মঞ্জুর হত্যা মামলায় নতুন করে যুক্তিতর্ক শুরু হবে ২৭শে ফেব্রুয়ারি

  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলায় বিচারক বদল হওয়ায় আদালত নতুন করে যুক্তিতর্ক শুনবে। ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে যুক্তিতর্কে নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে ২৭শে ফেব্রুয়ারি।

সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ সহ পাঁচজন এই মামলায় অভিযুক্ত রয়েছেন। মামলাটিতে ১৯ বছর ধরে সাক্ষ্য গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অনেকবার বিচারক পরিবর্তন হয়েছে।

তবে সব প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এই পর্যায়ে এসেও বিচারক বদলের কারণে রায় হয় নি।

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলায় ১৯ বছর ধরে বিচার কার্যক্রম চলার পর শেষ পর্যন্ত রায়ের জন্য এলেও তা হলো না। আবারও যুক্তিতর্কের বিষয় এসেছে।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক হোসনে আরা আকতার যুক্তিকর্তসহ সব প্রক্রিয়া শেষ করে ১০ই ফেব্রুয়ারী রায়ের দিন নির্ধারণ করেছিলেন সপ্তাহ তিনেক আগে।

কিন্ত এমন পর্যায়ে এসে এই বিচারককে বদলি করে মামলাটিতে নতুন বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা হয় খন্দকার হাসান মোঃ ফিরোজকে। ফলে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিচারকের যুক্তিতর্ক শোনা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সব আইনজীবীরাই বলেছেন।

তবে শেষ মুহুর্তে বিচারক পরিবর্তনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জেনারেল এরশাদের পক্ষের আইনজীবী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সেখানে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান খান বিচারক বদলির বিষয়কে রুটিন কাজ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিচারক বদলের পিছনে অন্য কোন বিষয় নেই বলে তারা মনে করেন।

সোমবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ

মেজর জেনারেল মো: আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। যিনি এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন।

তাঁর সঙ্গের আরও দু'জন অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা কাজী এমদাদুল হক এবং মোস্তফা কামাল উদ্দিনের এই বিচারকাজ চলছে। এই তিনজনই জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

তবে মামলাটিতে অন্য দু’জন অভিযুক্ত সাবেক সেনাকর্মকর্তা আব্দুল লতিফ ‌এবং শামসুর রহমান শামস এর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম হাইকোর্ট থেকে স্থগিত হয়ে রয়েছে।

জেনারেল এরশাদের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, এই মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে প্রায় দুই দশক ধরে।

তিনি বলছিলেন, “মামলা হয়েছে ৯৫ সালে। সে বছরেই তদন্ত শেষ হয়েছে। কিন্তু সেই ১৯৯৫ সাল থেকে ১৯ বছর লেগেছে সাক্ষ্য নেওয়া শেষ করতে। আর এত বছর অনেক বিচারক বদলি হয়েছেন। ধরুন, একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হতে না হতেই হয়তো একজন বিচারক বদলি হয়েছেন। আবার কোন বিচারক হয়তো দুই বা তিনজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। এভাবেই ধীরগতিতে এগিয়েছে।”

১৯৮১ সালের ৩০শে মে রাষ্ট্রপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমান এক সেনা অভ্যূত্থানে চট্টগ্রামে নিহত হন। এর একদিন পরেই তৎকালীন চট্টগ্রাম সেনাবাহিনীর জিওসি জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল।

ঘটনার ১৪ বছর পর ৯৫ সালে তাঁর ভাই আবুল মনসুর আহমেদ মামলাটি করেছিলেন। মামলায় শুধু কাজী ইমদাদুল হকের নাম উল্লেখ ছিল।

সে বছরই সিআইডি পুলিশের তদন্তে জেনারেল এরশাদ সহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

গত দুই দশকে বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থেকেছে। জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিকে নিজেদের পক্ষে রাখতে ঐ সরকারগুলো এই মামলাটিকে কখনো সামনে এনেছে।

আবার কখনো ধীর গতিতে এগিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান খান মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে এর জন্য সাক্ষী হাজির করতে না পারা বা না পারার বিষয়কে অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখন মামলাটিতে ২৭শে ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন যুক্তিতর্ক শুরু হলে ,তাতে সপ্তাহখানেক সময় প্রয়োজন হবে। এরপর রায়ের প্রশ্ন আসবে।