ভারতে বাংলাদেশী হিন্দু শরণার্থীদের নিয়ে রাজনীতি

  • ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
bjp
বিজেপির প্রচারাভিযান

বাংলাদেশ থেকে আসা 'হিন্দু শরণার্থীদের ভারতের সব রাজ্যেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুনর্বাসন করা হবে' - বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী এই আশ্বাস দেওয়ার পর - কংগ্রেসও বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে।

আসামের শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা ভুবনেশ্বর কলিতা বিবিসি-কে বলেছেন, হিন্দু শরণার্থীরা যাতে ন্যায় পান তার জন্য বিজেপির অনেক আগে থেকেই তাদের সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে রাজনীতির বাইরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়টি মূলত অর্থনৈতিক, তাই রাজনীতির দৃষ্টিকোণে এটিকে দেখলে ভুল হবে।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা মুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী, কিন্তু হিন্দুরা শরণার্থী – এটা ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি-র বহু পুরনো অবস্থান। তবে গতকাল আসামের শিলচরে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী হিন্দু শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

মি. মোদী তার ভাষণে বলেছেন, 'দুনিয়ার যে কোনও প্রান্তে হিন্দুরা যদি নির্যাতিত হয় তাহলে তাদের তো আসার একটাই জায়গা আছে – আর সেটা হল হিন্দুস্তান বা ভারত।'

ফলে তার যুক্তি, 'বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে যে হিন্দুরা এদেশে আসছেন – তাদের শুধু আসামে নয়, গোটা ভারত জুড়ে আশ্রয় দিতে হবে, পুনর্বাসন করতে হবে। বাংলাদেশে তাদের ওপর যে ধরনের অত্যাচার চলছে, আমরা তো তাদের ওপর সেই একই জিনিস করতে পারি না!'

bjp modi
নরেন্দ্র মোদী

মি. মোদী আরও কথা দিয়েছেন যে তার দল ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য শিবিরগুলি গুটিয়ে ফেলে সমাজের মূল স্রোতে তাদের ঠাঁই করে দেওয়া হবে।

তাঁর এই ভাষণের পর আসামে ও কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেসও নির্বাচনের আগে হিন্দু আবেগকে উপেক্ষা করতে পারছে না।

আসামে দলের অন্যতম প্রধান নেতা ও এমপি ভুবনেশ্বর কলিতা বিবিসি-কে যেমন বলছিলেন, নরেন্দ্র মোদীর অনেক আগে থেকেই রাজ্যের কংগ্রেস সরকার হিন্দু শরণার্থীদের স্বার্থে লড়ছে।

মি. কলিতার কথায়, 'বাংলাদেশী শরণার্থীরা যাতে ন্যায় পান আমরা তার পক্ষে বহুদিন ধরেই। আমাদের রাজ্য সরকার ও বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ তাদের জন্য সেই ২০০৯ থেকেই বহু সুবিধা ঘোষণা করে আসছেন। নরেন্দ্র মোদীর ঘুম ভেঙেছে অনেক দেরিতে, কিন্ত তার কথাকে আমরা আমল দিচ্ছি না।'

কিন্তু আসাম সরকারও কি বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে বৈষম্য করছে না? মি কলিতা অবশ্য তা মানতে রাজি নন।

তার বক্তব্য, 'অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টা আলাদা। যারা বাংলাদেশ থেকে বাধ্য হয়ে চলে আসছেন – আমরা তাদের প্রতি সুবিচার করতে চাই। এখানে প্রশ্নটা হিন্দু-মুসলিমের নয়, আর এখানে কোনও বৈষম্যেরও প্রশ্ন উঠছে না।'

congress
প্রচারাভিযানে কংগ্রেস

কিন্তু অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজনীতি যে আসছেই – তা স্পষ্ট বিজেপি ও কংগ্রেস, দুদলের বক্তব্যেই।

দেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে তা এড়ানোও হয়তো কঠিন, কিন্তু ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জি কে পিল্লাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলাদেশ থেকে তথাকথিত অনুপ্রবেশের পেছনে মূল কারণটা কিন্তু অর্থনৈতিক!

মি. পিল্লাই বিবিসিকে বলছিলেন, 'আসামে যেখানে নমুনা জরিপে বাংলাদেশীদের পাওয়া গেছে সব ক্ষেত্রেই তারা কিন্তু এসেছে চাষাবাদ বা অন্য কাজের সন্ধানে। করিমগঞ্জ এলাকায় যেমন প্রতিদিন শত শত বাংলাদেশী সীমান্ত পেরিয়ে আসেন, সারাদিন রিক্সা চালিয়ে আবার রাতে ফিরে যান। এরা সবাই বাংলাদেশী নাগরিকই থাকছেন, কাজ করছেন ভারতে!'

মি. পিল্লাইয়ের মতে, যেভাবে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় উপসাগরীয় দেশগুলোতে গিয়ে কাজ করেন, অর্থনীতির সেই সহজ নিয়মেই বাংলাদেশীরাও পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে কাজ খুঁজতে যান।

কিন্তু তাদের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা সীমান্ত পেরোনোর ছাড়পত্র থাকে না প্রায় কোনও ক্ষেত্রেই। অনুপ্রবেশ নিয়ে ধর্মের রাজনীতি না-করে এই বাংলাদেশীদের ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা করা গেলে বরং অর্থনীতি অনেক লাভবান হবে – এমনটাই অভিমত অনেক পর্যবেক্ষকের!