BBC navigation

মানিকগঞ্জে বাসে ধর্ষণের মামলায় দুজনের কারাদণ্ড

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 13 ফেব্রুয়ারি, 2014 12:03 GMT 18:03 বাংলাদেশ সময়

ধর্ষণ আর নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশেও ক্ষোভ বাড়ছে

ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জে গত বছর একটি চলন্ত বাসে একজন গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণের ঘটনায় বাসের চালক ও তার সহযোগীকে আজ যাবত জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে মানিকগঞ্জের একটি আদালত।

গত বছর জানুয়ারি মাসে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে। এর পাশাপাশি উভয় আসামীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এক বছরের মধ্যে এ ধরণের ঘটনার বিচার বাংলাদেশে বেশ বিরল।

ভারতের দিল্লীতে চলন্ত বাসে একজন কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার একমাস পরেই বাংলাদেশে এই ঘটনা ঘটে যেটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

"সবাই মিলে সহযোগিতা করলে একটা ভালো রেজাল্ট আসতে পারে , সেটাই আজকে আমরা দেখলাম। এরকম হলে অপরাধ কমে আসবে"

সালমা আলী, মানবাধিকার কর্মী

মামলার বিবরণে জানা যায়, সেই গার্মেন্টস শ্রমিক কাজ শেষে একটি বাসে করে আশুলিয়া থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গাড়ি বিকল হয়ে যাবার কথা বলে চালক ও তার সহযোগী যাত্রীদের নেমে যেতে বলে।

যাত্রীরা নেমে গেলে টাকা ভাংতি দেবার অজুহাতে চালক ও তার সহযোগী সেই গার্মেন্টস শ্রমিককে অপেক্ষমাণ রাখে। এরপর বাস চালিয়ে মহাসড়কের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেই শ্রমিককে ধর্ষণ করা হয়।

মানিকগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুস সালাম বলেন দুজনেই ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এবং আদালত সে অনুযায়ী রায় দিয়েছে।

বাংলাদেশে প্রায়শই যেসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা পার পেয়ে যায় বলে আইনজীবীরা বলছেন। এ ধরনের মামলা আদালতে প্রমাণ করাটাও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

ধর্ষিত হয়েও অনেকে লোকলজ্জার কারণে অভিযোগ করেন না

মানিকগঞ্জের এই ঘটনায় ভিকটিম গার্মেন্টস শ্রমিককে আইনগত সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশে মহিলা আইনজীবী সমিতি। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সালমা আলী বলেন বিভিন্ন পক্ষের সহায়তা পাওয়ায় এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং রায় ভিকটিমের পক্ষে গেছে।

সালমা আলী বলেন, মামলা দায়েরের এক মাসের মধ্যে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সবগুলো পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে ভিকটিম সুবিচার পেয়েছে বলে সালমা আলী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন , "সবাই মিলে সহযোগিতা করলে একটা ভালো রেজাল্ট আসতে পারে , সেটাই আজকে আমরা দেখলাম। এরকম হলে অপরাধ কমে আসবে।"

সালমা আলী বলেন বেশিরভাগ সময় স্থানীয় চাপ এবং প্রশাসনের চাপে মামলাগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশে বছরে কতগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই।

কারণ লোকলজ্জার ভয়ে ভিকটিমদের অনেকেই বিষয়টি প্রকাশ করতে চায় না।

"যেখানে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা থাকেনা, সেখানে বেশিরভাগ মামলা নষ্ট হয়ে যায়"

নীনা গোস্বামী, মানবাধিকার কর্মী

তবে পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মানবাধিকার সংস্থা আইনও সালিশ কেন্দ্র বলছে গত বছর নয়শোর মতো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী বলেন ভিকটিমদের সহায়তায় মানবাধিকার সংস্থা এগিয়ে না এলে বিচার পাওয়া মুশকিল।

নীনা গোস্বামী বলেন , আইন ও সালিশ কেন্দ্র যে মামলাগুলোতে ভিকটিমদের সহায়তা করে সেখানে ৮৮ শতাংশ রায় আমাদের পক্ষে আসে। কিন্তু এটা পুরো বাংলাদেশের চিত্র নয়।

তিনি বলেন, "যেখানে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা থাকেনা, সেখানে বেশিরভাগ মামলা নষ্ট হয়ে যায়। মানিকগঞ্জের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যত্নবান ছিল বলেই এক বছরের কম সময়ের মধ্যে মামলার রায় হয়েছে।"

এদিকে মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবীরা বলছেন, একটি মামলার রায় ভিকটিমের পক্ষে যাবার জন্য পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে নিম্ন আদালতে আসামীরা কঠিন সাজা পেলেও অনেক সময় উচ্চ আদালতে খালাস পাওয়া কিংবা শাস্তি লঘু হয়ে যাবার ঘটনাও রয়েছে বলে আইনজীবীরা বলছেন।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻