আসামে বনাঞ্চল জবরদখল বন্ধে নিহত অন্তত ১০ জন

  • ৩০ জানুয়ারি ২০১৪
asam, strike,
আসামে সাম্পতিক বনধ্--ফাইল ফটো

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে একটি বনাঞ্চল জবরদখল হওয়া আটকাতে গিয়ে দুষ্কৃতিদের গুলিতে অন্তত দশ জন নিহত হয়েছেন।

পার্শ্ববর্তী অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের দুষ্কৃতিরাই বুধবার সন্ধ্যায় গুলি চালিয়ে ওই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ।

অরুণাচল প্রদেশের দুষ্কৃতিদের দ্বারা শোনিতপুর জেলার একটি বনাঞ্চল জবরদখল হওয়া আটকাতে দুমাসেরও বেশী সময় ধরে অবস্থান-ধর্ণা চালাচ্ছিলেন স্থানীয় মানুষরা।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল থেকে আসাম-অরুণাচল প্রদেশ সংযোগকারী জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলে।

আসাম পুলিশ বলছে যে শোনিতপুর জেলার দুর্গম বনাঞ্চল চাউলধুয়া এলাকায় বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটেছে।

জেলার পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট সংযুক্তা পরাশর বিবিসি কে জানিয়েছেন যে “এই হামলায় অন্তত দশজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে।. মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে কারণ যখন হামলা হয়েছে, ততক্ষনে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। অন্তত দশজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। “

অরুণাচল প্রদেশের সন্দেহভাজন দুষ্কৃতিদের হাত থেকে বেহালি সংরক্ষিত বনাঞ্চল জবরদখল আটকানোর জন্য প্রায় দুমাস ধরে ধর্নায় বসেছিলেন স্থানীয় মানুষরা – একটা মানব বন্ধন তৈরী করেছিলেন তাঁরা।

নকশালপন্থী দল সি পি আই এম এল লিবারেশন এই আন্দোলন সংগঠিত করেছিল।

মৃতদের তিনজন ওই দলেরই কর্মী-সমর্থক।

দলের রাজ্য সম্পাদক বিবেক দাসও ঘটনাস্থলে ছিলেন।

তিনি টেলিফোনে বিবিসি কে বলেন, “আন্দোলনকারীদের শিবিরে আমরা প্রায় ৫০০ জন ছিলাম। দিনের আলো কমে আসার পরে অরুণাচলের দিক থেকে হঠাৎই গুলি চলতে থাকে। প্রায় একশোজনের একটা দল আক্রমণ করে। ওদের সঙ্গে জন্তু জানোয়ার মারার জন্য যে বন্দুক ব্যবহার করা হয়, সেই বন্দুক ছিল। তাদের সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশের পুলিশও ছিল।“

গত কয়েক মাসে এই বনাঞ্চল জবরদখল হওয়া নিয়ে বারে বারেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

যে চাউলধুয়া এলাকায় কাল এই হত্যাকান্ড ঘটেছে, সেখানেও এর আগে ৯ই জানুয়ারী বনরক্ষীদের ওপরে হামলা হয় – তারপরে বি এস এফের একটি শিবিরও তৈরী হয়।

বিবেক দাসের কথায়, “রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশীল কিছু অরুণাচলী দুষ্কৃতি বন জঙ্গল কেটে ফেলছে। কাঠের চোরাকারবার চলছে। আসামের দিকে এইজন্য অনেকগুলো কাঠ চেরাই কল তৈরী হয়েছে। রবার আর চা বাগানও তৈরী হচ্ছে সংরক্ষিত বনের মধ্যে। আমরা সেটাই আটকিয়েছি। আর সেজন্যই ওই বে আইনী কারবারীদের স্বার্থে ঘা পড়েছে।“

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আসাম সরকারের অফিসাররা বলছেন বনাঞ্চল জবরদখল হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আন্দোলনকারীরাও বনের জমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন।

এর আগে দুবার তাদের উচ্ছেদও করা হয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশের সূত্রগুলো আবার বলছে ওই উচ্ছেদের সময়ে তাঁদের রাজ্যের সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষদের হেনস্থা করা হয়েছে।

তাই স্থানীয় মানুষরা আসামের ওপরে ক্ষুব্ধ।

দুই রাজ্যের মধ্যে কয়েক দশক ধরেই সীমান্ত সমস্যা চলছে।

আসামের উদালগুড়ি, বাকসা, শোনিতপুর, ঢেমাজি, লখিমপুর, শিবসাগর, ডিব্রুগড় আর তিনসুকিয়া জেলাগুলির সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশের সীমানা রয়েছে।

দুই রাজ্যের সীমান্ত বিরোধ ভারতের সুপ্রীম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে।

চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে পর্যন্ত দুই তরফকেই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।