BBC navigation

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর হরতালে সহিংসতায় অন্তত ৭জন নিহত

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 15 ডিসেম্বর, 2013 10:14 GMT 16:14 বাংলাদেশ সময়

সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযান

বাংলাদেশে আজ রোববার জামায়াতে ইসলামীর হরতাল চলাকালে উত্তরাঞ্চলীয় দুটো জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে।

হরতাল সমর্থকদের সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা লালমনিরহাটে চারজন ও জয়পুরহাটে আরো দু'জন নিহত হয়েছে।

জয়পুরহাটে সংঘর্ষ হয়েছে রোববার দুপুরের পর। তার আগে সকালে সীমান্তবর্তী আরেকটি জেলা লালমনিরহাটে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে দু'জন নিহত হয়।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সংঘর্ষের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলছেন, সহিংসতায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছে।

তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন জামায়াত শিবিরের কর্মী। অন্যজন আওয়ামী লীগের।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সময় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

লক্ষ্মীপুরেও জামায়াত শিবির কর্মীদের হামলায় স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এর আগে, শনিবার মধ্যরাতে সিলেটেও আরো একজন নিহত হন।

ফাঁসির প্রতিবাদে হরতাল

সংঘর্ষ

কাদের মোল্লার ফাঁসির পর সহিংসতা চলছেই - ফাইল ফটো

বৃহস্পতিবার দলটির নেতা আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর দলটি এই কর্মসূচি দেয়।

জামায়াত বলছে, সরকারের পরিকল্পনায় মি. মোল্লাকে ‘নৃশংস ও নির্মমভাবে হত্যা’ করা হয়েছে এবং এরই প্রতিবাদে তাদের এই কর্মসূচি।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বিবিসিকে জানিয়েছেন, হরতাল সমর্থকরা গাড়িতে আগুন দেবার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবির সাথে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয় বলে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সংঘর্ষে আহত দু'জন হাসপাতালে নেবার পর তাদের মৃত্যু হয়।

পুলিশ

অনেক জায়গায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে - ফাইল ফটো

তবে তারা পুলিশের গুলিতে মারা গেছে কিনা সে বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

পুলিশ বলছে, যে জায়গাটিতে সংঘর্ষের হয়েছে সেখানে প্রতিটি হরতাল অবরোধের সময় রাস্তায় নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয় এবং গাড়ি ভাংচুর করা হয়।

পাটগ্রামের এই সহিংসতার বিষয়ে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কোন ভাষ্য পাওয়া যায়নি।

জয়পুরহাটে নিহত ২

জয়পুরহাটেও রোববার বিকেলে জামায়াত শিবিরের কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছে।

জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সদর উপজেলার হালুত্তি গ্রামে হরতাল সমর্থকরা রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়ার চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষ ঘটে এবং এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়।

তবে নিহতদের পরিচয় ও তারা গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন কীনা সেবিষয়ে মি. আলম কিছু বলতে রাজি হননি।

এই ঘটনার পর আগামীকাল ভোর পর্যন্ত জয়পুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় অভিযান

সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় গত কয়েকদিনের সহিংসতার পর আজ রোববার যৌথ বাহিনী সেখান অভিযান চালিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে অগ্নিসংযোগ

এসময় সেখান থেকে ১২জনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদদাতারা জানিয়েছেন।

রাস্তা কেটে, সড়কের ওপর গাছের গুড়ি ফেলে জেলাটিকে গত কয়েকদিন ধরেই দেশের অন্যান্য জায়গা থেকে মোটামুটি বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর অব্যাহত সহিংসতায় গতকাল শনিবারও নোয়াখালীতে ৬জন এবং নীলফামারীতে অন্তত ৫জন নিহত হয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে গতকাল দেয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য সরকার একের পর এক জামায়াত নেতৃবৃন্দকে 'হত্যা' করছে।

নীলফামারীতে ৫

সবচেয়ে বেশী হতাহতের ঘটনা ঘটেছে শনিবার, এবং এদিন উত্তরাঞ্চলীয় আরেক জেলা নীলফামারীতে আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে ১৮ দলীয় জোটের ব্যানারে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ হামলা চালায়।

এতে মিস্টার নূরের কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বহু মানুষ আহত হয়। নিহত হয়েছে অন্তত ৫ জন।

গতকাল ওই হামলার পর রাতভর পুলিশ সংশ্লিষ্ঠ গ্রামগুলোতে অভিযান চালিয়েছে।

নোয়াখালীতে ৩

শনিবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জেও ব্যাপক সহিংসতা হয়।

পুলিশের সাথে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংর্ঘর্ষের পর অন্তত তিন জন মারা গেছে বলে নিশ্চিত করছে কর্তৃপক্ষ।

সংঘর্ষ চলাকালে শহরের বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করছে পুলিশ।

এর আগে কাদের মোল্লাকে যে রাতে ফাঁসী দেয় হয় সেই রাতে সাতক্ষীরায় স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, এবং পরদিন শুক্রবার দেশজুড়ে চলা সহিংসতায় নোয়াখালীতে মারা যায় আরো একজন।

শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নাশকতার ঘটনা ঘটে এবং মতিঝিল এলাকায় বহু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻