আলোচনার লক্ষ্যে বিএনপি-আওয়ামী লীগ যোগাযোগ

  • ২২ অক্টোবর ২০১৩
আওয়ামী লীগের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাছে চিঠি দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে এই চিঠি পাঠান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলেন, “গতকাল বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেই প্রস্তাবের আলোকে সরকারি দলের উচিত হবে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। সেই উদ্দেশ্যেই আমরা চিঠিটা দিয়েছি।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চিঠি পাওয়ার পর আবার বিএনপি মহাসচিবকে ফোন করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসময় এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন।

নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিরোধ মীমাংসার জন্য বড় দুই দলের নেতাদের মধ্যে এই দফায় এটিই এ ধরণের প্রথম সরাসরি যোগাযোগ।

কিন্তু এসবের পরও সরকার আসলেই আলোচনার ব্যাপারে কতোটা আন্তরিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি অভিযোগ করেন যে সরকার একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে জেলে ভরছে।

“সরকার এবং পুলিশ বাহিনীর যে আচরণ তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কোন সামঞ্জস্য নেই। প্রধানমন্ত্রী একদিকে সমঝোতার কথা বলছেন, আলোচনার কথা বলছেন। অন্যদিকে তিনি আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করাচ্ছেন পুলিশকে দিয়ে।”

তিনি অভিযোগ করেন যে আলোচনার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেটাকে নষ্ট করার জন্য তারা কাজ করছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, ২৫শে অক্টোবর ঢাকায় তারা যে বড় জনসভার পরিকল্পনা করছেন, তা এখনো বহাল আছে।

ঢাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরণের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে পুলিশ যে নির্দেশ জারি করেছে, সেটি তুলে নেয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে আওয়ামী লীগ আগামীকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দেবে বলে জানা যাচ্ছে।

কিন্তু দু দলের মাঝে মতের ব্যাপক দূরত্ব নিয়ে আলোচনার টেবিলে আদৌ কে কতটা ছাড় দেবে সে নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, “খালেদা জিয়া যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা তাঁর পূর্বে করা তত্ববধায়ক সরকারের দাবিরই পুনরাবৃত্তি। যেটা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। যেটা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন “প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে নিয়ে কোন ছাড়ের প্রশ্নই নেই।”