ভারতের রাজধানী দিল্লির আম আদমি সরকারের পতন

  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
ক্ষমতায় ৪৮ দিন থাকার পর পদত্যাগ করলেন দিল্লির মূখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল

ভারতের রাজধানী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ব্যতিক্রমধর্মী দল আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল । সরকার গঠনের মাত্র আটচল্লিশ দিন পরেই পদত্যাগ করলেন তিনি।

মিঃ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমনের জন্য নাগরিক সমাজের তৈরি জন-লোকপাল বিল বিধানসভায় পাশ করতে দেয় নি কংগ্রেস, বি জে পি ও ‘স্বার্থান্বেষী মহল’।

এই জন্যই আম আদমি পার্টির সরকার পদত্যাগ করল বলে তিনি দলীয় সমর্থকদের এক জমায়েতে ঘোষণা করেছেন।

তবে কংগ্রেস ও বি জে পি বলছে, অসম্ভব কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে গিয়ে সেইসব প্রতিশ্রুতি এখন রাখতে পারছেন না বলেই সরে গেল আম আদমি পার্টি।

দুর্নীতি দমনের জন্য নাগরিক সমাজের তৈরি করা জন-লোকপাল বিল পাশ না করতে পারলে ইস্তফা দিতে পারেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী – এই জল্পনা কয়েকদিন ধরেই চলছিল।

দল গঠনের একবছরের মাথায় জাতীয় রাজধানীর বিধানসভা ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল আম আদমি পার্টির সরকার।

দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সমর্থক

মন্ত্রীসভা গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও কংগ্রেস সমর্থন করেছিল তার সরকারকে।

বিধানসভায় জনলোকপাল বিল পেশ করা নিয়ে দিনভর নাটক চলার পরে সন্ধ্যায় মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর ইস্তফার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। টুইট করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় আম আদমি পার্টি নেতৃত্ব।

ফ্যাক্স মারফত পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয় সাংবিধানিক প্রধান, উপ-রাজ্যপাল নাজিব জং-কে।

অবশেষে শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ দলীয় সমর্থকদের সামনে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা করলেন যে পদত্যাগ করেছে তাঁর মন্ত্রী সভা।

মি. কেজরিওয়াল সমর্থকদের ইস্তফা পত্র দেখিয়ে ঘোষণা করেন যে মন্ত্রীসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদত্যাগ করার।

“দুর্নীতি দমন করতে আমার সরকার যে সব উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে ভয় পেয়ে কংগ্রেস আর ভারতীয় জনতা পার্টি একজোট হয়ে আমাদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করল,” মিঃ কেজরিওয়াল বলেন।

ভারতে দুর্নীতি একটি বড় ইস্যু

একই সঙ্গে একটি বৃহৎ বাণিজ্য গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করে মি. কেজরিওয়াল বলেন, গ্যাসের দাম নির্ধারণ নিয়ে দুর্নীতির জন্য তিনি যে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই গোষ্ঠী এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে, তাতেই ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ আতঙ্কিত হয়েছে, চেয়েছে তাদের সরিয়ে দিতে।

সেজন্যই জন লোকপাল বিল পাশ করতে দেওয়া হল না বলে মিঃ কেজরিওয়াল বিধানসভা ভেঙ্গে দেওয়ারও দাবী জানান।

জন-লোকপাল বিল পাশ করানো নিয়ে কয়েকদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লির উপ রাজ্যপালের সঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিবাদ চলছিল।

প্রথমে একটি ময়দানে বিশেষ অধিবেশনে বিলটি পাশ করানোর দাবী করেছিলেন তিনি। সেটা সংবিধান সম্মত হবে না জানানোর পরে কেন্দ্রীয় সরকার জানায় তাদের সম্মতি ছাড়া এধরণের বিল বিধানসভায় পেশ করা যায় না।

উপ রাজ্যপাল নাজিব জং বিধানসভার স্পীকারকে জানিয়ে দেন ওই বিল যেন পেশ করতে না দেওয়া হয়।

তারপরে বিলটি পেশ করা হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাভুটি হলে বেশীরভাগ সদস্যই পেশ না করার পক্ষে মত দেন।