ইউক্রেন নিয়ে বিতণ্ডা: জার্মানি ক্ষুব্ধ, মার্কিন কর্মকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা

  • ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
সিনিয়র কর্মকর্তা ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের সাথে ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেফ্রি পায়াট

একটি টেলিফোন কথোপকথনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্কে কটু মন্তব্য ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে যাবার পর যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ই ইউ-র কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের সাথে ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেফ্রি পায়াট-এর কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহ করছে রাশিয়া এর পেছনে থাকতে পারে।

তবে ইউক্রেন সংকট নিরসনে ই ইউ-এর মধ্যস্থতা নিয়ে মিস নুল্যান্ডের বিদ্রূপমূলক মন্তব্যকে জার্মানির চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল ‘’সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে মিস নুল্যান্ড বলেন তিনি এই বিষয়ে জনসমক্ষে কোন বিবৃতি দেবেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বলেছে তিনি ই ইউ কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের সাথে মিস নুল্যান্ড

ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ই ইউ কয়েক মাস যাবত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত বছর নভেম্বর মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ই ইউ-র সাথে একটি সহযোগিতা এবং বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে, কিয়েভে ব্যাপক বিক্ষোভের শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ যাতে ই ইউ-র সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না গড়ে তোলেন, সেজন্য রাশিয়া তার অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

অন্যদিকে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র আর ই ইউ-র বিরুদ্ধে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অভিযোগ এনেছে।

তবে বিবিসির ইউরোপ সম্পাদক গ্যাভিন হিউইট মনে করেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যে চাপা উত্তেজনার একটি বহি:প্রকাশ।

ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে আমেরিকা হয়তো ই ইউ-র চেয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা বেশি পছন্দ করবে, এবং যদি তাই হয়, তাহলে সেটা ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের অনুভূতিতে আঘাত হানবে, তিনি বলেন।

“আজকের মন্তব্য এবং অভিযোগগুলো আবার মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই সংকট শেষ তো হয়ই নাই, এমনকি মিত্রদের মধ্যে বিভক্তি এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করার ক্ষমতা তার আছে,” গ্যাভিন হিউইট বলেন।

ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের সাথে রাষ্ট্রদূত জেফ্রি পায়াট-এর কথোপকথন বৃহস্পতিবার ইউ টিউবে আপলোড করা হয়।

চার মিনিট দশ সেকেন্ড লম্বা ভিডিওতে মিস নুল্যান্ডের কণ্ঠকে বলতে শোনা যায়, যে জাতিসংঘ পরিস্থিতি মেরামত করতে সহায়তা করতে পারে, এবং সেখানে তাঁকে ই ইউ সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য করতে শোনা যায়।

জার্মান চ্যান্সেলরের মুখপাত্র ক্রিস্টিন ভির্টজ বলেন যে মিসেস ম্যার্কেল ইউক্রেন সংকটের সমাধান বের করতে ই ইউ-র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন এ্যাশটনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছেন।

“চ্যান্সেলর এই সব মন্তব্যগুলোকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মনে করেন,” মিস ভির্টজ বলেন।