সংসদে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেছে বিএনপি

সংসদে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেছে বিএনপি

বাংলাদেশে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি আজ বুধবার সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য এক নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেছে।

এর আগে কার্য উপদেষ্টা কমিটির এক বৈঠকে সংসদের চলতি অধিবেশন ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলেছে, অধিবেশনের সময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংবিধানে কোন বাধা নেই। তবে ২৪শে অক্টোবরের পরও সংসদ অধিবেশন চালিয়ে যাবার সমালোচনা করেছে বিএনপি।

এক পর্যায়ে সরকারি দলের এক নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

নির্দলীয় সরকারের দাবির সমর্থনে বিএনপি তাদের রূপরেখা বা প্রস্তাব এখন সংসদে তুলে ধরলো।

দু’দিন আগেই সংবাদ সম্মেলন করে দলটির চেয়ারপারসন, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ঐ রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন। তবে খালেদা জিয়া সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না।

বুধবার সন্ধ্যায় সিনিয়র নেতা জমিরউদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে বিএনপির সংসদ সদস্যরা এক অধিবেশনে যোগ দেন।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতা জমিরউদ্দিন সরকার তাঁদের দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রস্তাবটি তুলে ধরে বলেন,

''বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিরেধী দলীয় সংসদ সদস্যদের পক্ষে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করছি।''

তিনি বলেন এই প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২০জন উপদেষ্টার মধ্যে থেকে বর্তমান সরকারি দল ৫ জন এবং বিরোধী দল ৫ জন সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন, যারা আসন্ন নির্বাচনকালীন সরকারের উপদেষ্টা হবেন।

''মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনার কার্যকর উদ্যোগ নেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।''

বিএনপির পক্ষ থেকে দীর্ঘসময় পর সংসদে যোগ দিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে প্রস্তাব তুলে ধরা হলো। কিন্তু প্রস্তাবটি কোন নোটিশের মাধ্যমে উত্থাপন করা হয়নি।

অধিবেশনেই এর সমালোচনা করে সরকারি দলের সদস্যরা বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি মেনে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা উচিত ছিল বলে তাঁরা মনে করেন।

''এই প্রস্তাবটি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তারা সংসদে যে কোনো কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে দেন, তাহলে একটা তারিখ নির্ধারণ করে এর উপর আমরা আলোচনা করতে পারি,'' বলেন তোফায়েল আহমেদ।

তবে প্রস্তাব তুলে ধরার কিছুক্ষণ পরেই আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্যদের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে বিএনপির সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামল এবং সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।

বিএনপির প্রস্তাব প্রসঙ্গে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে।

''সংবিধানের বাইরে আমরা এক ইঞ্চিও সরতে পারি না। সংবিধানের বাইরে গিয়ে আমরা সংবিধানে শূণ্যতা সৃষ্টি করতে চাইব না। নির্বাচন নিয়ে আর কোনো টালবাহানা করতে দেওয়া হবে না।''

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন বাংলার জনগণ নির্বাচন করবে এবং আপনারা নির্বাচন যদি না করেন আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

এই প্রস্তাব নিয়ে আওয়মী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতা সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে তাঁরা কার্যত ঐ প্রস্তাব নাকচ করেছেন।

অবশ্য বিধান অনুযায়ী এতে ভোটাভুটির সুযোগ ছিল না।