সাক্ষীদের ওপর হামলায় উদ্বেগ

  • ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

আজ এক বিবৃতিতে তাঁরা জানান, সাক্ষীদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের এখনই একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজ্ঞরা বলছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে হামলাকারীরা।

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক উত্তেজনা আর সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ -এর ওই বিবৃতিতে।

সেখানে আরো বলা হয়, সাক্ষীদের খুনের ঘটনা অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে নিরুৎসাহিত করবে।

বিবৃতিতে ১০ই ডিসেম্বর আততায়ীদের হাতে নিহত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সাক্ষী মুস্তফা হাওলাদারের ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়।

মিস্টার সাঈদী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের একজন শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিবৃতিতে আরেক সাক্ষী রনজিত কুমার নাথ এর ওপর আক্রমনের ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়।

গত কয়েক মাসে বেশ ক’জন সাক্ষীর ওপর হামলা এমনকি ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও আইনজীবীদের বাসভবনে হামলার ঘটনাও ঘটে।

২৮শে অক্টোবর হামলা হয় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মাহবুবুল আলম হাওলাদার উপর, পালিয়ে থেকে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সেদিনের অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, "এত অশান্তি, এত দুশ্চিন্তা। এভাবে তো মানুষ দীর্ঘদিন এ্যামনেও বেঁচে থাকতে পারে না।"

মিঃ হাওলাদার আরো বলেন, প্রাণ ভয়ে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকায় অর্থনৈতিক চাপও অসহনীয় পর্যায়ে ঠেকেছে।

সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়টি কিভাবে দেখছে রাষ্ট্রপক্ষ?

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলছিলেন, "চারদিকে যে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে, হত্যাকারীরা সেই সুযোগটিই নিতে পেরেছে। "

মিঃ আলম জানান, যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত ও এর সমর্থকরা সুপরিকল্পিকতভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সাক্ষীদের ওপর হামলার সুযোগ নিচ্ছে।

অন্যদিকে দৃশ্যত যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট জামায়াতে ইসলামীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন -রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁদের কোন সম্পৃক্ততা নেই বরং বিচারে অভিযুক্তদের পরিবারগুলোই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষের এক সাক্ষীকে সরকারি বাহিনী উঠিয়ে নিয়ে গেছে বলেও দাবি করেন।

জামায়াতে ইসলামীও সাক্ষীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায় বলে জানান জামায়াতের ওই নেতা।