বিরোধী জোটের 'গণতন্ত্রের অভিযাত্রা' কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনে

  • ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩
khaleda security
খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি।

বাংলাদেশে বিরোধী জোটের ঘোষিত 'গণতন্ত্রের অভিযাত্রা' কর্মসূচি আজও।

বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানসহ তিন নেত্রীকে আটকের পর আবার ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে আজও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ।

সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে আদালত চত্বররে বাইরে এবং ভেতরে অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরের প্রতি ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে বলে জানা গেছে।

এদিকে পুলিশের বাধার মুখে গতকাল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গুলশানে তাঁর বাসভবন থেকে বের হতে পারেননি।

সেখানে অনেকটা সময় ধরেই তার সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়।

এরপরই বাংলাদেশে বিরোধী জোটের ঘোষিত 'গণতন্ত্রের অভিযাত্রা' কর্মসূচি আজ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সীমানা পেরিয়ে উপরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যেতে সক্ষম হন।

তখন সাংবাদিকদের সাথে খালেদা জিয়া তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগসহ তাঁর লক্ষ্য তুলে ধরেন।

"এ কর্মসূচি আজকে হয়নি। আবার কালকে হবে। আসেন, আপনারা আসেন, বসে থাকেন আমাদের গেইটের সামনে। প্রতিদিনই আমিও আমার এরকম কাজই করবো। কি মনে করেছেন কী? দেশটা কি আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গেছে? যে গুন্ডা বাহিনী পুলিশ বাহিনী দিয়ে আমাদের কর্মসূচি বন্ধ করবেন? সাহস থাকলে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে দেখান।" বলেন মিসেস জিয়া।

এর আগে ঘন্টাখানেক যাবত খালেদা জিয়ার বাড়ি থেকে বের হওয়া নিয়ে বিনপি নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের বাক-বিতন্ডা চলছিল।

একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে খালেদা জিয়াও পুলিশের সাথে কথা বলেন। তবে পুলিশ এবিষয়ে তাদের অপারগতার কথা জানিয়ে বাড়ির মূল ফটকটি বন্ধ করে দেয়।

খালেদা জিয়ার গুলশানের এই বাসভবনের প্রধান গেইট থেকে সরে এসে সামনের রাস্তায় পুলিশ র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের প্রতিবন্ধকতা ছিল রাস্তাটিকে ঘিরে। এরপরও রাস্তাটির দুপাশে বালুভর্তি পাঁচটি ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা হয়।

এই ট্রাকগুলোর একটির চালক মোহাম্মদ জসিম বলছিলেন, বালু পরিবহনের সময় পুলিশ তাদেরকে জোর করে সেখানে এনেছে গত রাতে।

“ ট্রাকে বালি ভইরা আইছি গাবতলী থেইকা, কাকলী ডিওএইচএস-এ ফালামু। ওইখান থাইকা পুলিশ ট্রাকে সিগন্যাল দিছে, কইছে আমাগো কামে যাইতে হইবো। পরে উইঠা আমাদের নিয়া এইখানে আইছে, তারপর কইছে এইখানে থাকো। এইখানে সাইড করতে কইছে, তারপর থেইকা এইখানে আছি”। বলছিলেন ট্রাকচালক মোহাম্মদ জসিম।

বিরোধী জোটের গণতন্ত্রের অভিযাত্রার এই কর্মসূচিতে এর সমর্থক আইনজীবীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ চলছিল সকাল থেকেই সুপ্রীম কোর্টের প্রধান গেইটের সামনে। পুলিশ দফায় দফায় আইনজীবীদের উপর ঠান্ডা এবং গরম পানি ছুড়েছে। সেখানে সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করেছে পুলিশ।

তবে বিকেলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা লাঠি নিয়ে একটি মিছিল করে বিরোধী জোট সমর্থক আইনজীবীদের ধাওয়া করে সুপ্রীম কোর্ট চত্বরের ভিতরে ঢুকে যায়। সরকার সমর্থকরা বিরোধী জোট সমর্থক আইনজীবীদের হামলার পাশাপাশি আদালতে ভাঙচুর করে এবং একটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আওয়ামী লীগ সমর্থকরা আরেকটি লাঠি মিছিল থেকে প্রেসক্লাব চত্বরে বিরোধী জোট সমর্থক সাংবাদিকদের একটি সমাবেশে হামলা করে তা ভন্ডুল করে দেয়ার ঘটনা ঘটে।

এছাড়া ঢাকার মালিবাগ এলাকায় জামায়াত এবং ছাত্র শিবিরের একটি মিছিলের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সেসময় ককটেল বিস্ফোরণ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। সেখানে গুলিতে একজন নিহত ও কয়েকজন আহতও হয়েছে।