জিএসপির ওপর নিষেধাজ্ঞা ওঠাতে সরকারি সিদ্ধান্ত

  • ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে জিএসপি সুবিধা পায় যেসব পণ্য তার মধ্যে রয়েছ গার্মেন্টস

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপির ওপর নিষেধাজ্ঞা ওঠাতে বাকি চারটি শর্ত আগামী ৩০শে মার্চের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আজ বুধবার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তবে রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা বা ইপিজেডে শ্রমিক ইউনিয়ন নিশ্চিত করার স্পর্শকাতর শর্তটি কীভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে পরিস্কার করে কিছু বলেননি মন্ত্রী।

তবে তোফায়েল আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন ইপিজেডে যে শ্রমিক কল্যাণ সমিতিগুলো রয়েছে, শ্রম আইনের সাথে তা সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইপিজেডের একজন বিনিয়োগকারী বলছেন তাদের কলকারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু করার সময় এখনো আসেনি।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্য আমেরিকায় বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি আরেকবার আলোচনায় উঠে আসে মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে।

সেখানে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন কল-কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত করাসহ একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বেশ কিছু অগ্রগতি করলেও আরও অনেক কাজ বাকী রয়ে গেছে।

Tofail Ahmed

তাজরিন ফ্যাশন্সে আগুন এবং রানা প্লাজা ধসের পর কল-কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত করাসহ শ্রম অধিকারের বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর নাখোশ হয়ে ১৬ টি শর্ত দিয়ে গত জুনে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে পর্যালোচনামূলক বৈঠকে বসেন ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন সরকার অধিকাংশ শর্ত মোটামুটি পালনে সমর্থ হয়েছে এখন বাকী গুরুত্বপূর্ণ চারটি শর্ত ৩০শে মার্র্চের মধ্যে পূরণ করা হবে। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত ইপিজিডগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন চালুর বিষয়টি।

মিঃ আহমেদ বলেন ইপিজেডে ইতিমধ্যেই ২০১০ সালে একটি আইন করা হয় যার নাম ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং এর মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে শ্রম আইনের আলোকে তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে দিতে হবে।

''শ্রম আইনের সাথে সমন্বয় করে যাতে আমরা এই শর্তটা পূরণ করতে পারি সেই ব্যবস্থা আমরা নেবো। ইপিজেড যখন হয় তখন আইন ছিল সেখানে কোন ট্রেড ইউনিয়ন থাকবে না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ট্রেড ইউনিয়ন না থাকলেও অসুবিধা হয়।''

মিঃ আহেমেদ বলেন ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হয় এবং এরা ট্রেড ইউনিয়নের মতোই।

''বিনিয়োগকারীরাও এটা মেনে নিয়েছে। এটাকেই আমরা সমন্বয় করবো। তাদের সাথে এ ব্যাপারে আমরা আলোচনা করবো,'' তোফায়েল আহমেদ বলেন।

তবে ইপিজেডগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন চালু করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

বর্তমানে সারা দেশে আটটি ইপিজিড রয়েছে যাতে দেশি বিদেশী বিনিয়োগকারীর ৪২৫ টি ফ্যাক্টরি নানা ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে । এর অধিকাংশ অর্থাৎ ১২৫টির মালিকানা বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদের।

তাদেরই একজন ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি যার স্ক্যানডেক্স নিটওয়্যার নামের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ রয়েছে আদমজি ইপিজিডে, তিনি বলেন বিষয়টা নিয়ে তারা চিন্তিত।

''ওয়ার্কারদের নিয়ে আমাদের চলতে হয়। বাংলাদেশী শ্রমিকরা বেশ পরিশ্রমী ও বলা যায় 'বেস্ট'। কিন্তু তারা খুব সহজেই মোটিভেটেড হয়ে যায়। এর কারণ তাদের শিক্ষা। ট্রেড ইউনিয়ন হলে এর মিসইউজ হবে। এটা নিয়ে রাজনীতি হবে। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।''

মিঃ পাটোয়ারি বলেন এক সময় না এক সময় ট্রেড ইউনিয়ন হয়তো শুরু করতেই হবে, কিন্তু এখনো সে সময় আসেনি।

''দিস ইজ নট দ্য রাইট টাইম। একটা সিদ্ধান্ত ইমপোজ করে দিলেই তো হয়না, তার আগে নানা ধরনের প্রস্তুতির বিষয় আছে। হঠাৎ করে দিয়ে দিলে আমরা হজম করতে পারবো না। রানা প্লাজার ঘটনার পর গার্মেন্টস্‌ খাতে নানা ধরনের উন্নতি হয়েছে এবং যা হয়েছে তা কিন্তু হঠাৎ করে হয়নি। ফলে আস্তে আস্তে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।''

বাণিজ্য মন্ত্রী জানান ২০০জন শ্রম পরিদর্শক নিয়োগসহ বাকী বিষয়গুলোতেও তারা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন।