সঙ্কট নিরসনে দুদলেরই পরস্পরকে উদ্যোগী হতে আহ্বান

  • ৬ নভেম্বর ২০১৩
বিএনপি হরতাল
বিএনপির হরতাল

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আদৌ কোন সমঝোতার কোন লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছেনা।

এনিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর মধ্যে কোন সংলাপ আদৌ হবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত হলেও একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার দিকেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

বিরোধী দল বলছে, সংকট নিরসনে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে এবং দাবি আদায়ে আগামীতে আরও কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ।

সরকার বলছে সমাধান হতে হবে সংবিধানের মধ্যে থেকেই।

দ্বিতীয় দফায় টানা ৬০ ঘন্টার হরতাল শেষে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে বলছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।

বিএনপি মনে করছে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করে সবার অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করার সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

টানা হরতালের শেষ দিনে আজ বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন সংলাপের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত তারা আশাবাদী।

“সরকার রাজী থাকলে আমরা আলোচনা করবো। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হতে পারে। আমরা এখনও আশাবাদী। তবে সরকার যদি না চান যে তারা সমঝোতা করবেন না তার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা কয়েকদিন ধরে বলছেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রীরা পদত্যাগ শুরু করবেন এবং এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলছেন সংলাপ ও আন্দোলন একই রাজপথে চলবেনা। আন্দোলন ছেড়ে বিএনপি সরকারকে জানাতে পারে কোথায় কীভাবে তারা আলোচনায় বসতে চায়।

“যদি তারা (বিরোধী দল) সর্বদলীয় সরকারে সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল দল হিসেবে তাদের নাম দেন, তাহলে কোন্‌ মন্ত্রণালয় চান সেটাও তারা দিতে পারেন। তারা আলোচনা চাইলে সংসদ বা এর বাইরে আলোচনা হতে পারে।”

সরকার সংলাপের আর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করবে কীনা জানতে চাইলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “উদ্যোগ তো নেওয়া হয়েছে। আলোচনার পথ তো খোলা আছে। এখন বল তো তাদের কোর্টে। তাদেরকেই আসতে হবে।”

এদিকে টানা হরতাল শেষে নতুন করে কোন কর্মসুচি ঘোষণা করে নি বিএনপি।

তবে দলটি অভিযোগ করছে নির্বাচন নিয়ে সরকার বিরোধী দল ও জনগনের সাথে একটি লুকোচুরি খেলছে। মিঃ আলমগীর বলেন নির্বাচন তফসিল, নির্বাচন সরকারের কাঠামো এবং সংসদ কতদিন থাকবে এসব বিষয় পরিস্কার না করে 'জনগনকে ধোঁকা দিয়ে' সরকার কোনভাবে একটি একদলীয় নির্বাচন করতে চায়।

তিনি বলেন, “পুরো জাতিকে একটা ধূম্রজালে রেখেছে সরকার। একবার বলছেন ছোট ক্যাবিনেট, আবার বলছেন সর্বদলীয়। এটা পরিস্কার নয়, অস্পষ্ট। সমস্যা সমাধান নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। এখন সরকার যদি নিজস্ব চিন্তায় এগিয়ে যায় তাহলে আমাদেরও রাজপথ ছাড়া বিকল্প থাকবে না।”

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে বিরোধী দল কীভাবে অংশ নিতে চায় সেটি তারা যে কোন সময়ই বলতে পারে।

“নির্বাচন কমিশন আইনের আওতায় যখন ইচ্ছে তফসিল দেবে। আমরাও সেজন্য অপেক্ষায় আছি। তবে সংবিধানকেই অনুসরণ করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই,” তিনি বলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে নির্দলীয় নয় এমন কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন তারা হতে দেবে না।

ওদিকে আওয়ামী লীগ বলছে সংবিধানের মধ্যে থেকেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দু পক্ষ থেকেই সংকট নিরসনে সংলাপের ওপর জোর দেওয়া হলেও দু দফায় বিরোধী জোটের ৬০ ঘন্টা হরতাল কর্মসুচি পালন ও সরকারের নানা ধরনের বক্তব্য থেকে এখনও সংলাপের কোন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে না।