ, যাদের অধিকাংশই অখন্ড রাশিয়া ফিরে পেতে চায়।

ক্রাইমিয়ার সংসদকে পুনরুদ্ধার করতে সেখানে সামরিক বাহিনীকে অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ওলেক্সান্দার তুর্চিনভ।

আর প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আরসেনি-য়াত-সেনিইউক বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, উস্কানিমূলক কোনো আচরণ করা রাশিয়ার একদমই উচিত হবে না। আর সেই সাথে তিনি এটাও বলেছেন যে, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

এমন পরিস্থিতিতে, ক্রাইমিয়া অঞ্চলে উত্তেজনা না ছড়াতে রাশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল বলেছেন, ইউক্রেনের এই স্পর্শকাতর সময়ে রাশিয়ার এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিত হবে না যেটিকে ভুলভাবে ব্যাখা করার সুযোগ থেকে যায়।

এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি এখনও মনে করেন তিনি ইউক্রেনের রাষ্ট্র প্রধান। ইউক্রেনের সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, মিঃ ইয়ানুকোভিচ সম্ভবত রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কোন এক শহরে রয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে মিঃ ইয়ানুকোভিচ পলাতক রয়েছেন।