বাংলাদেশ বিমানে যুক্ত হলো বোয়িং ৭৭৭

  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
বিমানের বহরে আরো কয়েকটি বোয়িং যুক্ত হবে অচিরেই

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আজ যোগ হয়েছে আরও একটি বোয়িং ৭৭৭।

কর্তৃপক্ষ বলছে, সামনে যোগ হবে আরও কয়েকটি বোয়িং বিমান।

তবে বিশেষজ্ঞ ও যাত্রীরা বলছেন, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার অবসান না হলে বোয়িং-এর মতো নতুন বড় আকারের উড়োজাহাজ সংগ্রহ করেও বিমানকে সঙ্কটমুক্ত করা যাবে না।

সরকারের বিমানমন্ত্রী বলছেন, ইতোমধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং নূতন উড়োজাহাজগুলো আসার পর ব্যবস্থাপনাতেও আরও পরিবর্তন আসবে।

ডিসি-১০ অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির মধ্য দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখন নির্ভর করতে শুরু করেছে সুপরিসর উড়োজাহাজ বোয়িং এর উপর।

বিমানের বহরে আজ যুক্ত হয়েছে তৃতীয় বোয়িং।

এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিমান লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তবে যাত্রীরা বলছেন, বিমানকে লাভজনক করতে হলে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে সর্বোচ্চ সেবার মধ্য দিয়েই। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন গত অর্থবছরে বিমানের লোকসান ছিল প্রায় ২১৪ কোটি টাকা এবং এর আগের বছর ছিল প্রায় ৬শ কোটি টাকা।

লোকসান, অদক্ষতা, শিডিউল বিপর্যয়- নানা কারণে বদনাম কুড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

তাছাড়া শিডিউল বিপর্যয়, রুট ও টিকেট সঙ্কটসহ নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে অনেক যাত্রীই এখন আর বিমানে ভ্রমণে উৎসাহী নন। একজন যাত্রী লন্ডনের ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের পরিচালক মুহিদ চৌধুরী বলছেন, “আমাদের আইডিয়া হয়ে গেছে যে বিমানের সার্ভিস ভালো না। মারাত্মক ভাবে শিডিউল মিস করে। যে জন্য আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের সমস্যা হয়। টিকেট নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। পরে বিমানে দেখবেন অনেক সিট খালি। এসব কারণে অনেকেই অন্য বিমানে ভ্রমণ করে।” মিস্টার চৌধুরী বলেন, ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দ্রুতই পরিবর্তন এনে যাত্রীদের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বিমানকে। তার সাথে অনেকটাই একমত পোষণ করলেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এবং বিমানেরই বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এর সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম।

তিনি আশা করছেন, শিডিউল সঙ্কট নিরসনে বোয়িংগুলো ভূমিকা রাখবে। তবে এগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন আঞ্চলিক রুটে বোয়িংগুলো ব্যবহার করলে বিমান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, “নতুন উড়োজাহাজের টেকনিক্যাল সমস্যা পুরনোগুলোর মতো হবে না। তাই বিমান কিছুটা সময় ঠিক রাখতে সুবিধা হবে।” উড়োজাহাজ সঙ্কট মূল সমস্যা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মূল সমস্যা ছিল ব্যবস্থাপনার। দুর্নীতির বিষয়টা সবসময়ই উঠে আসছে। নানা কারণে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর্থিকভাবে। শুধু উড়োজাহাজ সঙ্কটই দায়ী নয়, তবে এটিও একটি সমস্যা।”

যাত্রীদের বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে যাত্রী সেবার ক্ষেত্রেও।

মন্ত্রীর দাবি শিডিউল সংকটেরও উত্তরণ ঘটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “বিমান ইতোমধ্যেই শিডিউলের ক্ষেত্রে ৭৫ ভাগ সমস্যার সমাধান হয়েছে। নতুন এয়ারক্রাফট আনতে পারলে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও উন্নতি হবে।” তিনি বলেন, “আমিও বিমানে ভ্রমণ ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিমানে ভ্রমণ করবো।”

এ সিদ্ধান্ত বিমানমন্ত্রী হওয়ার কারণে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়, শিডিউল ও সার্ভিসের উন্নতি হচ্ছে বলে।” নানা অনিয়ম, সঙ্কট বা যাত্রীদের দুর্ভোগের কারণে বাংলাদেশের সংবাদপত্রে প্রায় সময়ই শিরোনাম হয় বিমান। আন্তর্জাতিক রুটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের খুব কম সংখ্যকই এখন বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমণ করেন।

এটি স্বীকার করে মন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্নীতি বন্ধ করে এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করেই যাত্রীদের আস্থা অর্জন করে বিমানকে লাভজনক করতে চায় সরকার।