গণনা চলছে, কিছু প্রার্থীর মাঝপথে নির্বাচন বর্জন

  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
upazila
চাঁপাইনওয়াবগঞ্জের একটি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের লাইন (ফটো - ফোকাস বাংলা)

বাংলাদেশে প্রথম পর্যায়ে ৯৭টি উপজেলায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষে এখন ফলাফলের আপেক্ষা।

তবে বেশ কয়েকটি উপজেলায় সংঘর্ষ ,কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমন সব অভিযোগে কয়েকটি উপজেলায় বিএনপি সমর্থক প্রার্থীরা ভোট গ্রহণের মাঝপথে নির্বাচন বর্জন করেছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর নির্বাচনী কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে না হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এবং বিএনপিসহ সব দলের সরাসরি তৎপরতায় এই নির্বাচন রাজনৈতিক চেহারা পেয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে এবং ভোটারদের ব্যাপক উৎসাহের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা ও বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই দেড় মাসের মাথায় উপজেলা নির্বাচনে ছিল ভিন্নচিত্র।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সহ সব দলের সরাসরি তৎপরতায় সারাদেশেই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রথম ধাপে ৪০টি জেলার ৯৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণে ভোটারদের উৎসাহে কমতি ছিলনা।

উত্তরের কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার একটি ভোট কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সাংবাদিক শফি খান বলেন, “যতগুলো ভোট কেন্দ্রই দেখেছি সব কেন্দ্রেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ৫ই জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে এই কেন্দ্রগুলোতেই আমি ঘুরেছিলাম। সেদিন ভোটারদের লাইন চোখে পড়েনি। নির্বাচনী আমেজও তখন ছিলনা”।

তবে উত্তরের বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলায় ১৬টি ভোটকেন্দ্রের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সোনাতলা উপজেলায় কয়েকটি কেন্দ্র ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং কেন্দ্র দখলের মত ঘটনা ঘটেছে।

রিটার্নিং অফিসার খোরশেদ আলম বলেছেন মাত্র চারটি কেন্দ্রে গোলযোগ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সে কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

পাবনার সুজানগর, দক্ষিন পশ্চিমে ঝিনাইদহের শৈলকূপা, ভোলার লালমোহন সহ কয়েকটি উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষ থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, জাল ভোট দেয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

cec
নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার উৎসাহ: সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ (ছবি - ফোকাস বাংলা)

এ ধরনের অভিযোগ তুলে ৬/৭টি উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট গ্রহণের মাঝপথে নির্বাচন বর্জন করেন।

দক্ষিণে বরিশাল থেকে সাংবাদিক শাহিনা আজমিন জানিয়েছেন ঐ জেলায় গৌরনদী ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা থেকেও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা সরে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন হলেও এ উপজেলা নির্বাচন দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ভোট গ্রহণ পরিদর্শন করেছেন। তবে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে প্রধান দুটি দল মাঠ পর্যায়ে যেমন তৎপর রয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবেও তারা বসে নেই। ভোট গ্রহণের সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দু-দফায় সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির নানা অভিযোগ তুলেছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নির্বাচন কমিশনার মো: শাহনেওয়াজ বিবিসিকে বলেছেন, বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলোর ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ৯৭টি উপজেলার মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে অভিযোগ এসেছে কিন্তু সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।