BBC navigation

রানা প্লাজার আহত শ্রমিকের আত্মহত্যার অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট শুক্রবার, 24 জানুয়ারি, 2014 14:56 GMT 20:56 বাংলাদেশ সময়

রানা প্লাজা ধসে নিহত হন এগারোশোর বেশি শ্রমিক

বাংলাদেশে গত বছর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত এক পোশাক শিল্প শ্রমিক শারীরিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ এবং প্রতিবেশীরা।

সালমা নামের এই মহিলা শ্রমিকের লাশ শুক্রবার ঢাকার তুরাগ থানার বামনের টেক থেকে উদ্ধার করা হয়।

তুরাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, সালমা তার স্বামীর সঙ্গে বামনার টেকের এক বাসায় থাকতেন। আগের রাতে তারা স্বামী-স্ত্রী খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত বারোটার দিকে ঘুমাতে যান।

কামাল হোসেন বলেন, “ভোর ছয়টার দিকে স্বামী ঘুম থেকে উঠে বিছানায় স্ত্রীকে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। এরপর ঘরের লাগোয়া বারান্দায় স্ত্রীর মৃতদেহ দেখতে পান। এরপর তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা সেখানে এসে ভিড় করে এবং পুলিশে খবর দেয়। আমরা গিয়ে তার মৃতদেহ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি”।

পুলিশ বলছে, রানা প্লাজার সাততলার একটি কারখানায় সালমা চাকরি করতেন। দুর্ঘটনার পাঁচ ছয়দিন পরে সালমাকে ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ভবনের রড ঢুকে গিয়েছিল এবং কয়েকটি স্থানে হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠায় তিনি প্রায়শই তীব্র শারীরিক যন্ত্রণার শিকার হতেন এবং এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গুরুতর আহত এই নারী শ্রমিককে কয়েকমাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেড়মাস ধরে এই এলাকায় এসে স্বামীর সাথে বসবাস করতে শুরু করে।

এক সন্তানের মা সালমা এই এলাকার একটি কারখানায় নতুন করে চাকরিও শুরু করেছিলেন। তবে চাকরিতে তিনি নিয়মিত যেতেন না।

সালমার একজন প্রতিবেশী মোঃ. ইউনুস জানিয়েছেন, আগের দিন রাতেও সালমার সাথে তার স্বাভাবিক কথা হয়েছে কিন্তু শারীরিক যন্ত্রণার কারণে প্রায়ই সালমাকে তিনি অস্থির হতে দেখেছেন।

মোঃ. ইউনুস বলছেন, সালমা প্রায়ই মাথাব্যথায় অস্থির হয়ে যেতেন এবং সে সময় তিনি দেয়ালে মাথা ঠুকতেন। সালমা তাকে জানিয়েছেন যে, কোন শব্দ শুনলেই তারা মাথা ব্যথা শুরু হয়। এছাড়া শারীরিক আরো যন্ত্রণার কথাও বিভিন্ন সময় সালমা বলেছেন। একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সবাই মিলে পানি ঠেলে সুস্থ করে তোলা হয়। তার ঘরে পুরো একবছরের ওষুধ রাখা ছিল।

রানা প্লাজার ধ্বসের ঘটনায় সালমা ষাট হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল বলে তার স্বামীর বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে, কিন্তু মৃত্যুর অন্যকোন কারণ আছে কিনা, সেটিও তারা খতিয়ে দেখছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻