বাংলাদেশে বিদেশী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক

ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

বাংলাদেশের নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে সংকটের সমাধান খুঁজতে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বৈঠক করেছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনুস-এর সাথেও।

তবে কূটনীতিকদের এসব তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন কূটনীতিকদের উদ্যোগের কোন প্রয়োজন নেই। আবার কেউ কেউ বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতাকে বিবেচনা করছেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের প্রয়াস হিসেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল এমন এক সময় ঢাকায় আসলেন যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বিদেশী কুটনীতিকদের তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কয়েকজন বিদেশী রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ও তৎপরতা নিয়েও।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কূটনীতিকদের উদ্যোগের কোন প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, “কূটনীতিকদের সঙ্গে ওঠাবসা যাতায়াত দৈনন্দিন ব্রিফিং এসব হচ্ছে বিএনপি অফিসেই। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলা হয় তিনি বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হয়ে গেছেন। আমরা প্রশ্রয় দিচ্ছিনা। অনেক বড় কূটনীতিক এসে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পাননি। তাদের বোঝানো উচিত যে তাদের কথাই শেষ কথা নয়।”

আজ রোববার ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে মিঃ ইমাম আরও অভিযোগ করেন বিদেশী কূটনীতিকদের বিরোধী দল বিএনপিই প্রশ্নয় দিচ্ছে।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের প্যানেল

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ। তিনি বলেন বিদেশীদের এধরনের তৎপরতা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে তিনি বলেন রাজনীতিকরা বিদেশীদের প্রশ্রয় না দিয়ে নিজেরাই সংকট সমাধান করাটাই হবে সর্বোত্তম পন্থা।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট হলে বিদেশী শক্তি নাক গলানোর চেষ্টা করে। বিদেশীরা কেন নাক গলায় ? কোন অধিকারে নাক গলায় ? সরকার যদি উদ্যোগ না নেয় তাহলে এ সংকটের সমাধান আপাতত হবে বলে মনে হয়না।”

এ প্রসঙ্গে একজন দর্শক বলেন, “দূতিয়ালির সুযোগ তো আমরাই করে দিচ্ছি। বড় দলগুলো একমত হলেই তো এ ধরনের সুযোগ তারা পায়না।”

আরেকজন প্যানেল আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জিনাত হুদা ওয়াহিদ বলেন এর আগে কূটনীতিকরা মাইনাস টু ফর্মুলা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছে। এবারেও পরিস্থিতি অনেকটা সেদিকেই যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“নির্বাচনকে ঘিরে যে অস্থিরতা, সংলাপ হওয়া বা না হওয়া, হরতাল, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মানুষের মৃত্যু- তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদেশী কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ। এক ধরনের দদাগিরি দেখতে পাচ্ছি।”

তবে প্যানেলিস্ট ইংরেজি দৈনিক নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ অবশ্য বলেন বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে অন্য কারো আলোচনা করা দুর্ভাগ্যজনক।

তিনি বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার যে বিবৃতি দিয়েছেন যে তারা বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলছেন সেটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ।

“আমরা যদি নির্বাচন নিয়ে একটা পথ বের করতে না পারি তাহলে এ ধরনের হস্তক্ষেপ আরও হবে।”

সংলাপের এ পর্বে হরতালের সময় রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য পরস্পরকেই দোষারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং বিএনপি নেতা হান্নান শাহ। তবে মিঃ শাহ অবশ্য বলেন কাউকে অনড় অবস্থা থেকে নড়াতে কোন কোন ক্ষেত্রে একটু শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।