যুদ্ধবিরতিতে সম্মত দক্ষিণ সুদানের সরকার

  • ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩

দক্ষিণ সুদানে বিদ্রোহীদের সাথে চলমান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের বিষয়ে সম্মত হয়েছে সেদেশের সরকার, তবে একইসাথে তারা এই হুশিয়ারিও দিয়েছে কোন ধরনের আক্রমণ এলে তা প্রতিহত করা হবে।

আর বিদ্রোহী নেতা সরকারের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের সতর্ক জবাব দিয়েছেন।

এদিকে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন দেশটিতে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা।

অন্যদিকে, দক্ষিণ সুদানের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের অতিরিক্ত শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রথম সেনা দলটি সেদেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দক্ষিণ সুদানের সরকার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর পূর্ব আফ্রিকান নেতারা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সেইসাথে দেশটির বিদ্রোহী নেতা রিয়েক মাচারকেও একই ধরনের ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আফ্রিকান নেতারা।

দক্ষিণ সুদানের সংঘর্ষ-সহিংসতা বন্ধে দেশটির সরকার যে প্রস্তাব দিয়েছে তার জবাবে বিদ্রোহী নেতা এক সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচার বিবিসিকে বলছেন যে, “যুদ্ধবিরতি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন । এবং বিষয়টি অবশ্যই উভয়ের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। যদি কোন একজনের কাছে মনে হয় যে এটি একতরফা যুদ্ধবিরতি, তাহলে অন্য আরেকজনের কাছে এই প্রতিশ্রুতির বিষয়টি নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে”।

তবে মিঃ মাচার বিবিসিকে জানিয়েছেন সাময়িক যুদ্ধবিরতির আলোচনার স্থান এখনো ঠিক হয়নি।

আটক থাকা দুই বিরোধী রাজনীতিবিদকে সরকার মুক্তি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

তবে অভ্যুত্থানের অভিযোগে আটককৃত ১১ জন রাজনীতিবিদকে কোন শান্তি আলোচনার আগে মুক্তির দাবী জানিয়েছেন মিঃ মাচার।

এদিকে দক্ষিণ সুদানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোন লক্ষণ দেশটিতে নেই।

দক্ষিণ সুদানে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিতে সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘর্ষ চলছে।

অব্যাহত লড়াইয়ে প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলমান সহিংসতা প্রায় এক লাখ ২০ হাজারের মতো নাগরিক পালিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে আর জাতিসংঘের বিভিন্ন ঘাটিতে রয়েছে ৬৩ হাজারের মতো শরণার্থী।