BBC navigation

অর্থ-পাচার মামলায় খালাস তারেক রহমান

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 17 নভেম্বর, 2013 14:21 GMT 20:21 বাংলাদেশ সময়

তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুন

বাংলাদেশে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ-পাচার মামলার রায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

তবে অন্যতম অভিযুক্ত এবং মি. রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকা জরিমানার দণ্ড দেয়া হয়েছে।

রবিবার ঢাকার নিম্ন আদালতে এই রায় দেয়া হয়।

মি. রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক।

তারেক রহমান এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং তার অনুপস্থিতিতেই মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলে আসছিল।

আদালত বলেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাশ দেওয়া হলো।

রায় ঘোষণার সাথে সাথেই এজলা উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা উল্লাস শুরু করে এবং আদালত প্রাঙ্গনে তাদেরকে আনন্দমিছিলও করতে দেখা যায়।

তবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ।

খন্দকার মাহবুব হোসেন

খন্দকার মাহবুব হোসেন

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোন মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতের এজলাস এবং এজলাসের বাইরের করিডোর ছিল জনাকীর্ন।

"রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল- এই রায়ে প্রমাণ হয়েছে তারেক রহমান বাংলাদেশ থেকে একটি পয়সাও বিদেশে পাঠায় নি।"

খোন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবী

১২ টার কিছু আগে বিচারক মো. মোতাহার হোসেন এজলাসে উপস্থিত হয়ে রায় ঘোষণা শুরু করেন।

সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের অভিযোগে তারেক রহমান এবং তার বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল। বিচারক তার রায়ে প্রথমেই জানান, মি. মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং আদালত তাকে ৭ বছরের কারাদন্ড এবং ৪০ কোটি টাকার অর্থদন্ডে দন্ডিত করে। এর কিছুক্ষন পরই আদালত ঘোষণা করে যে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তাকে বেকসুর খালাশ দেওয়া হয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবী খোন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তারেক রহমানের রায়ে তারা সন্তুষ্ট।

''রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল- এই রায়ে প্রমাণ হয়েছে তারেক রহমান বাংলাদেশ থেকে একটি পয়সাও বিদেশে পাঠায় নি। আদালত ন্যায় বিচার করে তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।''

তবে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান মি. হোসেন।

২০০৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক এ মামলাটি দায়ের করে। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, একটি পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের কাজ দেওয়ার কথা বলে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ কোটি টাকা্রও বেশি অর্থ নেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। যে অর্থ লেনদেন হয় সিঙ্গাপুরে এবং সেখানেই মি. মামুনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমা রাখা হয়।

ঐ অর্থ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা তারেক রহমান খরচ করেছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছিল। কিন্তু মি. রহমানের বিরুদ্ধ এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে জানায় আদালত।

আনিসুল হক

আনিসুল হক

রায় প্রদানের সময় মি. মামুন আদালতে উপস্থিত থাকলেও তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। যার ফলে মামলাটিতে তাকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়।

"বিচারক যেভাবে রায় দিয়েছেন তা খন্ডিত। আমরা মামলার প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে কীভাবে খালাস দেওয়া হল।"

আনিসুল হক, দুদকের আইনজীবী

মি. রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল। আর মি. মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০০৭ সালে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই আদালতের আওয়ামীলীগপন্থী আইনজীবীদের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুদকের আইনজীবীদের ‘দালাল’ সম্বোধন করে তারা শ্লোগান দিতে থাকেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী আনিসুল হক বলেন, রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, তবে পূর্ণাঙ্গ রায় পাবার আগে তারা কোন মন্তব্য করতে চান না।

''বিচারক যেভাবে রায় দিয়েছেন তা খন্ডিত। আমরা মামলার প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে কীভাবে খালাস দেওয়া হল।''

আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভের মুখে কথা শেষ না করেই স্থান ত্যাগ করেন আইনজীবী মি. হক।

পলাতক থাকার কারণে এ মামলায় তারেক রহমানের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিল না।

মামলায় দুদকের পক্ষে ১৩ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের একজন বিশেষ এজেন্টও রয়েছেন।

গিয়াসউদ্দিন মামুনের একজন আইনজীবী মাসুদ তালুকদার বলছিলেন, মি. মামুন যেহেতু প্রায় ৭ বছর কারাগারে রয়েছেন, সেই হিসেবে তার সাজা কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবার কথা।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে মোট ১৪ টি মামলা দায়ের করা হয়। যার মধ্যে দশটি বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

অর্থপাচারের মামলাটি ছাড়া তিনটি মামলার বিচারকাজ এখন চলছে। এসব মামলার মধ্যে আছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুর্নীতি মামলা এবং ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলায় সম্পৃক্ততার মামলা।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻