পিলখানা হত্যাকান্ডের রায়ে সন্তুষ্টে নিহতদের স্বজনরা

  • ৫ নভেম্বর ২০১৩

বিডিআর বিদ্রোহের সময় নিহত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা পিলখানা হত্যাকান্ডের মামলায় আদালতের দেয়া রায়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর পিলখানার ভেতরে যাদেরকে হত্যা করা হয় তাদের বেশিরভাগই ছিলেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা।

হত্যার পর তাদের মৃতদেহ ঢাকার পিলখানার ভেতরে একসাথে মাটিতে চাপা দেওয়া হয়। কারো কারো মৃতদেহ ছুড়ে ফেলা হয় ড্রেনে।

নিহত এইসব সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনেরা আজ রায়ের পর বলেছেন, ওই মর্মান্তিক ঘটনার যে বিচার হয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট। কিন্তু তারা এখন দেখতে চান যে এই রায় কার্যকর হয়েছে।

বিদ্রোহের ঘটনায় নিহত মেজর আসাদের মা মিসেস রাজিয়া জামান ছেলের কথা বলতে যেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মেজর আসাদ ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে।

মিসেস জামান বলছিলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পর থেকে রায়ের এই দিনটির অপেক্ষাতেই যেন ছিলেন তিনি। “কিছুটা হলেওতো মনে একটু শান্তি লাগলো এতদিন অপেক্ষার পরে রায়টা হয়েছে। দেখলাম, জানলাম। কতদূর রায়টা কার্যকর হবে, কবে হবে সেইটাই কথা।”

ঐ বিদ্রোহের ঘটনায় নিহত সেনা কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ সালেহর ভাই মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, এমন একটি ঘটনার বিচার হওয়াতে তিনি সন্তুষ্ট হলেও ভাই হারানোর কষ্ট তার কখনোই দূর হবেনা।

“এই পরিস্থিতিতে যাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ মানুষ মারা গেছে রায়টা তখন আর গুরুত্বপূর্ণ থাকে না। তবু আমি খুশি যে একটা বিচার হলো, রায় হলো। আমাদের দেশে যত ঘটনা ঘটে আমরা সবসময় দেখছি যে যারা ঘটনার শিকার হয় তারা সারাজীবন বিচারের অপেক্ষায় থেকে যায়, সেটার জন্য মানুষ খুবই নিরুপায়। আমরা যা হারিয়েছি তাতো আমরা আর ফিরে পাবোনা। যাই হোক রায়টি যে হলো ভালো লাগছে”।

অনেকটা একই ধরনের মন্তব্য করেন নিহত কর্ণেল মুজিবুল হকের স্ত্রী নেহরিন ফেরদৌস। রায় ঘোষণার পর তিনি বলেন, মর্মান্তিক ওই ঘটনার যে রায় আজ প্রকাশ হলো তার দ্রুত কার্যকর তারা দেখতে চান।

তবে রায় প্রসঙ্গে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ঘটনায় নিহতদের স্বজনেরা।

এদের বাইরেও আরো বেশ কয়েকটি পরিবারের সাথে বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা এ প্রসঙ্গে কোন কথা বলতেই রাজি হননি।