নতুন সংবিধানের ওপর মিশরে গণভোট চলছে

  • ১৪ জানুয়ারি ২০১৪
গত তিন বছরের মধ্যে এটা মিশরে সংবিধানের ওপর তৃতীয় দফা গণভোট

মিশরে আজ মঙ্গলবার একটি খসড়া সংবিধানের বিষয়ে গণভোট চলছে।

সরকার সতর্ক করে দিয়েছে যে, দু'দিনব্যাপী এই ভোটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।

ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির আমলের সংবিধান পরিবর্তন করে নতুন এই খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে।

গতবছরের জুলাই মাসে সেনাবাহিনীর হাতে মি. মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হন।

তার দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মুসলিম ব্রাদারহুড এই নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে।

হোসনি মুবারকের পতনের পর মিশরের মানুষের যে ধরণের স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আশা করেছিলেন, সেটাতো হয়নি, বরং উল্টো দেশটি এক চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

গত তিন বছরের মধ্যে এটা মিশরে সংবিধানের ওপর তৃতীয় দফা গণভোট।

এর আগের দু’টি গণভোটের রায় মিশরে সহিংস রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উল্টে দেয়া হয়েছে।

এবারও যে তা ঘটবে না, তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না।

যে সংবিধানের ওপর আজ গণভোট হচ্ছে তাতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে মোহাম্মদ মুরসির মুসলিম ব্রাদারহুড

এতে নারী অধিকারের সুরক্ষা আছে, কিন্তু সেই সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতায় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণও বাড়বে বলে আশংকা আছে।

মিশররের সেনা সমর্থিত বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী নাবিল ফাহমি দাবি করছেন, এই গণভোটের রায় এই সংবিধানের পক্ষে গেলে মিশরের গণতন্ত্রের নবযাত্রা শুরু হবে।

কায়রোর একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়ে মিস্টার ফাহমি বলেন, “সংবিধান যদি সফল হয়, তার অর্থ মিশরও সফল হবে। এর মানে হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক পথচলায় আমরা আরেকটি নতুন ধাপে উন্নীত হবো।”

তিনি বলেন, “এখান থেকে আর পেছনে ফিরে যাওয়ার কোন অবকাশ নেই।”

কিন্তু মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড এই গণভোট বর্জনের ডাক দিয়েছে।

মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

তার মধ্যেও দলের সমর্থকরা গণভোট বর্জনের ডাক দিয়ে গোপনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টির মুখপাত্র মোহাম্মদ সৌদান বলেন, তাদের ডাকে মানুষ ব্যাপকভাবে সাড়া দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “বেশিরভাগ মানুষ এই নির্বাচন বর্জন করছেন। মাত্র দশ থেকে পনের শতাংশ মানুষ এখানে ভোট দিতে যাচ্ছেন। এর মানে হচ্ছে মিশরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই নির্বাচন বর্জন করবে।”

মিশরের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী বরাবরই এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। মিশরের এই খসড়া সংবিধান যদি গণভোটে পাশ হয়, তাহলে রাষ্ট্রক্ষমতার ওপর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ যে আরও দৃঢ় হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে জোর করে ক্ষমতা থেকে অপসারণকে জনগণ সমর্থন করছে, এমন কথা বলার সুযোগ পাবেন জেনারেলরা।

এমনকি জেনারেল আবদেল ফাতাহ সিসি এই গণভোটের পথ ধরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও দাঁড়াতে পারেন, এমন হিসেব-নিকেশও চলছে।